মসজিদুল আকসায় এশা ও তারাবি নামাজ বন্ধ

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসা-য় শনিবার রাতে এশা ও তারাবি নামাজ আদায় বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর ঘোষিত জরুরি অবস্থার অজুহাতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ইসলামী ওয়াক্ফ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র মসজিদের ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনাইনা, পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি এবং অল্প কয়েকজন ওয়াক্ফ কর্মী এশার নামাজ আদায় করতে পেরেছেন। সাধারণ মুসল্লিদের জন্য মসজিদের ফটক সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়।
জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিন তারাবি নামাজে প্রায় ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তবে শনিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর এশা ও তারাবিসহ সব ধরনের জামাত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল Channel 12 জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে হোম ফ্রন্ট কমান্ড রমজানজুড়ে আল-আকসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। জরুরি অবস্থার অংশ হিসেবে দেশজুড়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত, জনসমাগম নিষিদ্ধ এবং জরুরি খাত ছাড়া কর্মস্থলে উপস্থিতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যদিও জর্ডান-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওয়াক্ফ বিভাগ আল-আকসার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে, তবুও নিরাপত্তা নির্দেশনার আওতায় মসজিদে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শনিবার জোহরের আজানের আগে জেরুজালেমের বাসিন্দা ও ভেতরের ফিলিস্তিনি অঞ্চল থেকে আসা মুসল্লিদের প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি ওয়াক্ফ কর্মীদেরও সরে যেতে বাধ্য করা হয়। পরে পুলিশের নির্দেশে মসজিদের সব ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রমজানের ১১তম দিনে মুসল্লিশূন্য আল-আকসার দৃশ্য অনেকের মনে ২০২০ সালের রমজানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যখন করোনাভাইরাস মহামারির সময় একইভাবে মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
জেরুজালেমবিষয়ক গবেষক জিয়াদ ইভহাইস সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, রমজানে আল-আকসা বন্ধ করা মসজিদটির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ। তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, আল-আকসা মুসলমানদের প্রথম কিবলা এবং ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। রমজান মাসে এখানে লাখো মুসল্লির সমাগম হয়। হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞা নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।








