সরকার আওয়ামী লীগের পথেই এগোচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় এমন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা আওয়ামী লীগের শাসনামলের ধারাবাহিকতার সঙ্গে মিল রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল, সেটির কার্যক্রম শুরু হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণে জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়নি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের পর দেশের স্বার্থে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতার কথা জানিয়েছিল। তবে তার দাবি, সরকার জনগণের ভোটের রায় বাস্তবায়নে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য দেখাতে পারেনি।
বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরের গুম, খুন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাজারে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পেছনে শুধু রাজনৈতিক নিপীড়ন নয়, দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সংকটও বড় ভূমিকা রেখেছিল। তার দাবি, বর্তমান সরকারও একই ধরনের নীতির দিকে এগোচ্ছে। সরকার যদি জনগণের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নেয়, তাহলে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো জনগণের পক্ষেই অবস্থান নেবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে সীমিত থাকায় সফর থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসবে বলে প্রত্যাশা ছিল। তবে সে ধরনের কোনো ঘোষণা না আসায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
চীন সফর নিয়েও তিনি বলেন, সফরকে ঘিরে নানা প্রচারণা থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য কী ধরনের বাস্তব অর্জন হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। তার মতে, আন্তর্জাতিক সফরের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জনগণের স্বার্থে দৃশ্যমান সুফল নিশ্চিত করা।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি অভিযোগ করেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও সরকার প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি এবং এ বিষয়ে জনগণ ইতোমধ্যে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করছে।








