Logo

আ.লীগ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে নাম কেটে দিয়েছে, ফিরে পাব কি?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ মার্চ, ২০২৬, ১৭:৩৭
আ.লীগ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে নাম কেটে দিয়েছে, ফিরে পাব কি?
ছবি: সংগৃহীত

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যে স্বীকৃতি একসময় ছিল, সেটি তিনি পুনরায় ফিরে পাবেন কি না।

সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৬ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমার নামটা তারা মুক্তিযোদ্ধাদের খাতা থেকে নামটা কেটে দিয়েছিল। আজ পর্যন্ত আমি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছি। মুক্তিযোদ্ধার গৌরব থেকে আমি বঞ্চিত।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যে সম্মান ও গৌরব পাওয়ার কথা, তা থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। তার দাবি, স্থানীয় মানুষ তাকে এখনও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই জানেন। এমনকি সংসদের স্পিকারও বিষয়টি জানেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গাজী নজরুল ইসলাম সংসদে জানান, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি মেজর জলিলের নেতৃত্বে ৯ নম্বর সেক্টরে অংশ নিয়েছিলেন। সেই অবদানের স্বীকৃতি তিনি আবার ফিরে পেতে চান। তার কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে বলেও জানান তিনি। সুযোগ পেলে সেসব কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উপস্থাপন করবেন বলে সংসদে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়, তার মতো আরও অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা বিভিন্ন সময়ে নিগ্রহ বা হয়রানির শিকার হয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তাদেরও পুনরায় তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নও তিনি মন্ত্রীর কাছে রাখেন।

বিজ্ঞাপন

জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের কাছে থাকা নথিপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হলে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা বিরোধী রাজনৈতিক দলে ছিলেন, তাদের অনেকের মুক্তিযুদ্ধের সনদ নিয়ে নানা ধরনের হয়রানি করা হয়েছে এবং তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের বিষয়টি মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। গাজী নজরুল ইসলামের কাগজপত্র পরীক্ষা করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অন্য যেসব ব্যক্তি একই ধরনের অভিযোগের শিকার হয়েছেন, তাদের বিষয়েও তদন্ত ও যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD