নখের কালি না শুকাতেই জুলাই সনদ ভুলিয়ে দিতে বসেছি: এমপি মাসুদ

নির্বাচনের পরপরই উন্নয়নের নানা কর্মসূচির আড়ালে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টি আড়ালে চলে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মূলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
বক্তব্যের শুরুতে একটি গল্পের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন ড. মাসুদ। তিনি বলেন, জরুরি বিষয়কে অগ্রাধিকার না দিয়ে নিয়ম-কানুনের খুঁটিনাটিতে আটকে গেলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় না।
বিজ্ঞাপন
বর্তমান পরিস্থিতিকে সেই গল্পের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের কথা বলে যেমন নির্বাচন থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানো হয়েছিল, তেমনি সাম্প্রতিক সময়েও উন্নয়ন ইস্যুকে সামনে এনে সংস্কারের মূল বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটগ্রহণের পরপরই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি যেন ভুলে যাওয়া হচ্ছে। নখের কালি শুকাতে না শুকাতেই উন্নয়নের কথা বলে আমরা আবার জুলাই সনদটাকে ভুলিয়ে দিতে বসেছি।
ড. মাসুদ বলেন, নির্বাচনে যেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছে, সেখানে ৫১ শতাংশ সমর্থনের ভিত্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে করে জনগণকে মূল দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কিনা—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্ম রাস্তায় নেমেছিল রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে, কোনো সামান্য সংশোধনের জন্য নয়। অথচ এখন সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দলীয় প্রভাবের অভিযোগও তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সমন্বিত অংশগ্রহণের পরিবর্তে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে ‘সবাই মিলে বাংলাদেশ’ ধারণা বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এ সময় তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সংসদে যারা এখন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের মাধ্যমেই তো সদস্যরা নির্বাচিত ও শপথ গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানান তিনি।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা জরুরি ছিল। কিন্তু সেই অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্যান্য খাতে গুরুত্ব দেওয়ায় মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে উন্নয়ন ও সংস্কারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।








