১৮ শতকের ঐতিহাসিক কোরআনের পাণ্ডুলিপি মক্কার জাদুঘরে

মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক জেলায় অবস্থিত পবিত্র কোরআন জাদুঘরে ১৮ শতকের একটি কোরআনের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে। সেই সময়ের ইসলামী লিখনশৈলী ও অলংকরণের সৌন্দর্য এবং সূক্ষ্ম নিখুঁত কাজের উদাহরণ হিসেবে এই পাণ্ডুলিপিটি দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
কালো কালিতে লেখা এ পাণ্ডুলিপিতে ইসলামী লিখনশৈলীর একাধিক ধারার বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন ধারার স্বতন্ত্র শৈলী দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করে লিপিকার যে পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, তা এতে সুস্পষ্ট।
পাণ্ডুলিপিটিতে হরকত ও অন্যান্য বর্ণচিহ্ন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংযোজন করা হয়েছে। হাতে লেখা কোরআনের অনুলিপিতে নির্ভুলতার ওপর যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো, এসব চিহ্নে তার প্রতিফলন দেখা যায়। এর প্রথম দিকের পাতাগুলোতে ফুলেল নকশা ও সূক্ষ্ম অলংকরণ রয়েছে, যা কোরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরির ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতিকে তুলে ধরে।
এই পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে দর্শনার্থীরা হাতে লেখা কোরআনের ইতিহাস, আরবি ক্যালিগ্রাফির ক্রমবিকাশ এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ে কোরআনের পাণ্ডুলিপিতে ব্যবহৃত অলংকরণ ও সোনালি প্রলেপ দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
হেরা সাংস্কৃতিক জেলায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে পবিত্র নগরী মক্কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক গন্তব্য হিসেবে এলাকাটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
হেরা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই সাংস্কৃতিক জেলা। এখানেই রয়েছে হেরা গুহা, যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়েছিল। আধুনিক ইন্টার্যাকটিভ প্রযুক্তির মাধ্যমে এখানে বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয় উপস্থাপন করা হয়। এতে ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
এই জেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ওহি অবতরণের প্রদর্শনী। চাক্ষুষ ও শ্রবণীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে এতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর প্রথম ওহি নাজিলের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবের ২০৩০ সালের দৃষ্টিভঙ্গির লক্ষ্য অনুসারে সাংস্কৃতিক ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং ইসলামী ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে হেরা সাংস্কৃতিক জেলা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। একই সঙ্গে এটি মক্কার সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্যোগগুলোরও একটি অংশ।








