Logo

হামে প্রতিটি শিশু মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে: ফুয়াদ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে, ২০২৬, ২০:৫৪
হামে প্রতিটি শিশু মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে: ফুয়াদ
ছবি: সংগৃহীত

দেশে বাড়তে থাকা হামের সংক্রমণকে কেন্দ্র করে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদলীয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জরুরি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক হামের বিস্তার, টিকাদান পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং জনসচেতনতা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হামে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন নিজেদের অসহায় মনে না করে, সেজন্য রাষ্ট্রকে মানবিকভাবে পাশে দাঁড়াতে হবে। যেসব পরিবার তাদের সন্তান হারিয়েছে, তাদের কাছে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা দৃশ্যমান হওয়া জরুরি। প্রতিটি ছোট্ট শিশুর মৃত্যুকে শুধু পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে চলবে না।

বিজ্ঞাপন

তিনি অভিযোগ করেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তার ভাষায়, এই সংকটকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপের উপকরণে পরিণত না করে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে হামের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সংক্রমণ বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যেও সেই প্রবণতার প্রতিফলন রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় শহরকেন্দ্রিক উচ্চবিত্ত ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে হামের সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুরা। অপুষ্টি, ভিটামিনের ঘাটতি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, কেন মূলত দরিদ্র পরিবারের শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এবি পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামের বিস্তার কেবল স্বাভাবিক সংক্রমণের ফল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিকভাবে তদন্ত করা উচিত। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ের টিকাদান কার্যক্রমে অদক্ষতা কিংবা পরিকল্পিত অবহেলা—সবকিছু খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়।

দলটির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলন, তথ্য আপলোডে অনিয়ম এবং মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় টিকাদানের কাভারেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার ৯০ শতাংশের বেশি টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকারের প্রকাশিত টিকাদান কাভারেজ তথ্য এবং পরবর্তী মূল্যায়ন জরিপের মধ্যে বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে। অতীতে অতিরঞ্জিত সরকারি তথ্যের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল বলেও দাবি করা হয়।

হামের বিরুদ্ধে কার্যকর ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জনের জন্য কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ কার্যকর টিকাকভারেজ প্রয়োজন উল্লেখ করে এবি পার্টি জানায়, বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। ফলে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি থেকেই গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে। অর্থাৎ টিকা নেওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগেই তারা সংক্রমিত হচ্ছে। এর জন্য মায়েদের পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব, অপুষ্টি এবং সমাজে পর্যাপ্ত হার্ড ইমিউনিটি তৈরি না হওয়াকে দায়ী করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সরকারের কাছে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ডোজ হামের টিকা মজুত রয়েছে এবং জরুরি ক্যাচ-আপ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনও চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নেই। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব ব্যাংক এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় ইপিআই কর্মসূচির টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে রাজনৈতিক বিরোধের বাইরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি, মাতৃস্বাস্থ্য, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং তৃণমূল স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত বলেও মত দেন।

সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে সময়মতো টিকা গ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাকেই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানে এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকনসহ আরও অনেকে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD