Logo

জামায়াত জেনারেশন হয়েন না, জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন: পার্থ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ মার্চ, ২০২৬, ২১:৪১
জামায়াত জেনারেশন হয়েন না, জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন: পার্থ
ছবি: সংগৃহীত

তরুণ প্রজন্মকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে নেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনারা জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়েন না।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিধি-৬২ এর আওতায় উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল ও ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন। বিরোধীদলীয় নেতাদের বক্তব্যে আবেগ থাকলেও শুরু থেকেই একটি পক্ষকে জুলাই আন্দোলনের বিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এটি রাজনৈতিকভাবে একটি পরিকল্পিত অবস্থান তৈরি করার ইঙ্গিত দেয়।

বিজ্ঞাপন

সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে পার্থ বলেন, যদি সত্যিই বিপ্লবী পরিবর্তনের লক্ষ্য থাকত, তাহলে তখনই একটি বিপ্লবী বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেত। পুরনো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই থেকে সেটিকে অকার্যকর করার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, একটি বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে সেটিকে বাতিল করার উদ্যোগ যুক্তিসঙ্গত নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিন্নমত প্রকাশ করলেই তাকে জুলাই আন্দোলনের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটি তাকে অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে যেকোনো সমালোচনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে মূল ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া হতো।

জুলাই আন্দোলনের অবদান প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, এটি কোনো একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ও ব্যক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি একটি রূপক উদাহরণ দিয়ে বলেন, শেষ মুহূর্তে সাফল্য এলেও তার পেছনে দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম ও সংগ্রাম জড়িয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে বহু নেতাকর্মী নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন এবং জীবন দিয়েছেন। নির্দিষ্ট কয়েকজন শহীদের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আন্দোলনে কারও অবদান কম নয়; সবাই মিলে এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

গণভোট প্রসঙ্গেও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একসঙ্গে ভোটে উপস্থাপন করলে ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। কোনো ভোটার যদি সব বিষয়ে একমত না হন, তাহলে তার সামনে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

পার্থ প্রশ্ন রাখেন, কেন সব বিষয় গণভোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং কেন ভোটারদের জন্য আলাদা আলাদা মত প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়নি। তার মতে, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও বিকল্প থাকা প্রয়োজন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD