ধানের শীষে ভোট চাইতে মাঠে শামারুহ মির্জা, ছুটছেন গ্রামেগঞ্জে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জমে উঠেছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটের মাঠ। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জীবনের শেষ নির্বাচনী লড়াইয়ে দিন-রাত এক করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তার বড় মেয়ে, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী চিকিৎসা বিজ্ঞানী শামারুহ মির্জা।
বিজ্ঞাপন
বাবার পক্ষে ভোট প্রত্যাশায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা, গ্রামীণ উঠান—কোথাও বাদ রাখছেন না। সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তুলে ধরছেন বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে তার অবিচল ভূমিকার কথা।
নির্বাচনী প্রচারণায় কখনো পথসভা, কখনো ঘরোয়া বৈঠকে শামারুহ মির্জা ভোটারদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছেন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার। প্রচণ্ড রোদ, ধুলোবালি কিংবা দীর্ঘ পথ—কোনো কিছুই তার প্রচারণার গতি থামাতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রবাসী পেশাজীবী হয়েও সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে এভাবে ভোট চাওয়া এলাকায় নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
ভোটারদের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চেনেন তারা। তবে তার মেয়েকে মাঠে নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে দেখে বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
একজন ভোটার বলেন, রোদ-ধুলোয় হেঁটে মানুষের কথা শোনা রাজনীতিতে এখন বিরল। শামারুহ মির্জার মধ্যে সেই আন্তরিকতাই দেখছি।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও মনে করছেন, শামারুহ মির্জার সক্রিয় উপস্থিতি তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।

আকচা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম বলেন, রাজনীতি যখন অনেক ক্ষেত্রে কেবল সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ, তখন মাঠে নেমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়। শামারুহ মির্জার উপস্থিতি কর্মীদের নতুন করে সংগঠিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, তার মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গুণাবলি স্পষ্ট। তিনি পরিচয়ের রাজনীতি নয়, দায়িত্বের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। দলের মহাসচিবের সততা ও আদর্শিক দৃঢ়তার প্রতিফলন আমরা তার মধ্যেও দেখতে পাচ্ছি।
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় আদনান ও সাধারণ সম্পাদক আসিফসহ ছাত্রনেতারাও বলেন, শামারুহ মির্জার মাঠভিত্তিক ভূমিকা তরুণ সমাজকে নতুনভাবে নাড়া দিয়েছে। রাজনীতির আসল শক্তি মানুষের সঙ্গে সংযোগ—এ কথাই তিনি হাতে-কলমে দেখাচ্ছেন। তরুণদের স্বপ্ন ও সংকট বোঝার চেষ্টা তার নেতৃত্বের বড় বৈশিষ্ট্য।
বিজ্ঞাপন
জেলার একাধিক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শামারুহ মির্জা এখন আর কেবল সম্ভাবনার নাম নন, তিনি মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। তার বিনয়ী আচরণ, দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থান এবং তৃণমূলের কথা শোনার মানসিকতা তাকে আলাদা করেছে।
সম্প্রতি এক খোলা নির্বাচনী বৈঠকে শামারুহ মির্জা বলেন, তিনি নিয়মিত রাজনীতির মানুষ নন। একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসেবে তার কর্মজীবন দেশের বাইরে। তবে একজন সচেতন নাগরিক এবং একজন সন্তানের দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি মাঠে নেমেছেন।

তিনি বলেন, বাবার আজীবনের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, মানুষের অধিকারের প্রশ্নে কারাবরণ এবং ত্যাগের ইতিহাস জনগণের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। আজ আমি একজন সন্তানের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাতে এসেছি—আরেকবার ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের মতে, শামারুহ মির্জার এই নিরলস প্রচেষ্টা শুধু নির্বাচনী প্রচারণাকেই শক্তিশালী করেনি, সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন আশার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।








