এই সরকার জনগণের নয়, সিন্ডিকেটের: জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম

বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থে নয়, বরং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তার দাবি, সরকারের অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীও জানেন না, কীভাবে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সিলিন্ডার গ্যাস, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রভাব তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। শুধু তা না, আমাদের দেশে আপনারা খেয়াল করবেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শুধুমাত্র গ্যাসের দাম বাড়ে না। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একেবারে আলু, পেঁয়াজ, রসুন থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুর দাম চক্রবৃদ্ধির হারে আমাদের মার্কেটগুলোতে বাড়িয়ে দেয়। কারণ, এই সরকার যে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে, এটার সঙ্গে সরকারের একটা সিন্ডিকেট জড়িত। ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বাজার সিন্ডিকেট সম্পৃক্ত। তারা যখন ওখানে এক টাকা বৃদ্ধি করে, সঙ্গে সঙ্গে বাজারের দ্রব্যমূল্য এক বাড়ানোর জন্য মেসেজ দিয়ে দেয়।’
সরকারের পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে একজন বলেছে যে ভাই, এই সরকার শুধু গ্যাস সিন্ডিকেট করে না, এই সরকার শুধু বাজার সিন্ডিকেট করে না, এই সরকার শুধুমাত্র চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট করে না, এই সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটা সিন্ডিকেটের মধ্যে পরিচালিত। ওই সিন্ডিকেটটাকে পরিচালনা করে। এমনকি দলের লোকরা পর্যন্ত বহু এমপি-মন্ত্রী জানে না, এই বর্তমান সরকার কীভাবে দেশ পরিচালনা করছে। এটা বিএনপি সরকার না, এটা জনগণের সরকার না। জনগণ বলতে শুরু করেছে, এটা একটা সিন্ডিকেটের সরকার।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাজারে পণ্যের দামের ব্যবধানের বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এই সিন্ডিকেটের সরকার সবকিছুকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালনা করছে। গ্রামের যে ফসলের দাম ৫ টাকা, সেই ফসল ঢাকায় আসার পর দাম হয়ে যায় ৭৫ টাকা। মাঝখানে ৭০ টাকা বর্তমান সরকারের সিন্ডিকেট এবং অতিরিক্ত চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে।’
শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের বেতন প্রসঙ্গেও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষ্য, শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে শ্রমিকদের ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া মালিকদের পক্ষে সম্ভব হতো। চাঁদাবাজির কারণেই শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, ‘এই অবিচার, এই জুলুম, এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি চাইলেই তারা মাসের মধ্যে দুইবার, তিনবার করে গ্যাসের মূল্য বাড়িয়ে নিতে পারেন। অথচ তাদের কথা ছিল, ৩১ দফায় তাদের উল্লেখ ছিল, দুই বছরের মধ্যে তারা গ্যাসের দাম এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করবে না।’
বিজ্ঞাপন
সরকারের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এই সরকার শুরু থেকেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, মুনাফেকি এবং প্রতারণা করে যাচ্ছে। এই সরকারের কোনো জবাবদিহি নেই। এই সরকার জনগণের সরকার নয়, এই সরকার ধোঁকাবাজি এবং মুনাফিকের সরকার।’
২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এই ধোঁকাবাজ সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের ২০২৪-এর গণ-আন্দোলন হয়েছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, আরেকটা জুলাই ঠেকানোর জন্যই সংবিধানের সংশোধন প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভালো করে কান খুলে শোনেন, এই একই কথা শেখ হাসিনা বলেছিল। তার নিজের পছন্দমতো সংবিধান সংশোধন করেছিল। সংবিধান সংশোধন করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, সুবিধামতো পদত্যাগ করতে পারেনি, মিথ্যা দেশত্যাগ পর্যন্ত করতে হয়নি। তার এই অন্যায়ের কারণে জনগণের রোষানলে পড়ে সকালের খাবার রেখে দুপুরে তাকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, আপনাকে সেই পথের পথিক হতে হবে। আপনি সংবিধান সংশোধন করে জুলাই ঠেকানোর প্রক্রিয়ায় যাচ্ছেন না। বরং আরেকটা জুলাইয়ের আগে আরেকটা জুন, এমন হবে আরেকটা মাস হবে, আরেকটা এপ্রিল মাস হবে, আরেকটা ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস হবে। যেই মাস, যেই ফেব্রুয়ারি, যেই এপ্রিল, যেই মে, জুন আপনার জন্য আরেকটা ধ্বংসের পরিণতি বয়ে আনতে পারে।’
সংবিধান সংস্কারের জন্য বিরোধী দল ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য জনগণের কথায় কর্ণপাত করুন। সংবিধান সংস্কারের জন্য বিরোধী দলসহ সংবিধান বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বসুন। আগামীকাল থেকে সংসদ শুরু। সংসদের প্রাণবন্ত আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। অন্যথায় আপনাদের বিরুদ্ধে আজ তথা বিরোধী দলের যে আট দফা, যে কোনো মুহূর্তে এক দফায় পরিণত হতে বাধ্য হবে। তার আগেই আপনারা আপনাদের সংশোধন করবেন, সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।’
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নুরুল ইসলাম বুলবুল। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে জামায়াতের মহিলা শাখার নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।








