কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক প্রভাবে জামায়াতের উদ্বেগ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিজ্ঞাপন
জামায়াত উল্লেখ করেছে, নতুন গভর্নর সম্প্রতি বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। ইতোমধ্যে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা স্বার্থের সংঘাত এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যে ব্যক্তি ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে বসানো হলে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াই স্বাভাবিক।
জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক নয়; এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ, যার ওপর নির্ভর করে মুদ্রানীতি স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আস্থা প্রতিষ্ঠা। জুলাইয়ে গণআন্দোলনের পর যখন মানুষ কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিল, তখন যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। কোটাভিত্তিক আন্দোলন কেবল কোটার বিষয় ছিল না; এটি ছিল মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের দাবি। কিন্তু নতুন গভর্নর নিয়োগ সেই প্রত্যাশার পুরোপুরি বিপরীত বার্তা দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে বসানো হলো, যার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকা (সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছিল নিয়োগের অল্প সময় আগে। তিনি আবার বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যও ছিলেন। ইতোমধ্যে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের আসনে বসানো হলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শক্তিশালী, স্বাধীন ও দক্ষ নেতৃত্ব ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ নেওয়া, মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করা সিদ্ধান্ত দেশীয় আস্থা ক্ষুণ্ণ করবে এবং আন্তর্জাতিক আস্থাতেও সংকট তৈরি করবে। যিনি একটি মাঝারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তিনি কীভাবে পুরো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন—এই প্রশ্নই আজ উঠছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমান পরিস্থিতিতে, যখন দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পেশাদারিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব, তখন এই নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার অবসানের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।








