শ্রমিক দিবসে জনসমুদ্রের সমাবেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় বৃহৎ শ্রমিক সমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। শুক্রবার (১ মে) দুপুর ২টা থেকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সমাবেশকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে, স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক দফায় সমন্বয় বৈঠক হয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই সমাবেশে অংশ নিতে ঢাকা মহানগরসহ আশপাশের জেলার শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আয়োজকদের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। এ সময় বিকল্প সড়ক ব্যবহারের জন্য যানবাহন চালকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি সেবার যান, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তামূলক ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেট সুবিধা।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সদস্য সচিব মো. বদরুল আলম সবুজ বলেন, সমাবেশ সফল করতে গত দুই সপ্তাহ ধরে জোর প্রস্তুতি চলছে। আমরা আশা করছি, এবারের সমাবেশে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেবেন।
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান শ্রমিক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। তিনি উল্লেখ করেন, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই দিবসের সূচনা হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দেশের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং শিল্প খাতে অস্থিরতার কারণে তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের একটি বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়ছে।
নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অস্থিরতাও শ্রমজীবী মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর যথাযথ হালনাগাদ না হওয়া এবং আউটসোর্সিং নির্ভর নিয়োগ বৃদ্ধির ফলে শ্রমবাজার আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধিতেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।








