Logo

চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন, প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:৩১
চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন, প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী | ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, সুপারিশ কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির ফোনের ভূমিকা থাকা উচিত কি না—এ প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থী বাদ পড়া এবং ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, একজন তরুণ দীর্ঘদিন পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়ে লিখিত ও মৌখিক ধাপ পেরোনোর পরও যদি চাকরিতে প্রবেশের আগে পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা কোনো নেতার সুপারিশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবতে হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু একজন চাকরিপ্রার্থীর নয়, পুরো নিয়োগব্যবস্থার সমস্যা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের কারণে বিভিন্ন জেলার বহু প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তার পোস্টে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা অন্তত এক হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিয়োগের শুরুতে দেওয়া পুলিশ ভেরিফিকেশনের শর্তের কথাও তুলে ধরেন।

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। প্রস্তাবিত মানবণ্টন অনুযায়ী, ১১ ও ১২তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার কথা রয়েছে। ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে ভাইভা ১০ থেকে ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১০ থেকে ২৫ করার প্রস্তাব রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য দক্ষ ও উপযুক্ত জনবল বাছাই করা বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ দেখা গেছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। ২২ সেপ্টেম্বর ইটনায় এক জনসভায় ফজলুর রহমান লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে তার কাছে আসার এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় ফোন করার কথা বলেছিলেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘চাকরি পাওয়ার জন্য একজন তরুণের সবচেয়ে বড় পরিচয় হোক তার মেধা ও যোগ্যতা। তার বাবার রাজনৈতিক পরিচয় নয়। তার এলাকার প্রভাবশালী নেতা নয়। কোনো সুপারিশের ফোনও নয়।’

তিনি আরও লেখেন, ‘একজন চাকরিপ্রার্থী যেন নিশ্চিন্তে বলতে পারেন - আমি কারও লোক নই। আমি পরীক্ষায় ভালো করেছি। চাকরিটা তাই আমার প্রাপ্য।’

বিজ্ঞাপন

নিয়োগব্যবস্থার সংস্কারকে তিনি জুলাই-পরবর্তী নতুন ব্যবস্থা গঠনের অন্যতম পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চাকরির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা সুপারিশের পরিবর্তে পরীক্ষার ফল, মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD