Logo

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির নতুন পরিকল্পনা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:১৫
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির নতুন পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সময় পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলীয় প্রতীক না থাকলেও একই পদে একাধিক নেতার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভক্তি এড়াতে একজন করে দলসমর্থিত প্রার্থী রাখার পরিকল্পনা করছে দলটি। বিএনপির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও নেতাদের বক্তব্যে এ পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা করা হবে। তৃণমূলের মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্তভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে একজনকে সমর্থন দেওয়ার উদ্যোগ থাকবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হলে বিএনপি একক প্রার্থী নির্ধারণ করবে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন নির্বাচনের বাইরে থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে এবার বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী। বিভিন্ন এলাকায় একই পদে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে থাকায় দলীয়ভাবে সমন্বয় করে একজনকে সমর্থন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন

বরিশাল সদর উপজেলায়ও একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী সক্রিয় রয়েছেন। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে চার-পাঁচজন করে প্রার্থী রয়েছেন। তার মতে, দলকে একজন প্রার্থী নির্ধারণ করে দিতে হবে।

এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার বিষয়টিও প্রার্থী সমন্বয়ের আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। তবে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক দলের সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মোট ৪২টি প্রতীক চূড়ান্ত করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির একক প্রার্থী রাখার পরিকল্পনার পেছনে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক প্রার্থী নিয়ে সম্ভাব্য বিভক্তিকে একটি বড় বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজনকে দলীয় সমর্থন দেওয়ার পর অন্য আগ্রহী নেতাদের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করানোও দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত ১১ জুলাই বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ইউনিটগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক কমিটি পুনর্গঠন এবং তৃণমূলকে সক্রিয় করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নিয়েও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নতুন তথ্য এসেছে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ২৪ সেপ্টেম্বর জানান, বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষা বিবেচনায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু না করে আগামী বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরুর আশা করছে কমিশন।

বিজ্ঞাপন

ফলে নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় সমন্বয় ও সমর্থনের প্রক্রিয়াও আরও স্পষ্ট হতে পারে। তবে তৃণমূলের মতামত কীভাবে নেওয়া হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে, তা নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু হলে বিস্তারিতভাবে জানা যাবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD