Logo

আজ পবিত্র হজ, আরাফাতের ময়দানে সমবেত হচ্ছেন লাখো হাজি

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৬ মে, ২০২৬, ১১:৩৭
আজ পবিত্র হজ, আরাফাতের ময়দানে সমবেত হচ্ছেন লাখো হাজি
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৯ জিলহজ, পবিত্র হজের মূল দিন। সৌদি আরবে মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাতের ময়দানে সমবেত হচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার থেকেই হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের তাঁবুর নগরী মিনায় অবস্থান নিয়েছেন আল্লাহর মেহমানরা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ফজরের নামাজের পর মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হবেন। সেখানে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হবে, লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হয়েছি। আপনার কোনো শরিক নেই। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব একমাত্র আপনারই। আপনার কোনো অংশীদার নেই।

বিজ্ঞাপন

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হলো হজ। আর হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ হলো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা সেখানে অবস্থান করবেন, দোয়া ও ইবাদতে মশগুল থাকবেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।

আরাফাতের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হবে। এরপর এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন হাজিরা। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই তারা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন।

মুজদালিফা থেকে সংগ্রহ করা পাথর দিয়ে ১০ জিলহজ মিনায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। এরপর ধারাবাহিকভাবে কোরবানি, মাথা মুন্ডন বা চুল ছাঁটা এবং তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী দিনগুলোতেও মিনায় অবস্থান করে জামারাতে পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে। বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

বিজ্ঞাপন

ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হন, তখন শয়তান তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। সেই ঘটনার স্মরণেই জামারাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন হাজিরা।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের হজে বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশ থেকে মুসল্লিরা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অংশ নিয়েছেন ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী। তাদের জন্য মিনায় ও আরাফাতে বিশেষ ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা এবং হজ মিশনের তদারকি কার্যক্রম চালু রয়েছে।

এদিকে, সৌদিতে তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজিরা। সোমবার দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা ও আড়াই লাখ কর্মকর্তা হজ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা ও তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে হজ ব্যবস্থাপনায়।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD