Logo

কারবালার ইতিহাসের তাৎপর্য

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৯ আগস্ট, ২০২৬, ২০:১৮
কারবালার ইতিহাসের তাৎপর্য
ছবি: সংগৃহীত

খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে শাহ্সূফি হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত ‘মুহারাম’ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ কারবালার ইতিহাসের তাৎপর্যঃ

বিজ্ঞাপন

মানব ইতিহাসে বহু ত্যাগের কথা আছে, বহু হাহাকার ক্রন্দনের কাহিনী আছে, বহু রক্তে লেখা বীরত্ব গাঁথা আছে, কিন্তু কারবালার কাহিনীর মত এত করুণ, ত্যাগের এত মহিমা আর নাই। আর কোনো যুদ্ধে কোনো বীরের বেদনাময় আত্মত্যাগকে স্মরণ করিয়া এত কোটি কোটি লোক ঘটনার দেড় হাজার বছর পরও এমন ভাবে মাতম করে না।

এই ইতিহাস সকলেরই জানা। ইসলামের চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রাঃ) ছাহেবের ওফাতের পর নবী দৌহিত্র হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেবের ইমামত ও খেলাফতের ক্ষেত্রে মোয়াবিয়া বাঁধা হইয়া দাঁড়াইয়াছিলেন। মোয়াবিয়া হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেবের রাজত্ব কালে ইরাক আক্রমণ করেন। হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেব খেলাফত রক্ষা করিবার জন্য সেনাপতি কায়েছের নেতৃত্বে সৈন্যদল প্রেরণ করেন। যুদ্ধে যখন ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেবের বাহিনীর জয় সুনিশ্চিত; তখন সেনাপতি কায়েছের বিরুদ্ধে মোয়াবিয়ার লোকেরা দোষারোপ সহ গুজব রটাইয়া দিল। ইহাতে ইমাম ছাহেবের বাহিনীর একটি অংশ হতবুদ্ধি হইয়া গেল। যুদ্ধের গতি পরিবর্তিত হইল। হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেবকে সন্ধি করিতে হইল। সেই সন্ধির অন্যতম শর্ত হইল-মোয়াবিয়ার মৃত্যুর পর হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেব বাঁচিয়া থাকিলে তিনি পুনরায় খলিফা ও ইমাম হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করিবেন। হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেবের যদি ইতিমধ্যে ওফাত হয়; তাহা হইলে তদস্থলে হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেব ইমাম হিসেবে অধিষ্ঠিত হইবেন। মোয়াবিয়ার আমীরাতের সময়ে জুমার নামাজে খোতবায় হযরত আলী (রাঃ) এর বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ করা হইত। মোয়াবিয়া সন্ধির শর্ত অনুযায়ী তাহাও বন্ধ করিতে রাজী হইল।

মিথ্যা ছলনা দ্বারা যুদ্ধে ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেবের অনুগত বাহিনীর হাত হইতে পরাজয় এড়াইয়া সিংহাসনে আরোহন করিবার পর মোয়াবিয়া হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেবকে পরামর্শদাতা মারোয়ানের ষড়যন্ত্রে বিষপানে হত্যা করিল। ইহার পর হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেব ও মোয়াবিয়া স্বাক্ষরিত সন্ধি অনুযায়ী মোয়াবিয়ার মৃত্যুর পরে খেলাফত হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেবের নিকট ফিরাইয়া দিতে এজিদ অস্বীকার করিল। মোয়াবিয়া জীবদ্দশায় এজিদকে তাহার অবর্তমানে সিরিয়ার অধিপতি নিযুক্ত করিয়াছিলেন। এজিদ নিজেকে সমগ্র মুসলিম জাহানের খলিফা বলিয়া ঘোষণা করিল। ফলে ইসলাম রক্ষার স্বার্থে ইমাম ছাহেবের জন্য যুদ্ধ অনিবার্য হইল।

বিজ্ঞাপন

ইহাতে মুমিন মুসলমানগণ এজিদের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব প্রদর্শন করিল; কারন ইসলাম কেবল মাত্র একটি রাষ্ট্রীয় বা সমাজ ব্যবস্থা নহে; ইসলাম হইল আল্লাহতায়ালার নিকট বান্দার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ইহলৌকিক ও পারত্রিক শান্তি লাভের পদ্ধতি। আল্লাহতায়ালাকে চিনিবার জন্য প্রয়োজন আল্লাহতায়ালাকে সনাক্ত করা ও তাহার রাজীতে রাজী হওয়া। আল্লাহতায়ালার রাজীতে রাজী হইবার জন্য হৃদয়ের পবিত্রতা ও ইসলামের শরীয়ত ও সুন্নতের প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য একান্ত প্রয়োজন। প্রয়োজন কেবলমাত্র আল্লাহতায়ালাকেই হৃদয়ে ধারণ করা ও আল্লাহতায়ালা ব্যতীত সকল পার্থিব বস্তুর মোহ ত্যাগ করিতে পারা। ইসলামের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা এমনই এক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা যে সমাজে এমন পরিবেশ বিদ্যমান থাকে, যে পরিবেশে জনগণ আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করিতে শিক্ষা করে ও আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের অনুপ্রেরণা পায়। তাই আল্লাহতায়ালার পক্ষ হইতে হেদায়েত করিবার যোগ্য ও হেদায়েত কার্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির পথ নির্দেশনা ব্যতীত প্রকৃত ইসলামী সমাজ টিকাইয়া রাখা সম্ভব নয়।

আল্লাহতায়ালার পরিপূর্ণজ্ঞান বিশ্ব মানবের জন্য আল্লাহপাক ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর মাধ্যমেই প্রদান করিয়াছিলেন। হযরত আলী (রাঃ) ছাহেব ছিলেন হযরত নবী করীম (সাঃ) এর চাচাতো ভাই এবং যুবকদের মধ্যে তিনিই প্রথম ইসলাম কবুলকারী। ইসলামের পক্ষে যুদ্ধে তাহার বীরত্ব ও নবী করীম (সাঃ) এর প্রতি তদীয় আনুগত্য সর্বজন বিদিত। হযরত নবী করীম (সাঃ) এর হাদীসে উক্ত আছে "আমি জ্ঞানের শহর ও আলী তাহার প্রবেশ দ্বার।” এই উক্তি দ্বারা বোঝা যায়; হযরত আলী (রাঃ) ছাহেবও খোদাতত্ত্ব জ্ঞানে জ্ঞানী ছিলেন। হযরত নবী করীম (সাঃ) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেবও ছিলেন ইসলামের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত ও আদর্শে আদর্শবান, খোদাতত্ত্ব জ্ঞানে মহাজ্ঞানী ও আল্লাহতায়ালা দ্বারা নিযুক্ত তাহার পক্ষে হেদায়েতকারী।

নবী করীম (সাঃ) ও তদীয় অনুরক্ত আছহাবগণ একের পর এক জেহাদ করিয়া, না-খাইয়া, পেটে পাথর বাধিয়া, অপরিসীম ত্যাগ তিতিক্ষা, বেদনা ও অশ্রু বিসর্জনের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন একটি বিশেষ উদ্দেশ্য লইয়া। তাহা হইল আল্লাহতায়ালা যে উদ্দেশ্যে মানবজাতি ও মানবকুলে সর্দার রাসূলে করীম (সাঃ) কে সৃষ্টি করিয়াছিলেন সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন। আল্লাহপাক তাহার আপন পরিচয় দানের জন্য ও পৃথিবীতে আপন খলিফা প্রেরণ করিবার জন্য তাহার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি আদমকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন। সেই আদম আল্লাহতায়ালার প্রতিনিধি হইবার যোগ্য জ্ঞান লাভ করেন ইসলামের সত্য ও সম্পূর্ণ আদর্শ দ্বারা অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত পথে খোদাতত্ত্বজ্ঞান লাভ করিয়া। রাসূলে করীম (সাঃ)-ই ছিলেন সেই খোদাতত্ত্বজ্ঞানের পরিপূর্ণ অধিকারী। তাই রাসূলে করীম (সাঃ) এর জ্ঞানের পরিপূর্ণ অধিকারী, খোদাতত্ত্বজ্ঞানে জ্ঞানী ও প্রকৃত হেদায়েতকারী হইলেন ইসলামী সমাজের কান্ডারী। কারণ আল্লাহতায়ালা যে উদ্দেশ্যে মানবজাতি সৃষ্টি করিয়াছেন, সেই উদ্দেশ্য অর্জনের পথে ও লক্ষ্যে তেমন সাধকই মানব জাতিকে পরিচালিত করিতে পারেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার নির্ধারিত হেদায়েতকারী ব্যতীত কেহ মানব জাতিকে আল্লাহতায়ালার পথে পরিচালনা করিতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

এজিদ সন্ধির চুক্তি অস্বীকার করিয়া নিজেকে সমগ্র মুসলিম জাহানের খলিফা ঘোষণা করিল। এই ঘোষণা দ্বারা এজিদ কেবলমাত্র চুক্তি ভংগ করিয়াছিল তাহাই নহে। এজিদ আল্লাহতায়ালার পক্ষে নিযুক্ত যুগের হেদায়েতকারীর পথ নির্দেশনা অস্বীকার করিয়া আপন স্বার্থ সিদ্ধ করিবার জন্য শক্তির দাপটে ক্ষমতা কুক্ষিগত করিয়াছিলো। তাই এজিদ হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর ছাহাবা মোয়াবিয়ার পুত্র হইলেও তাহার সিদ্ধান্ত ছিল ফেরাউন, নমরুদের মতই। আল্লাহতায়ালার পথে হেদায়েত বা ইসলামের সত্য ও সম্পূর্ণ শিক্ষা অনুযায়ী মানুষকে পরিচালিত করিবার যোগ্যতাও তাহার ছিল না।

এই অবস্থায় যুদ্ধ অনিবার্য হইল ও যুদ্ধক্ষেত্র হইল কারবালা। এই কারবালায় হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেবের শাহাদাত আল্লাহতায়ালা কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিতই ছিল। হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেব যখন এজিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে সৈন্য ও শক্তি সংগ্রহের মানসে সপরিবারে কুফায় গমন করিতে ছিলেন, তখন মরুভূমিতে পথ ভুলিয়া তিনি কারবালায় আসিয়া পড়েন। এই কারবালার নিকটে কোনো এক জায়গায় হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেবের ঘোড়ার পা মরুভূমির বালিতে ডাবিয়া যায়। মরুভূমির বালিতে সাধারণত ঘোড়ার পা ডাবিয়া যাওয়ার কথা নহে। ঘোড়া বা মানুষের পা ডাবিয়া যায় চোরাবালিতে। মরুভূমিতে ঘোড়ার পা ডাবিয়া যাইবার পরে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর একটি উক্তি হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেবের মনে হইল-"যে স্থানে তোমার অশ্বপদ বালিতে ডাবিয়া যাইবে, সেই স্থান তোমার জীবন বিনাশের নির্দিষ্ট স্থান এবং তাহার নাম দাস্ত কারবালা।" হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেবের আরও মনে পড়িল হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) একথাও বলিয়াছিলেন, সেই উষর প্রান্তরে কান পাতিলে "হায় হায়” রব শোনা যাইবে। হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেব কান পাতিয়া শুনিলেন সেই উষর প্রান্তরের আকাশে বাতাসে ধুলিকনাতে হায় হায় রব হইতেছে।

আল্লাহতায়ালার প্রিয় হাবীব নূরনবী মোস্তফা (সাঃ) এর বাক্য বিফল হইবার নয়। তিনি বুঝিতে পারিলেন এই সুনির্দিষ্ট স্থানেই তদীয় শাহাদাত নির্ধারিত। তিনি তদীয় পরিবারবর্গকে ও অনুরক্ত অনুসারীগণকে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে জানাইলেন ও শাহাদাত বরণের জন্য প্রস্তুত হইয়া ইসলাম রক্ষার জন্য জেহাদে অবতরণের উদ্দেশ্যে যথাসাধ্য প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিলেন। বস্তুতঃ এই জেহাদের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন ছিল, সেই শক্তি ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেবের ছিল না। সেই শক্তি সংগ্রহের জন্য তিনি কুফা অভিমুখে রওয়ানা হইয়াছিলেন, পথিমধ্যে পথ ভুলিয়া তিনি তদীয় শাহাদতের নির্ধারিত স্থানে আসিয়া পড়েন। সেই স্থানে প্রস্তুতিবিহীনভাবেই তিনি ও তদীয় পরিবারবর্গ ও অনুরক্ত অনুসারীগণ আল্লাহতায়ালার দ্বীন রক্ষার উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিলেন।

বিজ্ঞাপন

হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেব যে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছেন, এই সংবাদ এজিদ বাহিনীর নিকট ছিল। তাই তাহারা নিকটবর্তী ফোরাত নদীর তীর সৈন্য দ্বারা সংরক্ষিত করিয়া রাখে, যাহাতে ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেবের বাহিনী মরুভূমিতে পানি সংগ্রহ করিতে না পারে। অপ্রস্তুত ইমাম বাহিনীকে মরুভূমিতে পানি হইতে বঞ্চিত করা হইল। এই রূপে আটই মুহাররম গত হইল।

দশই মুহাররমের পূর্ব রাত্রে হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) ছাহেব হযরত নবী করীম (সাঃ) কে স্বপ্নে দেখিলেন। তদীয় পবিত্র চেহারা মোবারক বিশুষ্ক ও শোক মলিন। তদীয় হস্ত মোবারকে একটি বোতল। তাহাতে রক্তের মত লাল কোন পদার্থ। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) ছাহেব সবিনয়ে নবী করীম (সাঃ) এর নিকট হইতে জানিতে চাহিলেন, ঐ বোতলে কি রক্ষিত আছে। নবী করীম (সাঃ) তাহাকে জানাইলেন, "এই মাত্র আমি কারবালা হইতে হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) এর মর্মান্তিক শাহাদত বরণ দেখিয়া আসিলাম। এই বোতলে তাহারই পবিত্র রক্ত রাখা হইয়াছে। এই রক্ত আল্লাহপাকের দরবারে পেশ করা হইবে।"

কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত সত্যের জন্যে ইমাম পরিবারের শাহাদাত বরণের সেই নজিরবিহীন ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হইয়াছে নসিহত নং ৪৬ ও ৪৭-এ।

বিজ্ঞাপন

কারবালার পর হইতে খোদা প্রাপ্তি জ্ঞানে জ্ঞানীর নিকট হইতে ইসলামী রাষ্ট্র, ইসলামী সমাজ আর দিক নির্দেশনা পায় নাই। ইহার পর হইতে রাষ্ট্র চলিয়াছে রাজার ইচ্ছায়, ক্ষমতার দাপটে, অস্ত্রের বলে। আল্লাহতায়ালার পক্ষে হেদায়েতকারীর দিক নির্দেশনা হইতে মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্র বঞ্চিত হইয়াছে।

আল্লাহতায়ালার দ্বীনকে রক্ষা করিবার জন্য আল্লাহতায়ালার ইচ্ছার নিকট আত্মসমর্পণ করিয়া হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেব শাহাদাত বরণ করিলেন। হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেবের শাহাদাত যে পূর্ব নির্ধারিত, তাহা হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) হযরত ইমাম ছাহেবকে পূর্বাহ্নেই জানাইয়াছিলেন। আল্লাহতায়ালার ইচ্ছার নিকট আত্মসমর্পণ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে নবী করীম (সাঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেব ও তাহার অনুরক্ত অনুসারীগণ আল্লাহতায়ালার রাস্তায় মোমিনগণকে কোরবানী হওয়ার এমনই এক অনুপ্রেরণা ও উদাহরণ রাখিয়া গিয়াছেন, যাহা মানব ইতিহাসের স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করিয়াছে। যুগে যুগে এই আত্মত্যাগ সত্যের জন্য, আল্লাহতায়ালার দ্বীনের জন্য মানুষকে নতুন ভাবে আত্মবিসর্জনের আহ্বান জানাইয়া যাইতেছে।

হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেব ও তদীয় অনুসারীগণ খেলাফত লাভের জন্য জেহাদ করেন নাই। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর হাদীস হইতে বোঝা যায় ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেব তদীয় পরিণতি সম্পর্কে জানিতেন। তবুও শুধু মাত্র আল্লাহতায়ালার ইচ্ছাকে কবুল করিবার জন্যই তিনি স্বেচ্ছায় কোরবানী হইয়াছেন নতুবা তিনি ওই জেহাদের ঝুঁকি না লইয়া এজিদের রাজত্ব মানিয়া লইয়াও বাঁচিয়া থাকিতে পারিতেন। অপরদিকে আজ ১৪০০ বৎসর ধরিয়া আল্লাহতায়ালার ইচ্ছা ব্যতীত শুধু অস্ত্রের শক্তিতে যে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা চলিতেছে, আল্লাহতায়ালার পথে হেদায়েতকারীর দিক নির্দেশনা ব্যতীত যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা চলিতেছে তাহা যে নামে মাত্র ইসলামী হইলেও ইসলামের সত্য ও সম্পূর্ণ আদর্শ প্রতিষ্ঠা করিতে পারে না; সে সম্পর্কেও মানুষের চোখ খুলিতেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদ যে মানুষকে আদর্শ মানুষ, ন্যায় পরায়ণ মানুষ করিতে পারে না, সমাজে শান্তি আনিতে পারে না, বিগত ১৪০০ বৎসরের ইতিহাস তাহাও প্রমাণ করিয়াছে।

বিজ্ঞাপন

আল্লাহতায়ালার দিক নির্দেশনা ভিত্তিক ইসলামী সমাজ ও আল্লাহতায়ালার ইচ্ছার নিকট আত্মসমর্পণের লক্ষ্যে সদা প্রস্তুত মানুষ তৈরী করিবার জন্য যে সমাজ স্থাপনের সাধনা হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেব করিয়াছিলেন তাহা আজও পরিপূর্ণ হয় নাই। তাই মোমিন মুসলমানদের নিকট আমার আহ্বান আপনারা আল্লাহতায়ালার ইচ্ছার প্রতি সদা আত্মত্যাগে প্রস্তুত মানুষ হইতে লক্ষ্য স্থির করুন ও তাহার জন্য প্রকৃত হেদায়েতকারীর সন্ধান লাভ করিয়া তাহার নিকট হইতে খোদা প্রাপ্তির পথ জানিয়া লন। তাহা হইলেই প্রকৃত মোমিন হইয়া আদর্শ মুসলমান হইয়া ইহলোক ত্যাগ করিতে পারিবেন। মানুষ হিসেবে জন্মলাভের উদ্দেশ্য সার্থক হইবে।

হে জাকেরগণ! তোমরা জানিয়া রাখ, আমার দয়ালপীর দস্তগীর হযরত মাওলানা খাজাবাবা শাহসূফী এনায়েতপুরী (কৃঃ) ছাহেব ছিলেন, খোদা তত্ত্বজ্ঞানে প্রকৃত ও সম্পূর্ণরূপে জ্ঞানী। তিনিই বর্তমান জামানার জন্য আল্লাহতায়ালার নির্ধারিত হেদায়েতকারী। তাই তদীয় দামন শক্ত করিয়া ধর ও তদীয় আদেশ ও নিষেধ মান্য করিয়া চল। তাহার হুকুম পালন করিবার জন্য জানমাল কোরবান করিতে প্রস্তুত থাক। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব এবং আমার দয়ালপীর দস্তগীর হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কৃঃ) ছাহেব জানাইয়া গিয়াছেন হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) এর খানদান হইতেই শেষ জামানায় হযরত ইমাম মেহেদী (আঃ) আবির্ভূত হইবেন। তিনিই আবার মুসলমানদের আল্লাহতায়ালার রাস্তায় একত্র করিয়া ইসলামের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করিয়া প্রকৃত ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করিবেন। তাই তোমরা যদি আল্লাহতায়ালাকে পাইতে চাও, তাহার ইচ্ছানুযায়ী চলিতে চাও হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের খানদানের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দেদ হযরত এনায়েতপুরী (কৃঃ) ছাহেবের দেলে দেল মিলাইতে ও তাহাকে চিনিতে চেষ্টা কর। তাহার হেদায়েত লাভের জন্য চেষ্টা করিয়া যাও। হযরত দয়াল পীর কেবলাজান হুজুর জানাইয়া গিয়াছেন, "হযরত ইমাম মেহেদী (আঃ) ছাহেবের আবির্ভাবের সময় অতি নিকটবর্তী।” তাই আর সময় ক্ষেপণ করিও না। হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেবের আদর্শের পতাকাতলে সমবেত হও, তাহার হেদায়েত লাভ করিবার জন্য আল্লাহতায়ালার নিকট বিনীত ফরিয়াদ জ্ঞাপন কর। তাহা হইলেই সত্য ইসলামের বিজয় দেখিবার ও ইমাম মেহেদী (আঃ) ছাহেবের হেদায়েত লাভ করিবার নসিব তোমরা লাভ করিবে; তাহার সত্য পতাকাতলে থাকিবার সৌভাগ্য তোমরা লাভ করিবে; নতুবা আল্লাহতায়ালার অভিশাপ প্রাপ্তদের দলভুক্ত হইবে। হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেবের সময়ে আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায় অসত্যের বিজয় আসিয়াছিল তাহা স্বল্পস্থায়ী। কিন্তু হযরত ইমাম মেহেদী (আঃ) এর নেতৃত্বে সত্য ইসলামের যে বিজয় আসিবে তাহা হইবে কেয়ামত কাল পর্যন্ত স্থায়ী। বর্তমান জামানার হাদী হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেবের কদম তোমরা তাই শক্ত করিয়া ধরিয়া হযরত ইমাম মেহেদী (আঃ) এর সত্য পতাকাতলে থাকিবার চেষ্টা কর। মুহাররমের এই পবিত্র ও বিষাদময় স্মৃতির দিনে তোমাদের প্রতি এই আমার নসিহত। যাহারা নিঃস্বার্থ ভাবে শুধু মাত্র আল্লাহতায়ালার ইচ্ছাতে রাজী থাকিয়া সত্য ইসলাম কায়েম দেখিতে চাহে আল্লাহ তাহাদের হেদায়েত দান করুন; এই আমার দু'আ।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD