জামায়াত-এনসিপির লংমার্চ আ.লীগের ফেরার পথ তৈরি করছে: রাশেদ খান

সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামমুখী জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান জানান, জামায়াতের এমপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিএনপি সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ আচরণ করছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তার দাবি, জামায়াত ও এনসিপি আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার চেষ্টা করছে। জনগণ তাদের এমন উদ্যোগ গ্রহণ করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, “জামায়াতের এমপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, বিএনপি সরকার নাকি আওয়ামী লীগের চেয়ে খারাপ আচরণ করছে বিরোধী দলের সঙ্গে। আমি জামায়াত নেতার বক্তব্যের ধিক্কার জানাই। জামায়াত-এনসিপি তো আওয়ামী লীগকে নিয়ে রাজপথে নামার চেষ্টা করছে। জনগণ তাদের মেনে নেবে না।”
জামায়াত-এনসিপির সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, তারা সংসদে সরকারি দলের এমপিদের মতো সুযোগ-সুবিধা দাবি করছেন। তার প্রশ্ন, তারা বর্তমানে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না কি না।
বিজ্ঞাপন
রাশেদ খান বলেন, “জামায়াত ১৭ বছর তাদের কার্যালয়ের তালা খুলতে পারেনি। তারা এখন আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। জনগণ জামায়াত-এনসিপির সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দেবে না।”
সংসদে সাম্প্রতিক বিরোধিতা ও হট্টগোলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। রাশেদ খানের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা বিরোধিতা ও হট্টগোল করেছেন। একই সঙ্গে বিরোধী দলের এমপিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গুম হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “তারা একদিকে গুম কমিশনে গুমের ঘটনায় বিচার চাইছে, আরেক দিকে সালাহউদ্দিন আহমেদের গুমের ঘটনা নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটাই জামায়াতের চরিত্র।”
বিজ্ঞাপন
এনসিপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তার ভাষ্য, জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই এনসিপি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রাশেদ খান বলেন, “এনসিপি যেদিন জামায়াতের সঙ্গে যোগ দিয়েছে, সেদিনই তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। সবাই এখন বলে, যাহাই জামায়াত, তাহাই এনসিপি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত-এনসিপি একসঙ্গে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে বাংলাদেশপন্থী জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তার ভাষায়, “জামায়াত-এনসিপি মিলে দেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগকে নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা বলতে চাই, তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালালে বাংলাদেশপন্থী জনগণ তাদের বরদাস্ত করবে না, ইনশাআল্লাহ।”
বিজ্ঞাপন
এর আগে মুরারীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাশেদ খানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান, মুন্সি কামাল আজাদ পান্নুসহ বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।








