Logo

স্বার্থের সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক স্ট্যাটাস, যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মে, ২০২৬, ১৭:০২
স্বার্থের সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক স্ট্যাটাস, যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন
ছবি: সংগৃহীত

রাজনীতির মাঠে পরিচিত মুখ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাসে স্বার্থনির্ভর সম্পর্ক ও মুখোশধারী মানুষের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

“স্বার্থের জগতে নির্বাক আমি”— এই একটি বাক্য দিয়ে শুরু হওয়া তার ফেসবুক পোস্টটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পোস্টজুড়ে তিনি তুলে ধরেছেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সম্পর্কের উত্থান-পতন এবং মানুষের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বার্থের নির্মম বাস্তবতা।

স্ট্যাটাসে রবিউল ইসলাম নয়ন লিখেছেন, জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তার কাছে এখন মনে হয়, মানুষের থেকে কিছুটা দূরে থাকাই ভালো। একা থাকাও অনেক সময় শান্তির। কারণ দূর থেকে মানুষকে যতটা সুন্দর ও আন্তরিক মনে হয়, খুব কাছে গেলে অনেক সময় সেই ধারণা ভেঙে যায়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মানুষের ভিড়ে নিজেকে বেশি ডুবিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ কিছু মানুষ প্রথমে কাছে আসে, সম্পর্ক গড়ে তোলে, বিশ্বাস অর্জন করে; পরে সেই মানুষই সুযোগ পেলে আঘাত করে। জীবনে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। অনেকেই সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছেন, অনেকের চেহারাও আজ আর মনে নেই। মানুষের ধীরে ধীরে জীবন থেকে সরে যাওয়া এখন আর তাকে বিস্মিত করে না।

রবিউল ইসলাম বলেন, সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা প্রকৃত ভালোবাসা বা আন্তরিকতার কারণে নয়, বরং নিজেদের স্বার্থের জন্য সম্পর্ক তৈরি করেন। বিশেষ করে কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে থাকলে, সুবিধাবাদীরা তার চারপাশে ভিড় জমায়। তিনি তাদের তুলনা করেছেন পঙ্গপালের সঙ্গে, যারা দ্রুত ছুটে আসে “মধু আহরণে”।

বিজ্ঞাপন

সম্পর্কের শুরুতে এসব মানুষের আচরণ থাকে অত্যন্ত বিনয়ী ও অমায়িক। তাদের মুখে থাকে পবিত্র হাসি, কথায় সততার ছাপ, আর ব্যবহারে এমন আন্তরিকতা যে সহজেই মানুষ তাদের বিশ্বাস করে ফেলে। সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এসব আচরণ ছিল কেবল সুবিধা আদায়ের অভিনয়।

যখন তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না, কিংবা প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয় না, তখন সেই মানুষগুলোই আচমকা বদলে যায়। ভালোবাসার মুখোশ খুলে প্রকাশ পায় তাদের আসল রূপ।

রবিউল ইসলাম নয়ন আরও লিখেছেন, এরা “বিষহীন জলঢোড়া সাপের” মতো। সুযোগ না পেলে হামলে পড়ে, বিষাক্ত হওয়ার ভান করে, কিন্তু বাস্তবে তাদের ছোবলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ফোঁসফাঁস করা ছাড়া তাদের করার তেমন কিছু নেই।

বিজ্ঞাপন

স্ট্যাটাসে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, কাছে থাকার, পাশে থাকার এবং বিশ্বস্ততার অভিনয় এত নিখুঁতভাবে যারা করতে পারে, তাদেরই পুরস্কৃত করা উচিত। কারণ এসব মানুষ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের চরিত্র বদলাতে সিদ্ধহস্ত। প্রয়োজনের সময় তারা সবচেয়ে বিশ্বস্ত, আর স্বার্থে আঘাত লাগলেই সবচেয়ে কঠোর সমালোচক।

পোস্টের শেষাংশে রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, মানুষের মুখোশ যত খুলছে, ততই তিনি জীবনের বাস্তবতা আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছেন। যার যতটুকু প্রয়োজন, সে ততটুকুই পথ চলে। প্রয়োজন শেষ হলে সে নিজের পথ বেছে নেয়। এ বাস্তবতা মেনে নিতে শিখেছেন বলেই এখন আর কারও চলে যাওয়া তাকে অবাক করে না।

“জলঢোড়া হয়তো জানে না, আমি একজন পোড়খাওয়া পাকা ওঝা। বিষধর সাপও আমাকে বাপ বলে ডাকে।”

বিজ্ঞাপন

রবিউল ইসলাম নয়নের এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তার এই পোস্টে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এটি কেবল একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়; বরং বাস্তব জীবনে বহু মানুষের অনুভূতিরই প্রতিফলন।

কারও মতে, স্বার্থনির্ভর সম্পর্কের এই নির্মম চিত্র সমাজের অস্বস্তিকর সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। আবার অনেকে বলেছেন, ক্ষমতা ও প্রভাবের আশপাশে এ ধরনের মানুষ সবসময়ই থাকে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD