বিএনপির পদ ছাড়লেন হাফিজ উদ্দিন ও কায়সার কামাল

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিএনপির দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই দুই নেতা যথাক্রমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তারা দলীয় পদ ছেড়ে দেন।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের পদগুলো সাংবিধানিক ও নির্দলীয় হিসেবে বিবেচিত। এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পদ বা দায়িত্বে থাকতে পারেন না।
বিজ্ঞাপন
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন না। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়।
এছাড়া সংবিধানের ৭৪ ও ৭৫ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হলেও সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে এবং দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এই সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদসহ দলের সব স্তরের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর কায়সার কামাল বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।
বিজ্ঞাপন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় তিনি নিরপেক্ষভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে চান। সেই কারণে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
একই ধরনের কারণ উল্লেখ করে নিজের পদত্যাগপত্রে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও জানান, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই তিনি দলের আইন বিষয়ক সম্পাদকের পদ ছেড়েছেন।








