Logo

রমজানে ইনহেলার ব্যবহার : রোজা ভাঙবে নাকি বৈধ চিকিৎসা?

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪:৩১
রমজানে ইনহেলার ব্যবহার : রোজা ভাঙবে নাকি বৈধ চিকিৎসা?
ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাস শুরু হলেই শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি কিংবা অ্যাজমায় ভোগা বহু মানুষের মনে এক ধরনের দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত প্রশ্ন—রোজা রেখে ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে কি? আর ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে না তো?

বিজ্ঞাপন

অনেকে ধর্মীয় দ্বিধা ও ভয়ের কারণে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও দিনের বেলায় ইনহেলার নেন না। ফলস্বরূপ শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়, কখনো কখনো পরিস্থিতি জীবনঝুঁকিতেও গড়ায়। অথচ ইসলামের বিধান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে এই সংশয়ের অবসান ঘটানো সম্ভব।

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী রোজা সাধারণত তিনটি কারণে ভেঙে যায়— ১. খাদ্য গ্রহণ, ২. পানীয় গ্রহণ এবং ৩. শরীরে এমন কিছু প্রবেশ করা যা শক্তি বা পুষ্টি জোগায়।

এ ছাড়া ইচ্ছাকৃত দাম্পত্য সম্পর্কও রোজা ভঙ্গের কারণ।

বিজ্ঞাপন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইনহেলার কি খাবার বা পানীয়ের অন্তর্ভুক্ত? কিংবা এটি কি শরীরে পুষ্টি বা শক্তি সরবরাহ করে?

সমসাময়িক অধিকাংশ ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনহেলার কোনোভাবেই খাদ্য বা পানীয় নয়। এটি মুখ দিয়ে প্রবেশ করলেও সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছায় না; বরং ফুসফুসে গিয়ে কাজ করে। এতে ক্যালরি বা পুষ্টিগুণ নেই, যা শরীরকে শক্তি জোগাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলছে, ইনহেলার একটি ‘লোকাল মেডিসিন’। এটি নির্দিষ্ট অঙ্গে কাজ করে এবং হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নয়। ফলে একে খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে তুলনা করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

এই যুক্তির ভিত্তিতে বহু আলেম মত দিয়েছেন—জরুরি প্রয়োজনে ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হয় না। বিশেষ করে যাদের জন্য এটি অপরিহার্য চিকিৎসা, তাদের ক্ষেত্রে ইসলামের সহজ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই প্রাধান্য পায়।

একটি সংখ্যালঘু মত রয়েছে, যেখানে বলা হয়—মুখ দিয়ে কোনো কিছু প্রবেশ করলে তা রোজা ভঙ্গের কারণ হতে পারে। সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী ইনহেলার ব্যবহারে রোজা ভাঙতে পারে বলে কেউ কেউ মত দেন।

বিজ্ঞাপন

তবে আধুনিক চিকিৎসা বিশ্লেষণ এবং শরিয়তের মৌলিক উদ্দেশ্য—মানবজীবন রক্ষা ও কষ্ট লাঘব—এই মতের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অধিকাংশ গবেষক ও আলেম মনে করেন।

পবিত্র কোরআনে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সুস্পষ্ট ছাড় দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, কেউ অসুস্থ হলে সে পরবর্তী সময়ে রোজা পূরণ করে নিতে পারবে (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৪)।

এই নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, ইসলাম রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে কষ্টে ফেলে ইবাদত চাপিয়ে দেয় না। বরং সুস্থতা ও সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেয়।

বিজ্ঞাপন

যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে ইনহেলার ছাড়া শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে সে অবস্থায় জীবন রক্ষা অগ্রাধিকার পাবে। ইসলাম আত্মনাশ বা অযৌক্তিক কষ্ট সমর্থন করে না।

সমাজে অনেক সময় ধর্মীয় বিষয়ে অজ্ঞতাজনিত ভয় কাজ করে। “রোজা ভেঙে যাবে” এই আশঙ্কায় কেউ কেউ চিকিৎসা বন্ধ রাখেন, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ ক্ষেত্রে ইমাম, আলেম ও চিকিৎসকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। মসজিদ, গণমাধ্যম ও পারিবারিক পরিসরে পরিষ্কারভাবে জানানো দরকার—প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা গুনাহ নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন— হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোজাদারদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রোগের মাত্রা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে রোজা রেখে ইনহেলার ব্যবহার করা যেতে পারে।

আর যদি কেউ মনে করেন, তার অসুস্থতা রোজা রাখার সামর্থ্য দিচ্ছে না, তাহলে পরবর্তীতে কাজা রোজা আদায় বা ফিদইয়ার বিধান রয়েছে—এটিও ইসলামের বিধিবদ্ধ সমাধান।

বিজ্ঞাপন

সবশেষে বলা যায়, ইসলাম কঠোরতার নয়, বরং সহজতা ও মানবিকতার ধর্ম। তাই জীবন ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই ইবাদত পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD