Logo

আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপি, বাস্তবে দুটিই সন্ত্রাসী দল: হান্নান মাসউদ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:৪৯
আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপি, বাস্তবে দুটিই সন্ত্রাসী দল: হান্নান মাসউদ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, বিএনপির বিকল্প আওয়ামী লীগ, আর আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপি। তাঁর ভাষায়, বাস্তবে এটি সন্ত্রাসের বিকল্প আরেক সন্ত্রাসী দল, গুমের বিকল্প আরেক গুমের দল এবং চাঁদাবাজির বিকল্প আরেক চাঁদাবাজির দল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “আমরা এ ধরনের কোনো দলের বিকল্প হিসেবে রাজপথে নামিনি; আমরা নেমেছি এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের বিকল্প দল হিসেবে।”

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে হান্নান মাসউদ বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় সুশীল সমাজের একটি অংশ তাঁদের বলেছিল, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ১০ শতাংশ কমিশন না দিলে কাজ হতো না, আর তাঁরা ‘খাল কেটে কুমির আনছেন’। তখন বিষয়টি বুঝতে পারেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সত্যিই আমরা খাল কেটে এমন এক কুমির এনেছি, যেখানে আগে ছিল ১০ শতাংশ, আর এখন তা দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশে।”

বিজ্ঞাপন

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, দলটির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হান্নান মাসউদ বলেন, চাঁদাবাজি ও ধান্দাবাজি করে তারেক রহমান বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন। তিনি নিজের মন্ত্রিপরিষদ সামলাতে পারেন না। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। দলটির সংসদ সদস্যদের হাত থেকে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানও রেহাই পাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ও সফরসঙ্গীদের প্রসঙ্গেও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে কেমন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে আন্তর্জাতিক, সীমান্ত, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের সফরসঙ্গী করতেন। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ‘জামায়াত বিশেষজ্ঞ’, ‘বিএনপি বিশেষজ্ঞ’ এবং সরকারবিরোধীদের গালিগালাজ করতে পারা ‘ধান্দাবাজ বিশেষজ্ঞ’দের নিয়ে সফর করছেন এবং দেশের অর্থ অপচয় করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে হান্নান মাসউদ বলেন, ১৯৯১ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ অনেক আশা নিয়ে বিএনপির হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে দলটি ভোট কারচুপির পরিকল্পনা শুরু করে। ১৯৯৬ সালে একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল, যা জনগণ মেনে নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করে দুঃশাসন চাপিয়ে দেয়। এর খেসারত হিসেবে দেশকে ১৭ বছর দুঃশাসন সহ্য করতে হয়েছে।

হান্নান মাসউদের অভিযোগ, বিএনপি নিজেদের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের তো বটেই, এমনকি ১৭ বছর ধরে নিজেদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসা দিতে পারেনি। এখন তারা বড় বড় কথা বলছে যে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে মানুষকে মুক্ত করেছে। অথচ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ নিজেদের অসন্তোষ থেকে ছাত্র-জনতার আহ্বানে রাজপথে নেমেছিল, বিএনপির ডাকে নয়।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের জেলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হান্নান মাসউদ দাবি করেন, দেশের সবচেয়ে বেশি মাদক কারবার, দিনদুপুরে ৬০-৭০টি গাড়িতে ডাকাতি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সালাউদ্দিন আহমেদের জেলায় হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার না করে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যাতে আবার কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া যায়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি আবারও এ ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, উচ্চকক্ষ, নিম্নকক্ষ ও শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, সে বিষয়ে রায় দিয়েছে। কিন্তু সেই রায় বদলে নিজেদের পছন্দমতো ব্যক্তিকে প্রধান করে জনগণের ভোটাধিকার হরণের চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একই সঙ্গে সারের লাইসেন্স, ডালের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দলের ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনীকে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD