Logo

ভোলায় বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের ঢল

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ভোলা
২ জুন, ২০২৬, ১৫:৫৫
ভোলায় বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের ঢল
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে এই প্রবীণ রাজনীতিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় থেকে তার মরদেহ ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হয়। পরে ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহটি ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হয়।

মরদেহ পৌঁছানোর সময় হেলিপ্যাড এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জেলার দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তার বাবা মৌলভী আজহার আলী এবং মা ফাতেমা খানম। ১৯৬৪ সালে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক।

শিক্ষাজীবনে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি এবং ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদ এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দাবিতে আন্দোলন সংগঠিত করেন তিনি। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণাও তার মাধ্যমে আসে।

১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৭০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। একই বছর মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর চার আঞ্চলিক অধিনায়কের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দীর্ঘ ৩৩ মাস কারাবন্দি থাকতে হয়। পরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

বিজ্ঞাপন

জীবদ্দশায় অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। ২০২১ সালের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা ধীরগতি এলেও ২০২৪ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD