Logo

মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ও খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ)

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৭ জুন, ২০২৬, ১৮:২২
মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ও খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ)
ছবি: জনবাণী।

খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে শাহ্সূফি হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ও খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (মূল বক্তব্যঃ ইসলামের বহিরাংগ বা জাহেরী শরীয়ত ও সুন্নতের সংস্কার, হেফাজত এবং স্বৈরাচারী দুই মোগল সম্রাটের স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রবৃত্তিপরায়ণতার বিষাক্ত ছোবল থেকে ইসলামের আদর্শ রক্ষায় ও অধঃপতিত মুসলিম জাতির উদ্ধারে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব যে নির্ভীকতা, দৃঢ়তা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দেন-সেই সম্পর্কে আলোচনা)

বিজ্ঞাপন

উম্মতে মুহাম্মদীর উপরে দুর্যোগঃ

হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) তাঁহার উম্মতের উপর একবার পাঁচশত বছর পর, আর একবার এক হাজার বছর পর দুর্যোগের আশংকা করিয়া গিয়াছেন। ইতিহাস পর্যালোচনায় ইহার বাস্তবতা খুঁজিয়া পাওয়া যায়। রাসূলে করীম (সাঃ) এর ৫০০ বৎসর পরে মুসলিম জাতি বর্বর তাতাতদের হামলায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু না; ইসলামের রক্ষক স্বয়ং খোদাতায়ালা। তিনি উস্মানিয়া খেলাফত প্রতিষ্ঠা করিয়া মুসলিম জাতি ও সত্য ইসলামকে বর্বর তাতাতদের হাত থেকে রক্ষা করেন। এক সময় যাহারা ইসলামের ঘোরতর শত্রু ছিল, তাহাদের অন্তরেই ইসলামের মহব্বত পয়দা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাহারাই ইসলামের বন্ধু বলিয়া প্রমাণিত হয়।

ইহারও পাঁচশত বছর পর অর্থাৎ রাসূলে পাক (সাঃ) এর এক হাজার বছর পর অর্থাৎ দ্বিতীয় হাজার বছরের শুরুতে মুসলিম জাহানে আবার দুর্যোগ দেখা দেয়। ইহুদী, নাছারা, মোনাফেকরা ইসলামকে নানাভাবে ঘায়েল করিতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ইসলামের মধ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দ্বন্দু তীব্রতর হয়। শিয়া, রাফেজী, খারেজী ইত্যাদি সম্প্রদায় মাথাচাড়া দিয়া উঠে। বিশেষতঃ ভারতে মুসলিমবর্গ চরম বিপাকে পড়ে। তাহারা বিধর্মীদের হাতে যেমন নির্যাতিত হয়, তেমনি স্বেচ্ছাচারী মোগল সম্রাটের বদ-দীনী কার্যকলাপের ফলে অপদস্ত ও লাঞ্ছিত হইতে থাকে। স্বেচ্ছাচারিতার উদ্যাম স্রোতে ভাসিয়া যায় ইসলামী আদর্শ। ঠিক এমনি দুর্যোগ মুহর্তে মুসলিম জাতিকে রক্ষায়, শরীয়ত ও সুন্নতের হেফাজতে, ইসলামী আদর্শ সমুন্নত রাখিতে মহান খোদাতায়ালা হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের মত করিৎকর্মা, আপোসহীন ও নির্ভীক সংস্কারক প্রেরণ করেন, যিনি তাঁহার এক সুদূর প্রসারী সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে মৃতপ্রায় ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করেন, ইসলামী হুকুমত কায়েম করেন। ফলে নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত মুসলিম জাতি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়, স্বস্তি ও শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

শায়খ আহমদ (রাঃ) সম্পর্কে রাসূলে পাক (সাঃ) এর ভবিষ্যদ্বাণীঃ

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব সম্পর্কে হযরত রাসূলে পাক (সাঃ) এক গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী রাখিয়া যান। তিনি বলেন, "একাদশ শতকের প্রারম্ভে আল্লাহতায়ালা দুনিয়ার বুকে এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করিবেন, যিনি অতি উজ্জ্বল নূর' হইবেন।" তাঁহার নামকরণ করা হইবে আমার নামানুসারে। দুইজন স্বেচ্ছাচারী বাদশাহের যুগে তাঁহার আবির্ভাব হইবে। তাঁহার শাফায়তে অসংখ্য লোক জান্নাতের অধিকারী হইবে।"

বিজ্ঞাপন

হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) তদীয় ভবিষ্যদ্বাণীতে যে দুইজন স্বৈরাচারী বাদশাহের কথা উল্লেখ করিয়াছেন, তাহারা ছিলেন সম্রাট আকবর ও আকবর পুত্র সম্রাট জাহাংগীর।

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের মুজাদ্দেদীয়াত বা সংস্কারমূলক কর্মকান্ডের তাৎপর্য উপলব্ধি করিতে হইলে উল্লিখিত দুই সম্রাটের পরিচয় ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

সম্রাট আকবর ও আকবর প্রবর্তিত খিচুরী ধর্ম

বিজ্ঞাপন

"দীনে-এলাহীর” পরিচয়ঃ

সম্রাট আকবরের পিতার নাম বাদশাহ হুমায়ুন। ১৫৪০ খৃষ্টাব্দে কনৌজের যুদ্ধে হুমায়ুন শেরশাহের নিকট পরাজিত হইয়া বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়া বেড়াইবার পর যখন অমরকোটের রানা প্রসাদের রাজ্যে আশ্রয় নেন, তখন, ১৫৪২ খৃষ্টাব্দের ২৩ শে নভেম্বর আকবর জন্ম গ্রহণ করেন।

সুদীর্ঘ পনেরো বৎসর এখানে সেখানে ঘুরিয়া বেড়াইবার পর শুর শাসকদের পারস্পরিক অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগে হুমায়ুন ১৫৫৫ খৃষ্টাব্দে সেরহিন্দের নিকটে সিকান্দার শুরকে পরাজিত করিয়া লাহোর দখল করেন। সেই বছরই তিনি দিল্লী আগ্রা অধিকার করেন। ইহার অল্প কয়েকদিন পরে ১৫৫৬ খৃষ্টাব্দে ২৪ শে জানুয়ারী হুমায়ুন ইন্তেকাল করেন। হুমায়ুনের ইন্তেকালের পর আকবর ১৫৫৬ খৃষ্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারী দিল্লীর সম্রাট হিসেবে ঘোষিত হন। তখন তাহার বয়স মাত্র তের বছর। ইহার পাঁচ বছর পর ১৫৬০ খৃষ্টাব্দে আকবর তদীয় ১৮ বছর বয়সে দিল্লীর শাসনভার স্বহস্তে গ্রহণ করেন এবং রাজ্য পরিচালনা করিতে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

প্রথম জীবনে সম্রাট আকবর একজন সুন্নী মুসলমান ছিলেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করিতেন; শরীয়তের অন্যান্য হুকুম-আহকাম যথারীতি মানিয়া চলিতেন। অনেক সময় তিনি আযান দিতেন এবং নামাজে ইমামতিও করিতেন। কিতাবে দেখা যায়, কখনও কখনও তিনি মসজিদও ঝাড়ু দিতেন। প্রতি বছর হজ্বের মওসুমে আকবর একজনকে 'আমীর-ই-হজ্ব' নিযুক্ত করিয়া বলিতেন, "যে কেহই তাহার সহিত হজ্বে গমন করিবেন, তাঁহার সমুদয় খরচ সরকার বহন করিবে।" ইহা ছাড়াও প্রতি বছর তিনি পবিত্র কাবা ঘরের জন্য এবং উহার প্রতিবেশীদের জন্য দামী দামী উপহার প্রেরণ করিতেন।

কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন মুখী প্রভাবে প্রভাবিত হইয়া আকবর সত্য পথচ্যুত হইয়া এক অদ্ভুদ ধর্মমত প্রচার শুরু করেন-যাহা ছিল ইসলাম পরিপন্থী ও মুসলিম স্বার্থের বিপরীত কর্মকান্ড।

ইতিহাস পর্যালোচনা করিলে দেখা যায় যে, ষোড়শ শতাব্দী ছিল সন্দেহ, সংশয় ও অনুসন্ধানের যুগ। সে যুগ ছিল ধর্মান্দোলনের যুগ; পরমত সহিষ্ণুতার যুগ। এই যুগে আবির্ভাব হয় বিশ্ব প্রেম ও ভাতৃত্ববোধ প্রচারক বিভিন্ন সাধু পুরুষের। কবির, নানক, শ্রীচৈতন্য ইহাদের মধ্যে অন্যতম। এই সমস্ত ধর্ম নেতার প্রভাব আকবরের উপর পতিত হয়। ষোড়শ শতাব্দিতে এই উপমহাদেশে মাহদী আন্দোলন ও রাসনী আন্দোলনও মানুষের মনকে আচ্ছন্ন করে। "মাহদী" পন্থীদের বিশ্বাস হাজার বছরের শেষভাগে পাপ-পঙ্কিলতা হইতে মানব জাতিকে উদ্ধারের জন্য একজন মাসীহ পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন। জনৈক সৈয়দ মুহাম্মদ নামক এক জৌনপুর নিবাসী এই মাহদী আন্দোলনের সূচনা করেন এবং নিজেকে সেই বিশেষ মাহদী বলিয়া ঘোষণা করেন। অনুরূপে আফগান স্থানে রাসনী আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়া উঠে। রাসনীগণও একজন মাসীহ বা উদ্ধার কর্তার আবির্ভাবে বিশ্বাস করিত। এই সকল আন্দোলনের অশুভ প্রভাবও আকবরের উপর পড়ে এবং তিনিও একজন "ধর্মপ্রবর্তক" হওয়ার সংকল্প করেন।

বিজ্ঞাপন

পরে সকল ধর্মের মূল তথ্য সম্পর্কে জানিবার উদ্দেশ্যে ফতেহপুর সিক্রিতে ৯৮৩ হিজরীতে একটি "এবাদতখানা" নির্মাণ করেন। সেখানে আমন্ত্রণ করেন সকল ধর্মের মনীষীগণকে। ফলে যেমনি ইসলাম ধর্মের আলেমসকল সেখানে উপস্থিত হইতেন, তেমনি হিন্দু ধর্মের সাধু-সন্নাসীগণ, খষ্টান ধর্মের পাদ্রী বা ধর্মযাজকগণ, জৈন ধর্মের পন্ডিতগণও সেখানে উপস্থিত হইতেন এবং ধর্মীয় রীতি-নীতি সম্পর্কে পরস্পর আলাপ আলোচনা ও তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হইতেন। সকলের জন্য আকবরের "এবাদতখানা" উন্মুক্ত থাকায় সেখানে ভন্ড সূফীগণ ও দুনিয়াদার আলেমগণও উপস্থিত হইয়া ধর্মালোচনায় অংশ গ্রহণ করিত।

বাদশাহ আকবর ছিলেন নিরক্ষর। তিনি পড়িতে পারিতেন না। তাই বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মনীষীগণের ধর্মালোচনা তিনি শুনিতে পছন্দ করিতেন। ফলে সকল ধর্মের প্রভাবই তাহার উপর পড়ে। বিভিন্ন ধর্মের নেতা বা ধর্মগুরু বা মনীষীদের প্রভাবে প্রভাবিত হইয়া, দুনিয়াদার ও অসৎ আলেমদের পরামর্শে ও প্ররোচনায় সত্য ইসলাম বিধ্বংসী, সর্ব-ধর্ম-সার সমন্বয়ে এক অদ্ভুদ "খিচুড়ী ধর্ম" দীনে এলাহী প্রবর্তন করেন।

দীনে এলাহীর আইন প্রণয়নের জন্য আকবর চল্লিশ রত্ন নামে একটি "পরামর্শ সভা" গঠন করে। সভার সকল সদস্যই ছিল সত্য পথচ্যূত। তাহারা আপন আপন "বিবেক ও যুক্তি-তর্কের" মাপ কাঠিতে সব কিছুকে বিচার করিত। যাহা তাহাদের নিকট বিবেক সম্মত হইত, তাহাই দীন-ই-এলাহীর নতুন আইন হিসাবে গৃহীত হইত। সম্রাট আকবর প্রবর্তিত দীন-ই-এলাহীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিম্নে তুলিয়া ধরা হইল।

বিজ্ঞাপন

দীন-ই-এলাহীর রূপরেখাঃ

১। দীনে এলাহীর মূলমন্ত্র "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আকবার খালিফাতুল্লাহ।"

২। নব এই ধর্মে রাসূলে পাক (সাঃ) কে রাসূল হিসেবে স্বীকার করা রাষ্ট্রীয় বিধানে দন্ডনীয় অপরাধ বলিয়া সাব্যস্ত হয়। তদ্‌স্থানে আকবরকে 'আল্লাহর প্রতিনিধি' স্বীকার করা রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় কর্তব্য বলিয়া নির্ধারিত হয়।

বিজ্ঞাপন

৩। নব ধর্মে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভকেই অস্বীকার করা হয়।

৪। নব ধর্ম অনুসারীদের তথাকথিত ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার শপথ বাণী ছিল নিম্নরূপ "আমি অমুকের পুত্র অমুক। এ যাবৎ বাব-দাদার ধর্মের অনুসারী ছিলাম। এখন স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে তাহা পরিত্যাগ করিয়া বাদশাহ আকবরের দীনে এলাহী গ্রহণ করিতেছি এবং এই ধর্মের খাতিরে জান, মাল, ইজ্জত ও পূর্ব ধর্ম পরিত্যাগ করিতে প্রস্তুত আছি।' কাজেই নবধর্মে অনুসারীদেরকে সম্রাটের উদ্দেশ্যে চারিটি জিনিস-ধন, জীবন, ইজ্জত ও ধর্ম বিসর্জন দিতে হইত। দীন-এ-এলাহীর অনুসারীদেরকে 'চেলা" বলা হইত।

৫। আকবর প্রত্যেক 'চেলা'কে নিজের ক্ষুদ্র একখানি ফটো দান করিতেন। চেলাগণ তাহা সৌভাগ্যের প্রতীক স্বরূপ আপন আপন পাগড়ীর সহিত লাগাইয়া রাখিত।

বিজ্ঞাপন

৬। নবধর্মে সূর্য পূজা, নক্ষত্র পূজা, অগ্নি, বৃক্ষ বা গরু পূজা প্রবর্তিত হয়। বাদশাহ আকবর প্রত্যহ নিজে চারবার-ভোরে, দ্বিপ্রহরে, সন্ধ্যায় ও মধ্যরাতে বাধ্যতামূলক ভাবে সূর্য পূজা করিতেন। তাহার অনুসারীবর্গ বা চেলা সকলের প্রতিও সূর্য পূজার কঠোর নির্দেশ ছিল।

৭। বাদশাহের চেহারা দর্শন না করা পর্যন্ত দীন-এ-এলাহীর অনুসারীদের দাঁত মাজা বা কোন কিছু পানাহার করা নিষিদ্ধ ছিল। ভোরের সূর্য পূজা শেষে বাদশাহ বাহিরে আসিলে, নর-নারী নির্বিশেষে সকলেই একসংগে তাহাকে সেজদা করিত।

৮। নতুন ধর্মে 'পুনর্জন্মবাদ" বিশ্বাস করা হয়। বাদশাহ আকবর নিজেও বিশ্বাস করিতেন যে, মৃত্যুর পর তিনি অন্য কোন স্বর্ণ সিংহাসনের অধিকারী হইয়া একই রূপ প্রভাব-প্রতিপত্তির সহিত পুনরায় আবির্ভূত হইবেন।

বিজ্ঞাপন

৯। দীন-এ-এলাহীতে মদ পান বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাদশাহ নিজে মদ পান করিতেন ও অন্যান্যদের মদ্য পানে উদ্বুদ্ধ করিতেন।

১০। নব ধর্মমতে সুদ-জুয়া, এমনকি যেনা পর্যন্ত বৈধ ঘোষিত হয়। বাদশাহ আকবরের নির্দেশে "শয়তান পুরে" একটি জুয়ার ঘর স্থাপিত হয় এবং জুয়ারীদেরকে রাজভান্ডার হইতে সুদে টাকা ধার দেওয়া হয়।

১১। দীনে এলাহীতে দাড়ীমন্ডন বৈধ ঘোষণা করা হয়। পুরুষদের জন্য রেশমী কাপড় বৈধ ঘোষণা করা হয়। পর্দা প্রথা তুলিয়া নেওয়া হয়।

১২। বিবাহ সংক্রান্ত আইন প্রবর্তন করা হয়। খালাতো, ফুপাতো, মামাতো, চাচাতে বোনকে বিবাহ অবৈধ বা হারাম ঘোষণা করা হয়।

১৩। খাতনা সম্পর্কে এই নির্দেশ দেওয়া হয় যে, বার বছরের পূর্বে কোন ছেলের খাতনা দেওয়া চলিবে না।

১৪। মৃতের দাফন সম্পর্কে এই নির্দেশ দেওয়া হয় যে, দাফনের সময় এই খেয়াল অবশ্যই রাখিতে হইবে, যেন মৃতের মস্তক পূর্ব দিকে এবং পদদ্বয় পশ্চিম দিকে থাকে। মুলতঃ কাবা শরীফের অবমাননার জন্য এমন নির্দেশ প্রদান করা হয়। বাদশাহ আকবর নিজেও শয়ন কালে স্বীয় পদদ্বয়কে কেবলার দিকে রাখিয়া শয়ন করিতেন। মামল

১৫। নব ধর্মে গরু জবাই বা কোরবানী নিষিদ্ধ করা হয়।

১৬। গরু মহিষ, উট, বকরীর গোশত যাহা ইসলামী দৃষ্টিকোণে হালাল তাহা হারাম ঘোষণা করা হয় এবং বাঘ, ভাল্লুক, কুকুর, বিড়ালের গোশতকে হালাল করিয়া দেওয়া হয়।

১৭। আরবী এলেম শিক্ষা করাকে রাষ্ট্রীয় বিধানে অমার্জনীয় অপরাধ রূপে সাব্যস্ত হয়। ফলে বহু আলেম-উলামা দেশ ত্যাগে বাধ্য হন। মাদ্রাসা সমূহ বিরাণ হয়। এই সুযোগে বিধর্মীরা বহু মসজিদকে মন্দিরে পরিণত করে।

১৮। নবধর্মে একাদশীর দিনে উপবাস থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। অথচ রমজানে রোজা না রাখিবার প্রতি আদেশ দেওয়া হইত। আকবর তাঁহার সভাসদদিগকে এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতেন যে, তাহারা যেন মাহে রমজানে দরবারে প্রকাশ্যে পানাহার করেন। যদি তাহাদের কাহারোও পানাহারের ইচ্ছা না থাকে, তবে তিনি যেন কম পক্ষে মুখে পান পুরিয়া দরবারে আসেন। যদি এইরূপ না করা হয়, তবে তাহাকে রোজা রাখার অপরাধে পাকড়াও করা হইত।

১৯। 'নওরোজ" উৎসবের দিনে দরবারের আলেম-ওলামা, কাজী মুফতী, সকলের জন্যই মদ্যপান বাধ্যতামূলক ছিল।

২০। দীনে এলাহীর অনুসারীদেরকে একে অন্যের সহিত সাক্ষাত হইলে "আস্সালামু আলাইকুম'-এর পরিবর্তে "আল্লাহু আকবর' এবং তদুত্তরে "জাল্লা জালালুহু মা আকবার শানুহু" বলার নির্দেশ দেওয়া হইয়াছিল।

২১। দীনে এলাহীর ভক্তদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়, তাহারা যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ চিঠিপত্রের শিরোনামে 'আল্লাহ' নামের সাথে 'আকবর' নামটি অবশ্যই লিখে। অন্যথায় নতুন আইনে ইহা দন্ডনীয় অপরাধ বলিয়া সাব্যস্ত হইবে।

২২। নতুন এই ধর্মে অগ্নি পূজাকে বাধ্যতামূলক করা হয়। আকবর নিজে অগ্নিপূজা করিতেন এবং আবুল ফজলকে তাহার দরবারে "শিখা অনির্বাণ' প্রজ্জ্বলিত রাখিবার নির্দেশ দেন। সম্রাট আকবর দরবারে প্রদীপ জ্বালাইবার সময় দন্ডায়মান হইয়া উহার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা সভাসদদের প্রতি বাধ্যতামূলক করেন।

২৩। দীনে এলাহীতে নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত, এমনকি ঐ সমস্ত বিষয় যাহা নবুয়তের সহিত সম্পর্কিত, তাহার নাম দেওয়া হয় 'অন্ধবিশ্বাস"। এই সমস্ত ব্যাপারকে অবাস্তব আখ্যা দেওয়া হয়।

২৪। নব ধর্মে ইহাও বিশ্বাস করিতে হইত যে, কোরান শরীফ আল্লাহর অহী নয়; ইহা নবী করীম (সাঃ) এর রচিত গ্রন্থ।

বাদশাহ আকবরের মদদে মুসলমানদের উপরে 'দীনে-এলাহী'র অনুসারীদের অত্যাচার। মুসলমানদের চরম দুরবস্থাঃ

দীনে এলাহীর আলোচনা থেকে ইহাই প্রমাণিত হয়, বাদশাহ আকবরের উদ্দেশ্যই ছিল দীনে ইসলামের ধ্বংস সাধন এবং ইসলামী তাহজিব- তমুদ্দুন' কে নিশ্চিহ্ন করিয়া দেওয়া। এতদ্ব্যতীত ইহাও স্পষ্ট হয় যে, আকবর গদি রক্ষার স্বার্থে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে ৯৫ শতাংশ হিন্দু প্রজাদের মনোরঞ্জনেরও চেষ্টা করিয়াছেন। আর তাই হিন্দু ধর্মীয় রীতি-নীতির সংযোজন করেন সর্বাপেক্ষা বেশী। ফলে হিন্দু হয়ত সুচতুর আকবর তাহার নব প্রবর্তিত দীনে এলাহীর নীতি-মালায় সমাজ আনন্দিত হয়, উৎফুল্ল হয়। তাহারা পূর্বাপেক্ষা অধিক বেগে মুসলমানদের উপর নির্যাতন করিতে থাকে। মুসলমানদের জন্য ইসলাম প্রচার দুঃসাধ্য কর্মে পরিগণিত হয়। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব সেই সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "মুসলমানরা ইসলাম প্রচার করিতে পারিত না। যদি কেহ উহা প্রচারে সচেষ্ট হইত, তবে তাহাকে হত্যা করা হইত।" (মকতুবাত শরীফ, ১ম খন্ড, মকতুব নং-৪৬)

মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের সংস্কারমূলক কর্মকান্ডঃ

মুসলমানদের চরম দুর্দিনে আসমানী মদদ লইয়া আবির্ভূত হন হাজারী মুজাদ্দেদ হযরত শায়খ আহমদ সেরহিন্দী (রাঃ) ছাহেব। তিনি সুদূর প্রসারী এক সংস্কার কর্মসূচী হাতে নেন এবং ধর্মদ্রোহী শাসকগোষ্ঠীর ছোবল থেকে ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম জাতিকে রক্ষা করেন। সকল বেদীনী কার্যকলাপকে ধ্বংস করিয়া তদস্থলে আল্লাহতায়ালার কানুন বা শরীয়তের আইন প্রতিষ্ঠা করেন।

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের সংস্কারমূলক কর্মকান্ডের আলোচনার পূর্বে বাদশাহ আকবরের পুত্র সম্রাট জাহাংগীরের পরিচয়, প্রকৃতি বা স্বভাব ও কর্মকান্ড সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা প্রয়োজন।

অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে বাদশাহ আকবর তদপ্রবর্তিত দীনে এলাহীর উপরেই ইন্তেকাল করেন। আকবরের মৃত্যুর পরে সম্রাট জাহাংগীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তিনিও আকবর প্রবর্তিত দীনে এলাহীর একজন অনুসারী বা চেলা ছিলেন। পিতার মত তিনিও 'সূর্য পূজা', 'প্রদীপ পূজা' করিতেন। 'দশহরা' ও 'দীপালী' উৎসবে তিনিও পিতার ন্যায় যোগদান করিতেন এবং রাখী বন্ধনের প্রতীক গ্রহণ করিতেন। নিজে শরাব পান করিতেন ও অন্যদেরকে শরাব পানে অনুপ্রাণিত করিতেন। দীনে এলাহীর সমস্ত আইন কানুনই তিনি বলবৎ রাখেন। আকবর হিন্দুদের উপর থেকে জিযিয়া ও তীর্থকর রহিত করিয়াছিলেন।

সমাট জাহাংগীরও তাহা বলবৎ রাখেন। সেজদা প্রথাও পূর্ববৎ চালু থাকে। মোটকথা, পুত্র জাহাংগীর পিতা আকবরের সুযোগ্য সন্তানের ভূমিকাই পালন করেন।

ফলে দেশের বাদশাহ ও অমাত্যবর্গের স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রবৃত্তিপরায়ণতার উদ্যাম সয়লাবে ভাসিয়া যায় ইসলামী আদর্শ ও বিপন্ন হয় আল্লাহর হাবীবের সুন্নত; নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হয় মুসলিম জাতি।

এই সময়ে তথা আকবর ও জাহাংগীরের রাজত্বকালে সমগ্র ভারতে বেশ কয়েকজন হক্কানী আলেম ও আউলিয়া কেরাম ছিলেন। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রঃ) ছাহেব বলেন, "এই সময়ে কেবলমাত্র দিল্লী শহরেই মওজুদ মনীষীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাব বোখারী, শাহ মুহাম্মদ খেয়ালী, শায়খ আব্দুল আযীয চিশতী শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী (রঃ) প্রমুখ। এই বুযুর্গদের প্রত্যেকেই কারামত সম্পন্ন ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে ইমাম সদৃশ ছিলেন। তাহাদের লিখিত অসংখ্য পুস্তকও মওজুদ' আছে।"

শাহ ছাহেব বলেনঃ গঙ্গুহে শায়খ আব্দুল কুদ্দুস গংগুহী (রঃ) ও তাঁহার আওলাদগণ বর্তমান ছিলেন। তাঁহারা সকলেই শরীয়ত ও মারেফাতের জ্ঞানে অদ্বিতীয় ছিলেন। কিন্তু মৃতপ্রায় শরীয়ত ও সুন্নত রক্ষায় ধর্মদ্রোহী আকবর ও জাহাংগীরের বদ-দীনী কার্যকলাপ তথা দীনে এলাহীর বিরুদ্ধে কেহই রুখিয়া দাঁড়ান নাই। একমাত্র হাজারী মুজাদ্দেদ হযরত শায়খ আহমদ সেরহিন্দী (রাঃ) ছাহেব শাহী ফেতনার বিরুদ্ধে লৌহ-কঠিন মনোবলে হিমালয়ের মত রুখিয়া দাঁড়ান, দীনে এলাহীর বিরুদ্ধে মজবুত প্রাচীর গড়িয়া তোলেন; ধীরে ধীরে দীন ইসলাম বিরোধী সমুদয় কার্যকলাপ সমূলে ধ্বংস করিয়া তথায় ইসলামী কানুন প্রতিষ্ঠা করেন।

এই প্রসংগে “উলামা-ই-হিন্দ বা শানদার মাযী" গ্রন্থের প্রণেতা মাওলানা সাইয়িদ মুহাম্মদ মিয়া মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের সংস্কারমূলক কর্মকান্ড ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি আলোকপাত করিয়া বলিতেছেনঃ

"আকবর ও জাহাংগীরের আমলে কেবল হিন্দুস্থানেই নয় বরং কাবুল, তুর্কীস্থান ও খোরাসানে দীন ইসলামের অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। সকলেই দীনের দুরবস্থার জন্য দুঃখ প্রকাশ করিত কিন্তু কেহই উহার সংস্কারের জন্য সচেষ্ট হইত না। হিন্দুস্থানে সবচেয়ে বড় মুসিবত ছিল এই যে, আম ও খাস-সকলের উপর তাছাউফের রং এত গভীর প্রভাব

বিস্তার করিয়াছিল, যাহা ছিল অবর্ণনীয়। কিন্তু প্রকৃত তাছাউফের পবিত্রতা বরং এক প্রকারের খেয়াল খুশী ও স্বেচ্ছাচারিতাকে তরিকতের গোপন মুখতা ও বিদ'আতের সংমিশ্রণে, একেবারেই কলুষিত হইয়া পড়িয়াছিল।

তথ্যের আখ্যায় আখ্যায়িত করিয়া লোকদিগকে ধোকা দেওয়া হইত। সাধারণ লোকেরা শরীয়তের শিক্ষা পরিত্যাগ করায় গোমরাহীতে নিমজ্জিত হইত। একদিকে ভন্ড সূফীদের খানকার বেড়াজাল সারা দেশকে আবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছিল। অন্যদিকে আকবরী শাসনের প্রভাবে চতুর্দিকে বিদ'আত বিস্তার লাভ করে এবং এই কর্মে উলামায়ে ছু (অসৎ আলেম) ও দুনিয়াদার সুফী নামধারীগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এই ফেতনা প্রতিরোধ করিবার শক্তি আল্লাহতায়ালা একমাত্র হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবকেই প্রদান করেন।"

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বাদশাহকে সংশোধন করিবার পূর্বে প্রথমে বাদশাহের আমীর উমরাহদের হেদায়েতের পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তিনি অমাত্যবর্গের উপরে তাওয়াজ্জুহ শক্তি প্রয়োগ করেন। ফলে আমীর উমরাহদের অনেকেই তাঁহার মুরীদ ও ভক্ত হন। মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব ধীরে ধীরে অত্যন্ত যত্ন ও সতর্কতার সাথে তাহাদিগকে তালিম দেন। ফলে দ্রুতই অমাত্যবর্গের অনেকেই দীনে এলাহীর প্রভাবমুক্ত হন; বদদীনী কার্যকলাপ পরিত্যাগ করেন। তাঁহাদের দেলে আল্লাহ রাসূলের মহব্বতও পয়দা হয়।

অমাত্যবর্গ বা বাদশাহের আমীর উমরাগণের মধ্যে প্রভাবশালী যে সকল ব্যক্তি হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানীর (রাঃ) তাওয়াজ্জুহতে সংশোধিত হন, তাহাদের মধ্যে অন্যতম হইলেন; আব্দুর রহমান খান খানান, খান জাহান, খান আজম, সদরে জাহান, মীর্জা দারা, কালীজ খান, নওয়াব শায়খ ফরিদ, হাকিম ফতুহুল্লাহ, শায়খ আব্দুল ওয়াহাব, সৈয়দ মাহমুদ, সৈয়দ আহমদ প্রমুখ। এই সকল ব্যক্তিবর্গ সম্রাট জাহাংগীরের দরবারের স্তম্ভস্বরূপ ছিলেন।

মুজাদ্দেদ ছাহেব প্রথমে এই সকল ব্যক্তিবর্গকে সংশোধন করেন। তৎপর ইহাদেরই মাধ্যমে বাদশাহকে সংশোধনের চেষ্টা করেন। উল্লিখিত অমাত্যবর্গের নিকট লিখিত পত্রাবলী (যাহা মকতুবাত শরীফে সন্নিবেশিত আছে) থেকেই ইহার প্রমাণ পাওয়া যায়।

খান আযম ছিলেন বাদশাহ আকবরের উমরাহগণের অন্যতম। বাদশাহ জাহাংগীরের রাজত্বকালেও তিনি বিশিষ্ট মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) ইরশাদ করিয়াছেনঃ ইসলাম ইহার প্রারম্ভে হযরত মুজাদ্দেদ (রাঃ) ছাহেব তাহাকে লিখিতেছেনঃ সত্য সংবাদদাতা কাজেই ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করিবার লক্ষ্যে যাহারা অন্যের চোখে যেমন অপরিচিত ছিল, অচিরেই উহা পুনরায় অপরিচিত হইয়া যাইবে। অপরিচিত ও অপছন্দনীয় হয়-তাহাদের জন্য খোশ-খবর। বর্তমানে ইসলাম ধর্মের অসহায়তা ও করুণ অবস্থা এই পর্যায়ে পৌছিয়াছে যে, কাফেরগণ প্রকাশ্যভাবে ইসলামের দোষারোপ করিতেছে। তাহারা মুসলমানদের বদনাম করিতেছে এবং নির্ভয়ে কফরী হুকুম আহকাম জারী করিয়া বাজার, রাস্তাঘাট, অলিগলিতে নিজেদের প্রশংসা করিতেছে অপরপক্ষে মুসলমানদের জন্য ইসলামী হুকুম আহকাম প্রচার করা নিষেধ।

সুবাহানাল্লাহে ওয়া বেহামদিহী। কথিত আছে যে, “শরীয়ত তরবারীর ছায়ার নীচে।" কেননা প্রকৃতপক্ষে শরীয়তের সৌন্দর্য বাদশাহের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আফসোস! এখানে ব্যাপারটি বিপরীত। ইহা কতই না হৃদয় বিদারক!

বর্তমানে আপনার ব্যক্তিত্বের মর্যাদা অনেক বেশী। আমরা এই ধর্ম যুদ্ধে দুর্বল ও পরাজিত। কেবল আপনার মুখের দিকে আশান্বিত হইয়া চাহিয়া আছি। আল্লাহতায়ালা যেন আপনাকে এই ধর্মযুদ্ধে সাহায্য করেন। (মকতুব নং ৬৫, ১ম খন্ড)

বৈরাম খানের ভাগিনা খান জাহান ছিলেন বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন, যাহার প্রভাব ও প্রাধান্য রাজত্বের অধিকাংশ আমীর উমরাহদের উপর ছিল। চিঠির মাধ্যমে খান জাহানকে দীনের প্রচার ও প্রসারে সাহায্য করিবার জন্য, বিশেষ করিয়া বাদশাহের কর্ণে সত্য ইসলামের নির্ভুল আকীদা সমূহ পেশ করিবার তাগিদ দেন। এই প্রসংগে তিনি খান জাহানকে বলেন, “এই মহীয়ান বাদশাহ (জাহাংগীর) যখন আপনার কথা ভালভাবে শ্রবণ ও গ্রহণ করিতে পারেন বলিয়া মনে হয়, তখন ইহা বড় দৌলত হইবে যে আপনি প্রকাশ্যে বা ইশারা-ইংগিতে আহলে সুন্নাতুল জামাতের আকীদাগুলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ কলিমা-ই-হক তথা কলিমা-ই-ইসলামকে তাহার কর্ণে পৌছাইয়া দেন এবং যতদূর সম্ভব আহলে হকের কথাগুলি তাহার সম্মুখে পেশ করুন। আর সব সময় এই রূপ সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন যাহাতে মাযহাব ও মিল্লাতের বিষয় আলোচনা আরম্ভ হয়। কুফর" যে বাতিল ইহা দিবালোকের ন্যায় নির্ভীক চিত্তে ইহার অসারতা প্রকাশের সংগে সংগে অনতিবিলম্বে ইহাদের স্পষ্ট ও সত্য। কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কখনই কফরী পছন্দ করেন না। মিথ্যা মাবুদগুলির অসারতা প্রমাণ পূর্বক মাবুদে বরহক বা সত্য মাবুদকে প্রতিষ্ঠা করা একান্ত দরকার।

বস্তুতঃ কাফেরদের ধর্ম বাতিল ও মুসলমানদের মধ্যে যে ব্যক্তি হক ও সরল পথ হইতে বিচ্যুত হইয়াছে, সে বিভ্রান্ত ও কুপথগামী। একমাত্র সরলপথ হইতেছে-হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রদর্শিত পথ বা তরীকা।

তিনি আরো বলিতেছেনঃ এখন আমি প্রকৃত ব্যাপার বিধৃত করিতেছি যে, বাদশাহ হইলেন আত্মা স্বরূপ এবং অন্য সকল মানুষ বা প্রজাবৃন্দ শরীর স্বরূপ। আত্মা সুস্থ্য থাকিলে যেমন শরীর ভাল থাকে, তদ্রুপ আত্মা রোগাক্রান্ত হইলে শরীরও রোগগ্রস্ত হয়। কাজেই বাদশাহের সংশোধনের উপর রাজ্যের প্রজাবৃন্দের সংশোধন নির্ভরশীল। বাদশাহের এল্লাহ (সংশোধন) হইতেছে যে, সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখিয়া যেই প্রকারেই হউক কলেমা-ই-ইসলামকে যেন তাহার নিকট প্রচার ও প্রকাশ করা হয়। কলেমা-ই-ইসলামের পর সুন্নী জামাত পন্থীদের আকীদাগুলি সময় ও সুযোগমত বাদশাহের কানে পৌঁছানো দরকার এবং বাতিল মাযহাব পন্থীদের রদ বা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এই সম্পদ হস্তগত হইলে নবী (আঃ) গণের মীরাস বা সম্পত্তি হস্তগত হয়। আপনি এই সম্মান বিনাকষ্টে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করিয়াছেন। কাজেই ইহার কদর বা সম্মান করুন।" (মকতুব নং ৬৭, দ্বিতীয় খন্ড; মকতুবাত শরীফ)

উল্লিখিত মকতুবে মুজাদ্দেদ ছাহেবের বক্তব্য থেকে ইহা স্পষ্ট হয় যে, তিনি প্রথমে আমীর উমরাহদের হেদায়েত করিয়া তৎপর তাহাদেরই মাধ্যমে বাদশাহকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনয়নে চেষ্টা করেন।

অমাত্যবর্গ বা আমীর উমরাহগণের মাধ্যমে বাদশাহকে সংশোধনের যে চেষ্টা হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব করেন, তাহাতে দ্রুত কামিয়াবীর লক্ষণ ফুটিয়া উঠে।

বাদশাহ জাহাংগীরের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ইসলামের প্রতি তাহার মন আকৃষ্ট হয়। একদা তিনি শায়খ ফরিদকে আদেশ করেন, "দরবারের জন্য এই রূপ চারজন দীনদার আলেম মনোনীত করুন যাহারা শরীয়তের মাসলা-মাসায়েলগুলি লোকদিগকে শিক্ষা দিতে পারে।"

ইহা শ্রবণে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) অতিশয় খুশী হন এবং শায়খ ফরিদ ও সদরে জাহানের নিকট দ্রুত দুই খানি পত্র লেখেন। সেই পত্রে তাহাদেরকে সতর্ক করিয়া দেন যে, দুনিয়াদার কোন আলেমকে যাবতীয় অনিষ্টের মূল। তিনি হক্কানী আলেম নির্বাচন করার জোর যেন দরবারে নিয়োগ করা না হয়। কারণ দুনিয়াদার আলেমসমাজ তাগিদ দেন। (মকতুবাত শরীফ, ১ম খন্ড, মকতুব নং ৫৩)

মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের কারাবরণঃ

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বাদশাহকে সংশোধনে যখন অনেকখানি আগাইয়া গিয়াছেন, এমন সময় দেখা দেয় আর এক ফেতনা। যাহা ইতিহাসে "নূরজাহানী ফেতনা" নামে অভিহিত।

সম্রাজ্ঞী নূরজাহান ছিলেন শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। দীর্ঘদিন যাবৎ উপমহাদেশে শিয়া ও সুন্নীর মধ্যেকার দ্বন্দু চলিয়া আসিতেছিল। নূরজাহান সম্রাজ্ঞী হওয়াতে এই দ্বন্দ্ব আরও তীব্রতর হয়। বাদশাহ জাহাংগীর ছিলেন নূরজাহানের হাতের পুতুল। নূরজাহান ছিল শিয়া সম্প্রদায়ের স্তম্ভ স্বরূপ। শিয়ারা দেখিলঃ দিল্লীর ক্ষমতা যেহেতু নূরজাহানের নিয়ন্ত্রণে এবং নূরজাহানের ভ্রাতা আসফ খান সম্রাট জাহাংগীরের উজির। কাজেই, সুন্নীদের কোণঠাসা করিবার এখনই উপযুক্ত সময়।

শিয়া মতবাদ প্রচার করার এই অপূর্ব সুযোগ হাতছাড়া করা উচিৎ নয় চিন্তা করিয়া শিয়ারা আসফ খানের যোগসাজশে নূরজাহানের মাধ্যমে শিয়া মতবাদের প্রচার ভিত্তিক কর্মকান্ড চালাইতে লাগিল। ইহাতে বাঁধা দান করিলেন হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব। তিনি শিয়া মতবাদের অসারতা ও ভিত্তিহীনতা প্রমাণে পুস্তকাদি রচনা করিলেন। ইহাতে নূরজাহান খুবই রুষ্ট হইলেন। পরিশেষে নূরজাহান ও তাহার ভ্রাতা আসফ খানের চক্রান্তে বাদশাহ সেজদা না করিবার অভিযোগে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবকে গোয়ালিয়রের দুর্গে বন্দী করিয়া রাখিবার নির্দেশ দিলেন।

মুজাদ্দেদ ছাহেব কারাবন্দী হইলেন। দিকে দিকে খবর ছড়াইয়া পড়িল। জাহাংগীরের প্রশাসন যন্ত্রে বিশেষ বিশেষ আমীর উমরাহগণ যাহারা মুজাদ্দেদ ছাহেবের মুরীদ ছিলেন, তাহারা আপন মুর্শেদের উপর সম্রাটের নির্যাতনে বাদশাহের উপর ভীষণ রুষ্ট হন এবং ভিতরে ভিতরে তাহারা একটি বিদ্রোহী দল তৈরী করেন। এদিকে আপন পীরের কারাবন্দীর সংবাদে দেশে বিদেশে মুজাদ্দেদ ছাহেবের যত মুরীদান ও আশেকান ছিলেন-তাহারাও সংগঠিত হন। বিশেষ করিয়া বেলুচিস্তানের তদানীন্তন শাসনকর্তা মহব্বতখান এই বিদ্রোহী দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। অন্যান্য শাসনকর্তাগণ গোপনীয়ভাবে নিজ নিজ সেনাবাহিনীকে মহব্বত খানের নিকট প্রেরণ করেন। কাবুল ও পেশোয়ারের বীর পাঠানরাও মহব্বত খানের পতাকাতলে সমবেত হন।

দুর্জয় এক সৈন্যবাহিনী লইয়া মহব্বত খান সম্রাট জাহাংগীরকে শায়েস্তা করিবার জন্য দিল্লীভিমুখে রওয়ানা হন। খবর পাইয়া সম্রাট জাহাংগীর বিরাট একদল সৈন্য লইয়া কাবুলের দিকে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে ঝিলাম নদীর তীরে একস্থানে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। যুদ্ধে মহব্বত খানের নিকট সম্রাট জাহাংগীর পরাজিত হন; বন্দী হন। উজির আসফ খানও বন্দী হন। সম্রাজ্ঞী নূরজাহান বাদশাহ ও আসফ খানের পরাজয় ও বন্দীত্বের সংবাদ পাইয়া আরও এক শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী লইয়া সাহায্যের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন। কিন্তু তিনিও বন্দী হন।

কারাগার হইতে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব এই যুদ্ধের সংবাদ পান। তিনি জানিতে পান, বাদশাহ জাহাংগীর বন্দী, নূরজাহান বন্দিনী এবং নূরজাহানের ভাই আসফ খানও বন্দী। এই সংবাদ পাইয়া তিনি মহব্বত খানসহ তদীয় আমীর উমরাহগণের প্রতি এক বাণী পাঠান। সেই বাণীতে তিনি বলেন, "আমি সিংহাসনের লোভী নই; যুদ্ধ বিগ্রহ আমি পছন্দ করি না। আমি যে কারাজীবনের তল্লীফ বরণ করিয়া লইয়াছি, তাহা এক মহৎ উদ্দেশ্যেই। আমার সেই উদ্দেশ্য আল্লাহর দয়ায় যখন সফল হইবে, তখন আপনা হইতে আমার মুক্তির ব্যবস্থা হইবে। তোমরা যে পথে অগ্রসর হইতেছ, ইহা আমার অভিপ্রেত নয়। উদ্দেশ্য সফলতার পথে ইহা বিঘ্নই সৃষ্টি করিবে। সুতরাং অবিলম্বে যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ করিয়া সম্রাটকে মুক্তি দাও ও তাহারই অনুগত হইয়া চল। বৃহত্তর কল্যাণের জন্য আমি তোমাদিগকে এই উপদেশ দিতেছি। ইনশাল্লাহ, আমি অচিরেই মুক্তি লাভ করিব।"

পীরের নির্দেশ পাইয়া মহব্বত খান সম্রাট জাহাংগীর, সম্রাজ্ঞী নূরজাহান ও অপরাপর বন্দীদের মুক্তি দেন। সম্রাট জাহাংগীর পুনরায় সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।

কারামুক্তিঃ

উল্লিখিত ঘটনায় সম্রাট জাহাংগীর ভাব-বিহবল হন। তিনি মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের মহানুভবতায় অভিভূত হন এবং তাঁহার (মুজাদ্দেদ ছাহেবের) কারামুক্তির নির্দেশ দেন। কিন্তু সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের চক্রান্তে সেই নির্দেশও বাস্তবায়িত হইতে বিলম্ব হয়। এমন সময় একদা বাদশাহ জাহাংগীর স্বপ্নে দেখেনঃ রাসূলে পাক (সাঃ) তাহাকে ধমকের সুরেই বলিতেছেন, জাহাংগীর, ইমামে রাব্বানী মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের কারামুক্তির ব্যাপারে গড়িমসি চলিতেছে কেন? অবিলম্বে তাহাকে মুক্তি দেওয়া হউক। এই স্বপ্ন দেখিয়া বাদশাহ ভীত হইয়া হযরত মুজাদ্দেদ ছাহেবের নিকট তাঁহার মুক্তির ব্যাপারে অনিচ্ছাকৃত বিলম্বের জন্য ক্ষমা চাহিয়া একটি পত্র ও পত্রের সাথে মুক্তির নির্দেশনামা পাঠাইয়া দেন। মুক্তির নির্দেশনামা পাইয়া মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব সম্রাটের প্রতি লেখেন, আমি কারা মুক্তি লাভ করিতে রাজী আছি, যদি আপনি আমার কতিপয় শর্ত মানিয়া লন। শর্তগুলো যথাক্রমেঃ-

১। সেজদা প্রথা বাতিল করিতে হইবে।

২। সমগ্র ভারতবর্ষে আপনার পিতার আমল হইতে এই পর্যন্ত যতগুলি মসজিদ ধ্বংস করা হইয়াছে, সেইগুলির পুনঃনির্মাণের ব্যবস্থা করিতে হইবে এবং রাজ দরবারের সদর দরজার সামনে একটি মসজিদ তৈরী করিতে হইবে।

৩। গরু জবেহ সম্পর্কে যে নিষেধাজ্ঞা চলিয়া আসিতেছে, তাহা বাতিল করতঃ মুসলমানদিগকে এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করিতে হইবে। আর আপনাকে নিজ হাতে গরু জবেহ করিতে হইবে।

৪। ইসলামী বিচার ব্যবস্থা চালু করিতে হইবে এবং ইসলামী বিধান মোতাবেক কাজী নিয়োগ করিতে হইবে।

৫। অমুসলিম প্রজাদের উপর ইসলাম জিযিয়া কর প্রবর্তন করিয়াছে। আপনার পিতার আমল হইতে তাহা রহিত আছে, পুনরায় তাহাদের উপর জিযিয়া কর প্রবর্তন করিতে হইবে।

৬। আপনার দরবারে যত ইসলাম বিরোধী রীতি-নীতি চালু আছে, সব বর্জন করিতে হইবে এবং সারা দেশে প্রচলিত যাবতীয় বেদাত ও কুসংস্কারের মূল ক্রমান্বয়ে উচ্ছেদ করিতে হইবে।

৭। সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দিতে হইবে।

সম্রাট জাহাংগীর হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) এর সব কয়টি শর্তই মানিয়া লন এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় তাহার মুক্তির ব্যবস্থা করেন। এমনিভাবে হাজারী মুজাদ্দেদ (রাঃ) ছাহেব তদীয় মহান আত্মার তাওয়াজ্জুহ বলে এক রক্তপাতহীন বিপ্লবী সংস্কার কর্মকান্ড সম্পাদন করেন। তাহার হেকমত ও কৌশলে দীনে এলাহীর মূলোচ্ছেদ হয়, সমস্ত বদ-দীনী কার্যকলাপ রহিত হয়; মোগল সাম্রাজ্যে পুনরায় ইসলামী হুকুমত জারী হয়; নির্যাতিত ও অত্যাচারিত মুসলিম জাতি স্বস্তি ও শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

মুজাদ্দেদীয়া তরিকায় হযরত এনায়েতপুরী (কৃঃ) ছাহেবের মর্যাদাঃ

মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের পরে এই তরিকার ভিতর দিয়া এক একজন করিয়া মুজাদ্দেদ আসিতেছেন- যিনি মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবেরই প্রতিনিধি স্বরূপ সংস্কারমূলক (জাগতিক ও আধ্যাত্মিক) কর্মকান্ড সম্পাদন করিতেছেন। মুজাদ্দেদ ছাহেবের পরে যতজন প্রতিনিধি দুনিয়ার বুকে কদম রাখিয়াছেন তাহাদের মধ্যে আমার পীর কেবলাজান সর্বদিক দিয়া শ্রেষ্ঠতম-জ্ঞানে, গুণে, মর্যাদায়, মাহাত্ম্যে, সংস্কার বা সংশোধনমূলক কর্মকান্ড সম্পাদনে আমার পীরের সম আসমানের নীচে আর দৃষ্ট হয় না।

তিনি এখন দুনিয়াতে নাই। তদীয় নেয়ামতের ডালা তিনি এই অধীনের মস্তকে রাখিয়া গেছেন এবং বলিয়াছেন, "তোকে যারা ভালবাসবে, তারা মুজাদ্দেদ ছাহেবের কোলে থাকবে।"

কাজেই, হে জাকেরান সকল! তোমরা যদি খোদাতায়ালাকে পাইতে চাও, তবে যে পথ-নির্দেশনা তোমাদিগকে দেওয়া হইতেছে সেই অনুযায়ী চল। পীরকে ভালবাস সবচেয়ে বেশী। আমি দু'আ করি, তোমরা যাহাতে মাঞ্জিলে মাছুদে পৌঁছাইতে পার। আমীন!

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD