Logo

সরকারকে দুর্বল করতেই লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার: কাদের সিদ্দিকী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল
৩১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩০
সরকারকে দুর্বল করতেই লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার: কাদের সিদ্দিকী
ছবি: সংগৃহীত

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম দাবি করেছেন, লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এর মাধ্যমে সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মামলায় যদি লতিফ সিদ্দিকীর সম্পৃক্ততা থাকত, তাহলে তাকে আগেই গ্রেপ্তার করা হতো।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি খোন্দকার মো. আবুল হাসনাত কিসমতের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, গত বছরের ২৮ আগস্ট লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে যাওয়ার সময় শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সম্পৃক্ততার ভিত্তি থাকত, তাহলে তখনই তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হতো। এতদিন পর তাকে গ্রেপ্তার করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আদালতে লতিফ সিদ্দিকী নিজেই দাবি করেছেন যে, শাপলা চত্বরের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। পাশাপাশি তিনি নিজেকে কথিত ‘ক্রিসেন্ট কমিটি’র সদস্যও নন বলে আদালতের কাছে উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আলোচনার একপর্যায়ে কাদের সিদ্দিকী অতীতের একটি রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর যে বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, সেটির প্রকৃত অর্থ ভিন্ন ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল—জয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি হওয়ায় তাকে নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সংযম প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা। তবে সে সময় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বক্তব্যটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে দলীয় প্রধানের কাছে অভিযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

লতিফ সিদ্দিকীর আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তার মুক্তির জন্য আইনগতভাবে যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে। জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি আইনগতভাবেই মোকাবিলা করা হবে।

আদালতে লতিফ সিদ্দিকীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দণ্ড হলেও তা মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন। ভাই হিসেবে তিনি সেই বক্তব্যের প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থনও প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের আলোকে তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে কাউকে দণ্ডিত করা হলে তার বিচার শেষ পর্যন্ত মহান সৃষ্টিকর্তার কাছেই হবে।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশ পর্যন্ত বিভিন্ন গণআন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে লতিফ সিদ্দিকী বহুবার কারাবরণ করেছেন। তার দাবি, দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে কারাবরণ করতেও তারা প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সুশাসন, ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD