অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে

দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল কিংবা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকার বিপ্লব উদ্যানে মহানগর বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা গণমিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়াসার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মীর হেলাল বলেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দেশের বাইরে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছেন বলেও অভিযোগ করেন মীর হেলাল। তবে এটি তার বক্তব্যের একটি রাজনৈতিক অভিযোগ, যার স্বাধীন যাচাই এখানে করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের উসকানি বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
এরশাদ উল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্র বা নৈরাজ্য মোকাবিলায় সাংগঠনিক ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলীয় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। কোনো মহল সন্ত্রাস বা নৈরাজ্যের পথ বেছে নিলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথাও বলেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বা বোমা হামলার মাধ্যমে দেশের শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে প্রতিরোধের নামে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন সাঈদ আল নোমান। এসব বিষয়ে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও শিহাব উদ্দিন মুবিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।








