ক্ষমতায় এলে কওমি শিক্ষায় পরিমার্জনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় গেলে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যক্রম পরিমার্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদলে সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, সরকার গঠন করতে পারলে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি করা হবে। একই সঙ্গে কওমি শিক্ষার সিলেবাস সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে।
বিজ্ঞাপন
নারী শিক্ষার প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ঘোষিত ইশতেহারে। এতে উল্লেখ করা হয়, জামায়াত ক্ষমতায় এলে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধ, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং শিক্ষাক্রম আধুনিকায়নের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
ইশতেহারে আরও জানানো হয়, স্নাতক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় আর্থিক বাধা দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের ঘোষিত ইশতেহারে সরকার পরিচালনার জন্য মোট ২৬টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম অংশে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বৈষম্যহীন, মানবিক ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশে আত্মনির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে নেতৃত্বে রেখে প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নের রূপরেখাও ইশতেহারের বিভিন্ন অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সমাজকল্যাণ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে ইশতেহারটি শেষ করা হয়।








