Logo

আমিও শিশু মুক্তিযোদ্ধা: সংসদে জামায়াত নেতা তাহের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:৪২
আমিও শিশু মুক্তিযোদ্ধা: সংসদে জামায়াত নেতা তাহের
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করেছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. তাহের বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনায় রাজাকার-আলবদর প্রসঙ্গ বারবার সামনে আনা হলেও এটি এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়।

তিনি বলেন, আজও রাজাকার-আলবদরের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এটি এখন মৃত ইস্যু। কারণ, আজ আমরা যারা এখানে বসে আছি, তাদের কেউ রাজাকার ছিল না, কেউ আলবদরও ছিল না।

বিজ্ঞাপন

জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা এখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আছি। মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ যদি সে অর্থে তোলা হয়, তাহলে আমিও একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা।

ডা. তাহের তার বক্তব্যে দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের বাড়ি হওয়ায় যুদ্ধকালীন বাস্তবতায় তিনি ও তার পরিবার সরাসরি নানা মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, তাদের বাড়ি সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় যুদ্ধের সময় যারা ভারত অভিমুখে যেতেন, তারা প্রথমে তাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিতেন। বাড়ির উঠান ও আশপাশের জায়গায় অবস্থান করে তারা কিছুটা বিশ্রাম নিতেন, এরপর নিরাপদে সীমান্ত পার হওয়ার প্রস্তুতি নিতেন।

বিজ্ঞাপন

তাহেরের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তারা আশ্রয়প্রার্থীদের খাবার দিতেন এবং আশপাশে সেনাবাহিনীর টহল আছে কি না, সেটিও নজরদারি করতেন। পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার পথও দেখিয়ে দিতেন।

সংসদে তিনি বলেন, আমরা তাদের হালকা খাবার দিতাম, দেখতাম সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে কি না। টহল না থাকলে তাদের সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যেতে সহায়তা করতাম।

বিজ্ঞাপন

এ ধরনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ডা. তাহের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কাউকে একতরফাভাবে অভিযুক্ত করা বা রাজনৈতিকভাবে দোষারোপ করার যৌক্তিকতা নেই।

তার এই বক্তব্য সংসদে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতার মুখে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD