Logo

আওয়ামী লীগ উড়ে এসে জুড়ে বসবে, এটি কোনও দিনই সম্ভব নয়: রিজভী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:৫৪
আওয়ামী লীগ উড়ে এসে জুড়ে বসবে, এটি কোনও দিনই সম্ভব নয়: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তারা আবার ফিরে এসে জেঁকে বসবে—এমনটি জনগণ কখনো মেনে নেবে না।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘এত মানুষের রক্ত ঝরিয়ে, এত নির্যাতন চালিয়ে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন যিনি, তিনি এখন বলছেন, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু এ দেশের মানুষের চোখের সামনে এখনও ভাসছে সেই তরতাজা শিশু-কিশোর ও তরুণদের মুখ, যারা বুক পেতে বুলেট গ্রহণ করেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে মহিমান্বিত গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, সেই বিপ্লব কি মুছে ফেলা যাবে? আবু সাঈদের আত্মত্যাগ, মুগ্ধের আত্মত্যাগ, ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ– এসব কি মুছে ফেলা যাবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা হঠাৎ প্যারাসুট দিয়ে নেমে আসবেন, সবাই ঢোল বাজিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানাবে– এটি কি কখনও সম্ভব? বাংলার মাটি বীরের মাটি। এই মাটি বহু বীরের জন্ম দিয়েছে। যারা নিজের দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, তারা আবার উড়ে এসে জুড়ে বসবেন, আর জনগণ তা মেনে নেবে– এটি কোনও দিনই সম্ভব নয়।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ৭ নভেম্বরের চেতনার সাদৃশ্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাইয়ের আন্দোলনে। তাঁর ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাও ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আধিপত্যবাদী শক্তি কিংবা তাদের দেশীয় সহযোগীরা চেষ্টা করলেও ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দিনটি কেবল বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনার স্মারক নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিন বিদেশি প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণ এবং স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ তৈরি করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কার সঙ্গে বৈরিতা বজায় রাখবে কিংবা কার সঙ্গে চুক্তি করবে—এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এ দেশের সরকার ও জনগণের। অন্য কোনো দেশের নির্দেশনা বা প্রভাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশের নীতি পরিচালিত হওয়া উচিত নয়।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ ১৭ বছর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, ১৯৭৬ সাল থেকে দিবসটি সরকারি উদ্যোগে পালিত হলেও শেখ হাসিনার শাসনামলে তা বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নিজেদের উদ্যোগে দিবসটি পালন করায় এর তাৎপর্য ও চেতনা অটুট রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের অতীত আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বারবার হামলার শিকার হয়েছেন। মারধরের পর ফিরে গেলেও তাঁরা আবার ফিরে এসেছেন। তাঁদের ওপর চালানো হামলা ও রক্তপাত বৃথা যায়নি; বরং এসব ঘটনা দেশের তরুণ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের মনোভাব গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে রিজভী বলেন, তিনি একটি দক্ষ ও চৌকস সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন এবং বাহিনীটিকে রাজনীতিকরণের পক্ষে ছিলেন না। তাঁর অবদানেই আজকের আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, নানা আক্রমণ ও হুমকির মধ্যেও তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতেও তিনি দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। ৭ নভেম্বরকে বিপদের সময় সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া একটি কম্পাসের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD