মা-বাবার চিরসান্নিধ্যে ফিরলেন বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ

মা ফাতেমা খানম ছিলেন তোফায়েল আহমেদের জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা ও নির্ভরতার জায়গা। রাজনীতির ব্যস্ততা, আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা কারাজীবনের কঠিন সময়—সব ক্ষেত্রেই মায়ের স্নেহ ও সাহচর্য তার জীবনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল।
বিজ্ঞাপন
২০১৮ সালে প্রকাশিত এক স্মৃতিচারণে তোফায়েল আহমেদ লিখেছিলেন, মা ও মাতৃভূমি তার কাছে একই অনুভূতির প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিব বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলতেন, দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত তারা মায়ের কোলে ফিরবেন না। স্বাধীনতার পর বিজয়ের গৌরব নিয়ে দেশে ফিরে কয়েক দিনের মধ্যেই ভোলার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে মায়ের সান্নিধ্যে ফিরেছিলেন তিনি।
জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেও মাতৃস্নেহের প্রতি তার টান কখনো কমেনি। স্মৃতিকথায় তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে সাতবার গ্রেপ্তার হওয়ার অভিজ্ঞতায় প্রতিবারই তার মা ছেলেকে দেখতে কারাগারে ছুটে গিয়েছেন। জেলগেটে মায়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার মুহূর্তগুলো ছিল তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতিগুলোর একটি।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী হওয়ার পরও মায়ের কাছে তিনি ছিলেন সেই আদরের ‘মনু’। রাজধানীতে একসঙ্গে বসবাসের সময় প্রতিদিন মায়ের আশীর্বাদ ও স্নেহ নিয়েই দিনের কাজ শুরু করতেন। বাসায় ফিরলেও প্রথমেই মায়ের সঙ্গে দেখা করতেন বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মাকে হারানোর বেদনা দীর্ঘদিন বয়ে বেড়িয়েছেন তোফায়েল আহমেদ। মায়ের কবরফলকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে একটি আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলিও লিখেছিলেন তিনি।
‘মা, বাবা চলে গেছেন অনেক আগে
বিজ্ঞাপন
চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তোমারই পাশে
তুমিও চলে গেলে আমাদের
সকলকে কাঁদিয়ে,
বিজ্ঞাপন
তবু তোমরা আছ সর্বক্ষণ
আমাদের হৃদয়জুড়ে।
মা, প্রতি মুহূর্ত তোমাদের অভাব
বিজ্ঞাপন
অনুভব করি।
তোমার মনু (তোফায়েল)’
৮২ বছরের জীবনের পরিসমাপ্তিতে শেষ পর্যন্ত নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে মা-বাবার কবরের পাশেই সমাহিত হলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। যেন দীর্ঘদিনের সেই আকাঙ্ক্ষারই পরিণতি ঘটল—মায়ের কাছেই ফিরে যাওয়া।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোলায় নেওয়া হলে হাজারো মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এর আগে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে মা-বাবা ও স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তার মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান ঘটলেও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।








