Logo

আইভীর বাসভবনে সমর্থকদের ভিড়, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জুন, ২০২৬, ১৫:৫৮
আইভীর বাসভবনে সমর্থকদের ভিড়, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৩ মাস কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটিরে’ ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার মুক্তির পর বাসভবনের সামনে কর্মী-সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে নজরদারি জোরদার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। এর আগে বুধবার (৩ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান আইভী। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ বাসভবনে পৌঁছান।

আইভীর বাসায় ফেরার পরপরই চুনকা কুটিরের সামনে এবং আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, সদর এলাকাকে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। শহরে দুই হাজার আধুনিক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইভীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা যাতে সেখানে সমবেত হতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে বাসায় আগত দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে দেখতে ও শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন।

এ সময় তার স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল কাদির এবং সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, কারাগারে থাকাকালে আইভী নিয়মিত নামাজ, দোয়া-দরুদ ও ধর্মীয় অনুশীলনের মাধ্যমে সময় কাটিয়েছেন। বন্দি জীবনকে তিনি আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখেছেন। ফলে মুক্তির পর প্রথম দিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাকে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি।

তাদের মতে, দীর্ঘ কারাবাসের অভিজ্ঞতা, আত্মসমালোচনা, আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা গ্রহণের মধ্য দিয়েই কেটেছে তার প্রথম দিন।

বিজ্ঞাপন

সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়কার তিনটি হত্যা মামলা, দুটি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও পরবর্তী সময়ে নতুন মামলায় আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পর তার মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD