শিয়া সম্প্রদায়ের ফেতনা থেকে ভারতবর্ষের মুসলিমদের রক্ষা

খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে শাহ্সূফি হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ও খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (মূল বক্তব্যঃ শিয়া সম্প্রদায় কর্তৃক সৃষ্ট ফেতনা থেকে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব কিভাবে ভারতবর্ষের মুসলিম জাতিকে রক্ষা করেন-সেই সম্পর্কে আলোচনা।
বিজ্ঞাপন
বিভিন্নমুখী ফেতনাঃ
হাজারী মুজাদ্দেদ হযরত শায়খ আহমদ সেরহিন্দী (রাঃ) ছাহেবের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সত্য ইসলাম দীনে এলাহীর প্রভাব মুক্ত হয়; রাষ্ট্রীয় হুকুমতের গতি পরিবর্তিত হইয়া ইসলামমুখী হয়। তথাপিও ইসলাম ও মুসলিম জাতির মধ্যে আরও কিছু ফেত্না থাকিয়া যায়। সেইগুলো মূলতঃ
১। শিয়া মাযহাব কর্তৃক সৃষ্ট ফেতনা এবং
বিজ্ঞাপন
২। উলামায়ে সু (অসৎ আলেম) বা দুনিয়াপরস্ত আলেমদের ফেতনা।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব তদীয় সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শিয়া সম্প্রদায়ের বদ আকীদার অশুভ প্রভাব হইতে এবং দুনিয়াদার আলেমদের অপতৎপরতা হইতে হক পন্থী, সত্যানুসারী সুন্নী জামাতকে রক্ষা করেন এবং যাবতীয় বদ-দীনী কার্যকলাপ তথা শেরেকী, বেদাতী থেকে ইসলামকে উদ্ধার করেন।
এই পর্বে শিয়া সম্প্রদায় কর্তৃক সৃষ্ট ফেত্না থেকে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব কিভাবে মুসলিম জাতিকে রক্ষা করেন, সেই প্রসংগেই আলোচনা করা হইতেছে।
বিজ্ঞাপন
উম্মতে মুহাম্মদীতে ৭৩ ফেরকা বা দলঃ
সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল (সাঃ) কর্তৃক প্রবর্তিত সত্য ধর্ম ইসলামের অনুসারী মুসলমানগণ কয়েকশত বছর পর্যন্ত একটি দল বা ফেরকা হিসেবেই পরিচিতি ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আকীদাগত ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে মুসলিম জাতি বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত হইয়া পড়ে। শিয়া, সুন্নী, রাফেজী, খারেজী, মোতাযেলা ইত্যাদি মোট ৭৩ ফেরকায় বিভক্ত হয়। অবশ্য রাসূলে পাক (সাঃ) তদীয় জীবদ্দশাতেই বিভিন্ন দল-উপদলে মুসলমানদের বিভক্তির পূর্বাভাস দিয়ে যান। হাদীস শরীফে প্রকাশ-রাসূলে পাক (সাঃ) এরশাদ করিয়াছেন, "শুনিয়া রাখ, হযরত মুসা (আঃ) এর হেদায়েতের বিপরীত বনি-ইসরাইল সম্প্রদায়ের মধ্যে ৭১ টি ফেরকার সৃষ্টি হইয়াছিল-উহার মধ্যে একটি মাত্র দল বা ফেরকা ছাড়া বাকী সবগুলোই ছিল পথভ্রষ্ট। আর হযরত ঈসা (আঃ) এর উম্মতের মধ্যে সৃষ্টি হইয়াছিল ৭২ টি ফেরকা। আর তাহারও মাত্র একটি ফেরকা ছাড়া বাকী সবগুলোই গোমরাহ ফেরকা ছিল। কিন্তু আমার উম্মত তথা তোমাদের মধ্যে অভ্যুদয় ঘটিবে মোট ৭৩টি ফেরকার। আর উহার মধ্যে একটি মাত্র দল ছাড়া বাকী সবগুলিই গোমরাহ ও বেদীন হইবে। কেবল ঐ একটি মাত্র দলই প্রকৃত মুসলমানরূপে গণ্য হইবে।"
সাহাবীগণ আরজ করিলেন, "সেই দলটি কিরূপ হইবে?” হুজুর (সাঃ) বলিলেন, "ঐ দলটি আমার ও আমার সাহাবীদের পথ অনুসরণ করিবে।"
বিজ্ঞাপন
অপর এক বর্ণনায় রাসূলে পাক (সাঃ) বলেন, আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হইয়া পড়িবে। তন্মধ্যে ৭২ ফেরকা বা দল দোযখী এবং একটি মাত্র দল বেহেশতী। এই বেহেশতী ফেরকার নামই আহলে সুন্নাহ্ ওয়াল জামায়াত বা সুন্নী জামাত। (ইমাম আহমদ ও আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত)
রাসূলে পাক (সাঃ) আরও বলেন, "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন দলসমূহ বাহির হইবে যে, উহাদের মধ্যে বদ-আকীদা ও নাফছানী খাহেশাত এমন ভাবে সংক্রমিত হইবে যেমন পাগলা কুকুরের বিষ সংক্রমিত হয় দংশিত ব্যক্তির মধ্যে। কু-আকীদা ও কু-রিপুসমূহ ঐ গোমরাহ লোকদের প্রতিটি নাড়ী-নক্ষত্র ও প্রত্যেক গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে সংক্রমিত হইবে।” [আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত]
রাসূলে পাক (সাঃ) এর যুগে, সাহাবীগণের যুগে, তাবেয়ীদের যুগেও মুসলিম জাতির মধ্যে একাধিক ফেরকা আবির্ভূত হয় নাই। রাসূলে পাক (সাঃ) এর ইন্তেকালের কয়েকশত বছর পরে মুসলিম জাতি বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত হইতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে ৭৩ ফেরকায় বিভক্ত হইয়া পড়ে। হযরত গউস পাক আব্দুল কাদের জেলানী (রঃ) ছাহেব তদীয় "গুনিয়াতুত ত্বালেবীন" নামক কিতাবে বলেন, ৭৩ ফেরকা মূলতঃ মূল দশটি ফেরকার শাখা প্রশাখা। সেই দশটি ফেরকা হইলঃ
বিজ্ঞাপন
(১) আহলে সুন্নাত, (২) খারেজী, (৩) শিয়া বা রাফেজী, (৪) মোতাযেলা, (৫) মারজিয়া, (৬) মুশাব্বাহা, (৭) জাহমিয়া, (৮) জারারিয়া, (৯) নাজ্জারিয়া ও (১০) কালাবিয়া।
আহলে সুন্নাত বা সুন্নী জামাতের কোন শাখা প্রশাখা নাই। উহা একক। কিন্তু অপরাপর ৯টি দলেরই শাখা প্রশাখা বর্তমান। হযরত গউস পাক (রঃ) ছাহেব বলেন, খারেজী দলের শাখা ১৫টি, মোতাযেলার শাখা ৬টি, মারজিয়ার ১২টি, শিয়া বা রাফেজীর ৩৩ টি, মুশাব্বাহার ৩টি এবং জারারিয়াহ, কালাবিয়াহ ও জামিয়াহ-এই তিনটি প্রত্যেকটির মোট একটি করিয়া সর্বমোট ৭৩ টি ফেরকা বর্তমান।
এই ৭৩ ফেরকার একটি মাত্র ফেরকা বা দল আখেরাতে পরিত্রাণ পাইবে; আর বাকী সবই দোযখী। মুক্তি প্রাপ্ত দলের আকীদা রাসূল পাক (সাঃ) ও তদীয় সাহাবী সকলের অনুরূপ। তাহাদের আকীদাই নির্ভুল বা বিশুদ্ধ। অপরাপর দলগুলো মুসলিম জাতির দলভুক্ত হইলেও বদ-আকীদা পোষণ করার দোষে যেমন দোষী, তেমনি পথভ্রষ্ট বলিয়া পরিগণিত।
বিজ্ঞাপন
মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) এর সময়ে শিয়া ও রাফেজীদের উত্থানঃ
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের সময়ে সমগ্র ভারতবর্ষে বদ-আকীদা বা ভ্রান্ত আকীদা পোষণকারী, বিপথগামী ফেরকা বা দল তথা শিয়া বা রাফেজী, খারেজী, মোতাযেলা ইত্যাদি উগ্র সম্প্রদায় মাথাচাড়া দিয়া উঠে। ইহাদের মধ্যে শিয়া বা রাফেজীদের দাপট ছিল সর্বাধিক। ইহার প্রধান কারণ ছিল এই যে, সম্রাট জাহাংগীর ছিলেন সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের হাতের পুতুল। এই প্রসংগে তিনি নিজেই বলিতেন, আমার রাজত্ব এখন নূরজাহান ও তাহার গোষ্ঠীর হাতে। আমি রাজত্ব তাহাদের দিয়া দিয়াছি। প্রত্যহ আধা সের গোশত এবং একসের শরাব ব্যতীত আর কিছুই আমি চাই না। (ডঃ আঃ ফ. ম. আবুবকর সিদ্দীক রচিত "দীনে এলাহী ও মুজাদ্দেদ আলফেছানী।") এই নূরজাহান ছিলেন শিয়া সম্প্রদায় ভুক্ত। ভারতবর্ষে তিনি ছিলেন শিয়া দলের স্তম্ভস্বরূপ।
শিয়া সম্প্রদায় যখন দেখিল, নূরজাহান ভারত সম্রাজ্ঞী অর্থাৎ রাজনক্ষমতার অধিকারিণী এবং তাহার ভ্রাতা আসফ খান সম্রাটের উজির, তাহারা ভাবিল ভারতবর্ষে শিয়া মতবাদ বা আকীদা প্রচারের ইহাই উৎকৃষ্ট সময়। কাজেই তাহারা ব্যাপক হারে শিয়া আকীদা সমূহ যেমন সাধারণ্যে প্রচার করিতে প্রয়াস পাইল, তেমনি নূরজাহান ও আসফ খানের যোগ-সাজশে রাষ্ট্রীয় হুকুমতের বিধি-বিধানের উপরেও প্রভাব ফেলিতে সক্ষম হইল। ফলে হক পন্থী সুন্নী জামাত নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত হইতে লাগিল।
বিজ্ঞাপন
শিয়া সম্প্রদায়ের মূল আকীদা সমূহ হইল-
১। হযরত আলী (রাঃ) ছাহেব রাসূলে করীম (সাঃ) এর সমগ্র সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম।
২। রাসূলে করীম (সাঃ) এর অবর্তমানে সর্ব প্রথম হযরত আলীই (রাঃ) খেলাফতের ন্যায্য দাবীদার এবং এই পদে একমাত্র তাহারই অধিকার।
বিজ্ঞাপন
৩। শিয়ারা হযরত আবুবকর (রাঃ), হযরত উমর (রাঃ) ও হযরত উসমান (রাঃ) ছাহেবকে গালি দেওয়া ধর্মীয় কর্তব্য বলিয়া মনে করে।
৪। তাহারা রাসূলে পাক (সাঃ) এর পরে হযরত আলীর হস্তে খেলাফতের বায়াত না হওয়ার কারণে ছয়জন সাহাবী ছাড়া অন্য সবাইকেই মুরতাদ্ মনে করে।
ইহাই হইল শিয়া সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত আকীদা। ইহা ব্যতীতও আরও অনেক বদ আকীদা এই সম্প্রদায় পোষণ করে।
বিজ্ঞাপন
শিয়া বা রাফেজীদের বদ আকীদার কুপ্রভাব থেকে সুন্নীদের রক্ষায় মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাঃ
মুসলিম জাতি দীনে এলাহীর বিষাক্ত প্রভাব থেকে মুক্ত হইলেও শিয়া বা রাফেজী সম্প্রদায়ের বদ-আকীদার প্রভাবে প্রভাবিত থাকিল। উক্ত ভ্রান্ত আকীদার প্রভাবমুক্ত করার জন্য হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) নিম্নলিখিত সংস্কারমূলক কর্মসূচী হাতে নেন।
১। শিয়া বা রাফেজী উলামাদের সহিত প্রকাশ্যভাবে আলোচনা বৈঠকে বসিয়া আকীদা সংক্রান্ত বিষয়ে তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হইয়া তাহাদেরকে পরাজিত করিতেন।
বিজ্ঞাপন
২। দেশের আমির-উমরাহের নিকট সুন্নী মাযহাবের যথার্থতা এবং শিয়া মাযহাবের অসারতা সম্পর্কে চিঠিপত্র আদান প্রদান করিতেন। ফলে আমির-উমরাহগণ সুন্নী জামাতের আকীদানুযায়ী নিজেদের আকীদাকে যেমন দোরস্ত করিতেন; তেমনি তাহারা বাদশাহের কর্ণেও সুন্নী জামাতের আকীদা সমূহ পৌঁছাইয়া দিতেন।
৩। বিভিন্ন ধর্মীয় মজলিসে বা সভা সমিতিতে সুন্নী জামাতের আকীদার যথার্থতা লইয়া তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকরী ভাষণ দান করিতেন।
৪। শিয়া বা রাফেজী বা বেদাতী মতবাদ সমূহের সারশূন্যতা প্রসংগে পুস্তিকা রচনা করিয়া সাধারণ্যে প্রচার করিতেন।
এমনিভাবে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে উপমহাদেশ হইতে আকীদাগত পার্থক্য দূর হয় এবং সুন্নী মতবাদ দৃঢ় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
হাজারী মুজাদ্দেদ (রাঃ) ছাহেবের উল্লিখিত সংস্কারমূলক কর্মকান্ডের পরিচয় পাওয়া যায় তদীয় মকতুবাদ শরিফে বিধৃত বিভিন্ন মকতুব হইতে। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব তদীয় মকতুবাদ শরীফের প্রথম খন্ডের ১৯৩ নং মকতুবে বলেন, "আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতানুযায়ী স্বীয় আকীদাকে দুরস্ত করা শরীয়তের হুকুম আহকাম যাহাদের উপর প্রযোজ্য তাহাদের উপর ফরজ। কাজেই যাহাদের উপর শরীয়তের হুকুম প্রযোজ্য, তাহাদের প্রথম কর্তব্য আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আলেমদের মতানুযায়ী স্বীয় আকীদা দুরস্ত করা। কেননা, এই বুজুর্গদের নির্ভুল মতাবলীর অনুসরণের উপরই আখেরাতের নাজাত বা মুক্তি নির্ভর করে। তাঁহারা ঐ দল, যাহারা রাসূলাল্লাহ (সাঃ) ও তাঁহার সাহাবাদের তরিকার উপর প্রতিষ্ঠিত। এই বুজুর্গগণ কিতাব ও সুন্নতের নির্ভরশীল ও গ্রহণযোগ্য এলেমসমূহ গ্রহণ করিয়াছেন।
প্রথম খন্ডের ২৮৬ নং মকতবে তিনি বলেন, "আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অধিকাংশ আলেম কুরআন ও হাদীসের অর্থ যেরূপ করিয়াছেন উহা গ্রহণ করিতে হইবে এবং উহা খুবই জুরুরী। যদি এই রূপ মনে করা হয়, যে সমস্ত আলেম কোন ব্যাপারে তাহাদের লব্ধ জ্ঞান দ্বারা যে অর্থ গ্রহণ করিয়াছেন, তাহা কাশফ ও এলহামের বিপরীত; এমতাবস্থায় কাশফ ও এলহাম প্রাপ্ত জ্ঞান নয়, বরং ঐ সমস্ত আলেমদের মতামতই গ্রহণীয়।"
সুন্নী জামাতের আকীদাসমূহের ব্যাপক প্রচারঃ
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব সুন্নী জামাতের আকীদা সমূহ একাধিক মকতুবে চমৎকার ভাবে তুলিয়া ধরেন। দ্বিতীয় খন্ডের ৬৭ নং মকতুবে তিনি সুন্নী জামাতের আকীদাসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা করেন। সকলের সুবিধার্থে মুজাদ্দেদ ছাহেব বর্ণিত আকীদাসমূহ তুলিয়া ধরা হইলঃ-
আকীদা নং-১
প্রকাশ থাকে যে, আল্লাহতায়ালা নিজস্ব কদীম (চিরস্থায়ী) জাতের সংগে মৌজুদ আছেন। সমস্ত জিনিস তিনিই বাহির করিয়াছেন। তিনি পয়দা করাতে আদম তথা অনস্তিত্ব হইতে এই সৃষ্টি অজুদে আসিয়াছে। আল্লাহতায়ালা কদীম-চিরস্থায়ী। তাহা ছাড়া সমস্ত জিনিস হাদেস। যাহা কদীম তাহা চিরকাল থাকিবে। যাহা হাদেস, তাহা একদিন ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হইবে।
আকীদা নং-২
আল্লাহতায়ালা এক। তাহার কোন শরীক নাই। অজুবে অজুদের মধ্যেও নয় এবং এবাদতের মধ্যেও নয়। অজুবে অজুদ তাহার ছাড়া অন্য কাহারও জন্য সংগত নয়। তিনি ছাড়া অন্য কেহ উপাস্যও নহে।
আকীদা নং-৩
আল্লাহতায়ালার সিফাতে কামেলা আছে। তন্মধ্যে হায়াত, এলেম, কুদরত, এরাদত, ছামাওয়াত, বাছারত, কালাম ও তাকবীন-এই সিফাতগুলো কদীম-চিরস্থায়ী। সিফাতগুলি জাতপাকের সহিত কায়েম আছে। হাদেসের সহিত সম্পর্ক থাকায় সিফাতে কদীমের মধ্যে কোনরূপ ত্রুটি আসে না। সংশ্রব বিশিষ্ট জিনিসগুলি হাদেস হওয়াতে তাহার (আল্লাহর) চিরস্থায়ীত্বের বিরুদ্ধ হয় না। দার্শনিকগণ অজ্ঞানতাহেতু ও মোতাযেলা সম্প্রদায়গণ দৃষ্টিহীনতা বশতঃ সংশ্রব বিশিষ্ট জিনিস হাদেস হওয়াতে সংশ্রবকারীকে (সেফাতকে) হাদেস বলিয়া মত পোষণ করেন। তাহারা সিফাতে কামেলাকে জানেন না এবং হকতায়ালাকে সবকিছুর জ্ঞানে জ্ঞানী বলিয়া জানেন না। ইহাতে পরিবর্তন আসিয়া যাইবে, যাহা হাদেসের নিদর্শন। ইহা জানে না যে, সিফাত আজালী। সিফাতের ঐ সম্পর্ক যাহা হাদেসের সহিত আছে, তাহা হাদেস।
আকীদা নং-৪
সমস্ত প্রকারের দোষত্রুটি হইতে আল্লাহতায়ালা শূন্য। তাহার দরবারে স্থান, কাল, দিক ইত্যাদির কোন স্থান নাই। এইসব তাহার সৃষ্টি। ইহাও সংগত নয় যে, আল্লাহতায়ালাকে আরশের উপরে জানা ও উপরের দিকে প্রমাণিত করা। কেননা আরশ ও তাহা ছাড়া সব কিছু তিনিই সৃষ্টি করিয়াছেন। মখলুক (সৃষ্টি) ও হাদেসের শক্তি কি যে খালেক কদীমের স্থান ও উপবেশনের জায়গা হইতে পারে। অবশ্য এতটা হইবে যে, আরশ সমুদয় সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। ইহাতে সমস্ত সৃষ্টির চেয়ে বেশী নূরানিয়াত আছে। এই জন্য আয়না হইবার ক্ষমতা রাখে, যদ্বারা আল্লাহতায়ালা মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত হিসেবে নিজেকে কিছুটা পরিচিত করে। এই প্রকাশের সম্পর্ক থাকার কারণে ইহাকে আরশুল্লাহ বা আল্লাহতায়ালার আরশ বলা হয়। নতুবা আরশ ও অন্যান্য সবই তাঁহার সৃষ্টি হিসেবে সমান। কিন্তু আরশের প্রকাশের যোগ্যতা আছে; অন্য কিছুর মধ্যে এই যোগ্যতা নাই। আয়নার মধ্যে মানুষের ছুরত প্রকাশিত হয়। তাই বলিয়া ইহা বলা যায় না যে, সেই ব্যক্তি আয়নার মধ্যে আছে, বরং সেই লোকটির নিকট আয়না ও অপরাপর জিনিস সমূহ সবই সমান। পার্থক্য কেবল যোগ্যতার দিক দিয়া অর্থাৎ আয়নার মধ্যে মানুষের ছুরতকে দর্শনযোগ্য বা প্রতিবিম্বিত করার যোগ্যতা আছে; অন্যান্য জিনিসে এই যোগ্যতা নাই।
আকীদা নং-৫
আল্লাহতায়ালা দেহ নয়, দৈহিকও নয়। জহুরও নয়, লম্বাও নয়, চওড়াও নয়, প্রশস্তও নয়, সংকীর্ণও নয় বরং তিনি প্রশস্তকারী, তাহার প্রশস্ততা আমাদের জ্ঞানে স্থান পাইতে পারে না। তিনি বেষ্টনকারী, তবে তাঁহার বেষ্টন আমাদের বোঝাবুঝির মধ্যে নাই। তিনি নিকটে আছেন; কিন্তু সেইরূপ নিকটে নয় যেমন আমরা বুঝিয়া থাকি। তিনি আমাদের মনে আছেন, তবে যে রকম আমরা দেখি সেরকম নয়। আমরা বিশ্বাস রাখি যে, হকতায়ালা প্রশস্তকারী, বেষ্টনকারী, নিকটবর্তী, সংগী-কিন্তু এই গুণাবলীর কৈফিয়ত আমাদের জানা নাই।
আকীদা নং-৬
আল্লাহতায়ালা কোন জিনিসের সহিত মিলিত নয় বা কোন জিনিসও তাঁহার সহিত মিলিত নয়। কোন জিনিস তাহার মধ্যে প্রবেশ করে না; তিনিও কোন জিনিসে প্রবেশ করেন না। তাহাকে অংশ অংশ, খন্ড খন্ড করিয়া ভাগ করা যায় না।
আকীদা নং-৭
আল্লাহতায়ালার কোন দৃষ্টান্ত নাই। তাঁহার স্ত্রী নাই, সন্তান নাই। আল্লাহতায়ালার জাত' ও সিফাত' দৃষ্টান্ত শূন্য। এতটা জানা যায় যে, আল্লাহতায়ালা আছেন এবং তিনি সিফাতে কামেলার সহিত আছেন। যেরূপ তিনি নিজের প্রশংসা করিয়াছেন, সেইরূপে তিনি গুণান্বিত। কিন্তু আমাদের জ্ঞানে যাহা কিছু আছে বা আসিতে পারে, হকতায়ালা তাহা হইতে পাক পবিত্র।
জানা দরকার যে, আল্লাহতায়ালার নামগুলি তওফিকী অর্থাৎ শরীয়তের অধিকারীর নিকট হইতে শোনার উপর নির্ভর করে। শরীয়ত আল্লাহপাকের জাতপাকের উপর যে নাম প্রয়োগ করিয়াছে, সেই নাম প্রয়োগ করা জায়েজ। ইহা ছাড়া অন্য নাম প্রয়োগ করা যাইবে না, যদিও এই নামের অর্থ পাওয়া যায়, যেমন, জাওয়াদ শব্দ ব্যবহার করা হইয়াছে। কেননা এই নাম শরীয়তে আসিয়াছে। কিন্তু ছখী বা দাতা বলা যাইবে না, কেননা এই নাম শরীয়তে আসে নাই।
আকীদা নং-৮
কুরআন শরীফ আল্লাহপাকের কালাম-যাহাকে হরফ বা শব্দের ও আওয়াজের পোষাক পরাইয়া আল্লাহতায়ালা হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর নিকট পাঠাইয়াছেন, বান্দাগণকে আদেশ ও নিষেধের হুকুম করিয়াছেন, যেমন আমরা মনের কথাকে কাজ ও জবানের দ্বারা শব্দ ও আওয়াজের পোষাকে প্রকাশ করিয়া থাকি; নিজেদের গোপন উদ্দেশ্যসমূহ প্রকাশ্যে আনিয়া থাকি। এইভাবে আল্লাহতায়ালাও নিজের মনের কথাগুলিকে মাধ্যম ভিন্ন নিজস্ব পূর্ণ ক্ষমতার দ্বারা শব্দ ও আওয়াজের পোষাক পরাইয়া প্রকাশ্য ময়দানে আনিয়া আলোকিত করিয়াছেন। অতএব কালাম দুই প্রকার-নাক্সী ও লব্ব্জী। উভয়ই আল্লাহতায়ালার কালাম। দুইটির উপর কালাম শব্দ ব্যবহার করা হকিকত হিসেবে প্রযোজ্য। যেমন আমাদের কথার উভয় প্রকার হকিকতের দিক দিয়া আমাদেরই কথা। কেননা অপ্রকৃতকে নফী করা জায়েজ আছে। কালামে লবজী বা শাব্দিক কথাকে নফী করা এবং উহাকে আল্লাহর কথা নয় বলা কুফরী। এই প্রকারে অন্যান্য কিতাবসমূহ যাহা অতীত পয়গম্বরগণের উপর নাযেল হইয়াছিল, সমস্ত আল্লাহতায়ালার কালাম। যাহা কুরআন শরীফ ও অন্যান্য কিতাবে লিখিত আছে; সবই আল্লাহতায়ালার আহকাম-যদ্বারা তিনি বান্দাগণকে প্রত্যেক সময়ানুযায়ী আদেশ দিয়াছেন।
আকীদা নং-৯
বেহেশতে আল্লাহতায়ালাকে দিকশূন্য, কৈফিয়ৎশূন্য, বেষ্টনশূন্যাবস্থায় দেখার সংবাদ সত্য। এই দর্শনের উপর আমাদের বিশ্বাস আছে। উহার কৈফিয়ৎ জানা নাই। কেননা আল্লাহতায়ালাকে দেখা দিকশূন্য দেখা। দার্শনিক মোতাযেলাগণ ও সমস্ত বেদাতীগণ তাহাদের অন্ধত্বের কারণে আখেরাতে খোদাতায়ালার দর্শনকে অস্বীকার করে। হাজেরের উপর গায়েবকে অনুমান বা ধারণা করিয়া থাকে। তাহারা ঈমান আনা রূপ নেয়ামত হইতেও বঞ্চিত আছেন।
আকীদা নং-১০
আল্লাহতায়ালা যেমন বান্দাগণের সৃষ্টিকর্তা, তদ্রুপ তাহাদের কার্যাবলীরও সৃষ্টিকর্তা। সেই কার্যগুলি ভালই হউক বা মন্দই হউক। কিন্তু ভালোর উপর তিনি সন্তুষ্ট ও খারাপের উপর অসন্তুষ্ট-যদিও উভয়ই তাহার ইচ্ছাতে হয়। জানা দরকার যে, কেবল মন্দকে আদব হেতু আল্লাহতায়ালার দিকে সম্বন্ধ করা যাইবে না এবং খারাপের সৃষ্টিকারী বলা উচিৎ নয়; বরং ভাল ও মন্দের সৃষ্টিকারী বলা সংগত। এইভাবে আলেমগণ বলিয়াছেন,-"খালেকু কুল্লে শাইয়িন"-তিনি সমস্ত জিনিসের সৃষ্টিকর্তা। "খালেকুল কাজুরাতে অল্ খানাজীর" অর্থাৎ অপবিত্র ও কুফরের সৃষ্টিকারী বলা যায় না।
কেননা ইহা আল্লাহতায়ালার পাক দরবারে বেয়াদবী করা হয়। মোতাযেলাগণ বান্দাকে কার্যাবলীর সৃষ্টিকর্তা মনে করে। কার্যের ভাল ও মন্দ বান্দার দিকে সম্বন্ধ করে। শরীয়ত ও জ্ঞান তাহাদের এই মতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে। আর হক আলেমগণ বান্দার শক্তিকে তাহার নিজের কার্যের মধ্যে দাখেল করিয়াছেন। উহাকে অর্জন করা বান্দার জন্য প্রমাণ করিয়া দেন। কেননা ইচ্ছাকৃত নড়া ও অনিচ্ছাকৃত নড়ার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান আছে। অনিচ্ছাকৃত নড়ার মধ্যে বান্দার শক্তি ও অর্জনের মধ্যে দখল নাই এবং ইচ্ছাকৃত নড়ার মধ্যে এই দখল আছে।
এই পার্থক্য থাকার জন্য ধরা পড়িবার কারণ হইয়াছে, সওয়াব আযাবকে দাঁড় করিয়াছে। অধিকাংশ লোক বান্দার শক্তি ও ইচ্ছার উপর সন্ধিহান আছে: বান্দাকে অসহায় ও অক্ষম জানিয়াছে। তাহারা আলেমগণের উদ্দেশ্য বুঝিতে পারে নাই। বান্দার মধ্যে কুদরত ও ইচ্ছাশক্তি প্রমাণ করার অর্থ এই নহে যে, বান্দা যাহাই ইচ্ছা তাহাই করিবে এবং যাহা ইচ্ছা করিবে না, উহা হইবে না। একথা বন্দেগী হইতে দূরে।
বরং এই হিসেবে বলা হইয়াছে যে, বান্দাকে যে হুকুমের দ্বারা কষ্ট দেওয়া হইয়াছে, সেই দায়িত্ব পালনে নিষ্কৃতি পাইতে পারে। যেমন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করিতে পারে, চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে পারে, বারো মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট এক মাসের রোজা রাখিতে পারে, নিজের জীবনে পাথেয় থাকিতে একবার হজ্জ করিতে পারে। এই রূপে শরীয়তের অন্যান্য হুকুমগুলি আদায় করিতে পারে। বান্দার অক্ষমতা ও দুর্বলতা দেখিয়া আল্লাহতায়ালা এই সব কার্যে সহজ ও সরলতাকে লক্ষ্য রাখিয়াছেন।
আকীদা নং-১১
আম্বিয়া (আঃ) গণ আল্লাহতায়ালার প্রেরিত পুরুষ। তাহারা মখলুক'কে আল্লাহতায়ালার দিকে ডাকিবেন, বিপথ হইতে সুপথে আনিবেন। যে সকল ব্যক্তি তাহাদের ডাকে সাড়া দিবে, তাহাদের জন্য বেহেশতের সুসংবাদ আছে। আর যে ব্যক্তি অস্বীকার করিবে, তাহার জন্য দোযখের শাস্তির ভয় প্রদর্শন করিবেন। আম্বিয়া (আঃ) গণ যাহা কিছু আল্লাহতায়ালার নিকট হইতে বলিয়াছেন, তাহা সমস্তই সত্য।
আকীদা নং-১২
সমস্ত নবী (আঃ) এর শেষ হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)। তাঁহার দীন সমস্ত অতীত দীনের পরিবর্তনকারী। তাঁহার কিতাব সমস্ত অতীত কিতাবগুলি হইতে শ্রেষ্ঠ। তাঁহার শরীয়ত পরিবর্তিত হইবে না; বরং কেয়ামত পর্যন্ত অবিকল থাকিবে। হযরত ঈসা (আঃ) আসিয়া তাঁহারই শরীয়তের উপর আমল করিবেন; তাঁহারই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হইবেন।
আকীদা নং-১৩
যাহা কিছু হযরত নবী করীম (সাঃ) আখেরাত সম্বন্ধে বলিয়াছেন, সবই সত্য অর্থাৎ কবরের আযাব, উহার সংকীর্ণতা, মনকির নকীবের সওয়াল জওয়াব, দুনিয়া ধ্বংস হওয়া, জমিন ও পাহাড় সমূহ টুকরা টুকরা হওয়া, মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত হওয়া, রূহ পুনরায় শরীরে আসা, কেয়ামতের কম্পন ও ভয়, হিসাব গ্রহণীয় আমলগুলির উপর অংগ প্রত্যংগগুলোর সাক্ষ্য প্রদান, নেক ও বদ আমলনামাগুলি উড়িয়া ডান ও বাম হস্তে আসা, ভাল-মন্দ আমলগুলির বিচারের জন্য দাঁড়িপাল্লা রাখা, তদ্বারা ভাল-মন্দ আমলগুলির কমবেশী জানা, নেকীর পাল্লা ভারী হইলে পরিত্রাণ হইবে, আর যদি হাল্কা হয়, তবে ধ্বংস হইবে। এই দাঁড়িপাল্লা ভারী ও হাল্কা হওয়া দুনিয়ার ন্যায় নহে। সেখানে ভারী পাল্লা উপরের দিকে যাইবে, আর যে পাল্লা নীচের দিকে যাইবে, তাহা হাল্কা হইবে। সমস্ত কিছুই সত্য ও সঠিক।
আকীদা নং-১৪
আম্বিয়া (আঃ) গণের ও সালেহীনগণের শাফায়াত সত্য অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার হুকুমে পয়গম্বর (আঃ) গণ প্রথমে গোনাহগার ঈমানদারগণকে শাফায়াত করিবেন। অতঃপর সালেহীনগণ করিবেন। রাসূলে করীম (সাঃ) বলিয়াছেন, "শাফায়াতী লে আহলেল্ কাবায়েরে মিন উম্মাতী"। অর্থাৎ আমার উম্মতের কবিরা গোনাহকারীগণের জন্য আমার শাফায়াত হইবে।
আকীদা নং-১৫
পুলসেরাত সত্য। ইহা দোযখের উপর রাখা আছে। মোমেনগণ এই পুল পার হইয়া বেহেশতে যাইবেন। আর কাফেরগণ পদস্খলিত হইয়া দোযখে পড়িবে।
আকীদা নং-১৬
বেহেশত মোমেনগণের আরামের স্থান। দোযখ কাফেরদের আযাবের স্থান। দুইটিই মখলুক (সৃষ্টি)। ইহাদেরকে তৈয়ার করা হইয়াছে। চিরকাল থাকিবে, ধ্বংস হইবে না। হিসাব কিতাবের পর যখন মোমেন বেহেশতে যাইবেন, সেখানে চিরকাল তাঁহারা আরামে থাকিবেন; কখনও বাহির হইবেন না। এই রকম কাফেরগণ দোযখে যাইবে, চিরদিন আযাবে থাকিবে, তাহাদের আযাবের কোনরূপ কমতি হইবে না।
আকীদা নং-১৭
যাহার অন্তরে বিন্দুমাত্র ঈমান থাকিবে, তিনি দোযখ হইতে আজাব শেষে নাজাত পাইবেন অর্থাৎ গোনাহের আধিক্য তাহাকে প্রথমে দোযখে ফেলিবে। গোনাহের পরিমাণ আযাব দিয়া আবার দোযখ হইতে বাহির করা হইবে। ঈমানের বরকতে কাফেরদের ন্যায় তাহার মুখকে কাল করিবে না ও তওক জিঞ্জির পরাইবে না।
আকীদা নং-১৮
ফেরেশতা আল্লাহপাকের সম্মানী বান্দা। আল্লাহতায়ালার আদেশের নাফরমানী করা তাহাদের স্বভাবে নাই। যে আদেশ আসে, তাহা তাহারা পালন করেন। তাহারা পুরুষ ও স্ত্রী হইতে পাক। তাহাদের সন্তান প্রসব ও বংশ বৃদ্ধি নাই। আল্লাহতায়ালা রেসালতের জন্য তাহাদিগকে মাধ্যম ও মকবুল করিয়াছেন এবং তাহারা নবী (আঃ) দের নিকট অহী পৌঁছাইয়া থাকেন। পয়গম্বরগণের কিতাব ও সহিফাসমূহ তাহারা পৌঁছাইয়া থাকেন। ভুলত্রুটি হইতে তাহারা সুরক্ষিত। দুশমনদের ধোকা হইতে তাহারা নিরাপদ। তাঁহারা যাহা কিছু আল্লাহতায়ালার নিকট হইতে পৌঁছাইয়াছেন, তাহা সবই সত্য। ইহাতে কোন প্রকার শোবা-সন্দেহ নাই। ফেরেশতাগণ হকতায়ালার মহত্ব ও গৌরব হইতে ভীত ও তাহার আদেশসমূহ পালন করা ছাড়া তাহারা আর কোন কাজ করেন না।
আকীদা নং-১৯
ঈমান আন্তরিক বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকারোক্তিকে বলে।
আকীদা নং-২০
ঈমানদার ব্যক্তি গোনাহে কবীরা করিলেও ঈমান চলিয়া যায় না, কাফেরের অন্তর্ভুক্ত হয় না। কথিত আছে, একদা ইমাম আজম (রঃ) একদল আলেমের মধ্যে বসিয়া ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল যে, সেই ঈমানদার ফাসেক সম্পর্কে আপনারা কি বলেন, যে নিজ পিতাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করিয়াছে, তাহার মাথার খুলিতে শরাব পান করিয়াছে, শরাব পান করিয়া নিজ মাতার সহিত ব্যভিচার করিয়াছে। সেই ব্যক্তি ঈমানদার আছে, না কাফের হইয়া গিয়াছে? প্রত্যেক আলেম এই মাসলাতে ভুল করিল ও ব্যাপার বহু দূর লইয়া গেল।
ইতিমধ্যে ইমাম আজম (রঃ) ছাহেব বলিলেন যে, সেই ব্যক্তি ঈমানদার আছে। এবম্বিধ গোনাহে কবিরাগুলি করাতে তাহার ঈমান চলিয়া যায় নাই। ইমাম আজমের এই কথা আলেমদের অপছন্দ হইল। তাঁহার সম্বন্ধে নিন্দাবাদ ও গালিগালাজ দ্বারা জিহ্বা লম্বা করিল। অবশেষে সকলেই ইমাম আজম (রঃ) ছাহেবের এই সত্য কথা মানিয়া লইল। যদি ঈমানদার ব্যক্তি মৃত্যু যন্ত্রণার পূর্বে তওবা করিয়া লয়, তবে পরিত্রাণের বড় আশা আছে; কেননা সেই সময় পর্যন্ত তওবা কবুল হওয়ার সুসংবাদ আছে।
আর যদি তওবার সুযোগ সুবিধা না হয়, তবে তাহা আল্লাহতায়ালার নিকট সোপর্দ করা হইবে। তিনি ইচ্ছা করিলে মাফ করিয়া দিতে পারেন; আবার গোনাহের পরিমান অনুযায়ী শাস্তি দানের জন্য দোযখে দিতে পারেন। কিন্তু শেষে তাহার পরিত্রাণ আছে। কেননা আখেরাতে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া শুধুমাত্র কাফেরদের জন্য নির্দিষ্ট। যে ব্যক্তির এক বিন্দুও ঈমান আছে, তাহারও রহমতের আশা আছে। গোনাহের কারণে প্রথমে যদিও রহমত আসিবে না, তবে শেষে আল্লাহর রহমত তাহার উপর বর্ষিবে।
আকীদা নং-২১
হযরত রাসূলে পাক (সাঃ) এর পর সত্য ইমাম ও খলিফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ), তাঁহার পর হযরত উমর ফারুক (রাঃ), তাঁহার পর হযরত ওসমান (রাঃ), তাঁহার পর হযরত আলী ইবনে তালেব (রাঃ), তাঁহাদের শ্রেষ্ঠত্ব তাঁহাদের খেলাফতের ক্রমিকানুসারে।
হযরত আবুবকর (রাঃ) ও হযরত উমর ফারুক (রাঃ) ছাহেবদ্বয়ের শ্রেষ্ঠত্ব সাহাবা ও তাবেঈনগণের এজমার দ্বারা প্রমাণিত হইয়াছে। ইহা ইমামগণের একটা বড় দল নকল করিয়াছেন। তন্মধ্যে ইমাম শাফী (রঃ) ও শায়খ আবুল হোসেন আশারী (রঃ) ছাহেব বলিয়াছেন, শায়খদ্বয়ের শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য উম্মতের উপর অকাট্য। কেবল মূর্খ ও হিংসুটে লোকগণ ব্যতীত ইহা কেহই অস্বীকার করেন না। হযরত আলী (রাঃ) ছাহেব বলিয়াছেন যে, যে কেহ আমাকে হযরত আবুবকর (রাঃ) ও হযরত উমর (রাঃ) ছাহেবদ্বয়ের উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিবে সে প্রবঞ্চক। আমি তাহাদিগকে এমনভাবে প্রহার করিব, যেমন দোষারোপকারীদিগকে করা হয়।
তালেবীন" কিতাবে একটি হাদীস নকল করিয়াছেন, হযরত রাসূলে হযরত গউস পাক আব্দুল কাদের জেলানী (রঃ) নিজের "গুনিয়াতুত পাক (সাঃ) বলেন যে, আমার উরুজ' হইল, আমি আমার রবকে বলিলাম, আমার পরে আমার খলিফা হযরত আলী (রাঃ) হউক। ফেরেশতাগণ বলিলেন, হে মুহাম্মদ (সাঃ)! যাহা কিছু আল্লাহপাক চাহিবেন তাহাই হইবে। আপনার পরে খলিফা হযরত আবুবকর (রাঃ)। তিনি ইহাও উক্ত কিতাবে উল্লেখ করিয়াছেন যে, হযরত আলী (রাঃ) বলিতেন যে, হযরত পয়গম্বর (সাঃ) দুনিয়া হইতে চলিয়া যান নাই, যতক্ষণ না তিনি আমার নিকট অংগীকার গ্রহণ করিয়াছেন যে, আমার ইন্তেকালের পর হযরত আবুবকর (রাঃ), তৎপর হযরত উমর (রাঃ), তৎপর হযরত উসমান (রাঃ) ও সকলের পরে তুমি খলিফা হইবে।"
আকীদা নং-২২
ইমাম হাসান (রাঃ) ছাহেব ইমাম হোসাইন (রাঃ) ছাহেব হইতে শ্রেষ্ঠ।
আকীদা নং-২৩
সুন্নী জামাতের উলামাদের মতে হযরত আয়েশা সিদ্দীকাকে এলেম ও এজতেহাদে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হইয়াছে। ফাতেমা (রাঃ) কে "বতুল" বলা হয়। হযরত শায়খ আব্দুল কাদের জেলানী (রাঃ) ছাহেব নিজ কিতাবে হযরত ফাতেমা (রাঃ) কে শ্রেষ্ঠ জানিতেন। ফকিরের বিশ্বাস এই যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) ছাহেবা এলেম ও এজতেহাদে শ্রেষ্ঠ। আর হযরত ফাতেমা (রাঃ) যোহদ বা দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি হিসাবে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। এই জন্য হযরত ফাতেমা (রাঃ) ছাহেবাকে 'বতুল' বলা হয়। হযরত আয়েশা (রাঃ) ফতোয়ার জন্য লক্ষ্যস্থল ছিলেন। হযরত নবী করীম (সাঃ) এর সাহাবা বৃন্দ যখন কোন এলেমে (ফতোয়া বা মল্লায়) মুশকিলে পড়িতেন, তখন হযরত আয়েশা (রাঃ) এর নিকট যাইয়া উহা মিমাংসা করিয়া লইতেন।
আকীদা নং-২৪
যে সব লড়াই বা ঝগড়া সাহাবাগণের মধ্যে হইয়াছিল যেমন জামাল বা সফফীনের ঝগড়া, তাহার বুঝাবুঝির জন্য ও মিমাংসার জন্য উহা সৎ অর্থের উপর রাখা দরকার। কেননা ঐ বুজুর্গগণের নাফস হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর সোহব্বতের কারণে পাক ও লোভ লালসা হইতে পবিত্র ছিল। যদি তাহাদের মধ্যে মিমাংসা হইত, তাহাও সত্য ছিল: যদি লডাই হইত, তাহাও ন্যায়সংগত ছিল। প্রত্যেকে নিজ নিজ এজতেহাদ অনুযায়ী আমল করিয়াছেন। যে ব্যক্তি নিজ এজতেহাদে দৃঢ় ছিলেন তাঁহার দুইটি সম্মান বরং দশটি দর্জা লাভ হইয়াছে। আর যিনি এজতেহাদে ভুলকারী ছিলেন, তাহার একটি দর্জা লাভ হইয়াছে। অতএব নির্ভুলকারীর ন্যায় ভুলকারীর উপর হইতেও দোষ চলিয়া গেল, বরং সওয়াবের দর্জা সমূহের মধ্যে একটি সওয়াবের দর্জা তিনি পাইলেন। আলেমগণ বলেন, এই যুদ্ধে সত্য হযরত আলী (রাঃ) ছাহেবের পক্ষে ছিল। বিরুদ্ধবাদীগণ এজতেহাদের মধ্যে নির্ভুল ছিলেন না। কিন্তু তাহারা তিরস্কারের পাত্র নহেন। এখানে তিরস্কারের কোন স্থান নাই। হযরত আলী (রাঃ) বলিয়াছেন, আমার ভাইগণ আমার উপর বিদ্রোহী হইয়াছেন। ইহারা কাফেরও নন, ফাসেকও নয়। কেননা তাঁহাদের নিকট সৎ অর্থ আছে। কাজেই তাঁহাদের কুফর ও ফেস্ক কিছুই আসিতে পারে না।
হযরত পয়গম্বর (সাঃ) বলিয়াছেন যে, “ইয়াকুম অমা শাজারা বায়না আসহাবী" অর্থাৎ যে মতভেদ সমূহ আমার সাহাবাগণের জন্য হইবে, তাহা হইতে নিজেদের বাঁচাও। অতএব নবী করীম (সাঃ) এর সমস্ত সাহাবাগণকে বুজুর্গ জানা দরকার। সকলকে সৎভাবে স্মরণ করিতে হইবে। উহাদের কাহারো উপর কু-ধারণা করা চলিবে না। তাঁহাদের লড়াই ঝগড়াকে অপরের ছোলেহ বা মিমাংসা হইতে শ্রেষ্ঠ জানা দরকার। ইহাই পরিত্রাণের রাস্তা।
আকীদা নং-২৫
হযরত নবী করীম (সাঃ) কেয়ামতের যে সমস্ত নিদর্শন বলিয়াছেন, তৎসমুদয়ই সত্য। ইহার কোনরূপ ব্যতিক্রম ঘটিবে না, অর্থাৎ সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় হইবে, হযরত মেহেদী (আঃ) আসিবেন, হযরত ঈসা (আঃ) অবতরণ করিবেন, দাজ্জাল বাহির হইবে, ইয়াজুজ-মাজুজ জাহের হইবে, 'দাব্বাতুল আরদ' নামক এক প্রকার অদ্ভুদ জন্তু বাহির হইবে, আসমান হইতে ধোঁয়া আসিবে, সেই ধোঁয়া সকলকে ঢাকিয়া ফেলিবে, কঠিন শাস্তি দিবে, লোকেরা চঞ্চল হইয়া পড়িবে, লোক সেই আজাব হইতে পরিত্রাণের জন্য ঈমানের অংগীকার করিতে থাকিবে এবং অবশেষে আদন অগ্নি বাহির হইবে।
উল্লিখিত সমুদয় আকীদাই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদা। ইহাই বিশুদ্ধ বা নির্ভুল আকীদা। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব উক্ত আকীদা সমূহ যেমন চিঠি পত্রের মাধ্যমে প্রচার করিয়াছেন, তেমনি সভা-সমিতিতে ওয়াজ নসিহত বা কার্যকরী ভাষণের মাধ্যমে প্রচার করিয়াছেন। ফলে, তাঁহার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেমনি ভ্রান্ত মতবাদসমূহ বিদূরীত হইল, তেমনি বিশুদ্ধ আকীদা সম্বলিত সুন্নী মতবাদ দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হইল। তিনি তদীয় সংস্কার আন্দোলনে আরও এক ধাপ অগ্রসর হইলেন।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের দৃষ্টিতে হক আকীদার গুরুত্বঃ
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলেন, "শরীয়তের দুইটি অংশ। যথাঃ বিশ্বাস ও আমল। ইহার মধ্যে বিশ্বাস বা আকীদার গুরুত্ব সর্বাধিক। আমলের অলসতার জন্য ক্ষমার আশা আছে, কিন্তু বিশ্বাসের অলসতার ওপর মার্জনার স্থান নাই। "শেরেক ব্যতীত সমস্ত গোনাহ যাহার জন্য ইচ্ছা আল্লাহতায়ালা মাফ করিবেন।"-(আল কুরআন)"
বিশ্বাস বা আকীদা হইল মূল। আমল হইল তাহার শাখা-প্রশাখা। বলা যায়, আমল হইল বিশ্বাসের প্রতিবিম্ব। বিশ্বাসের ভিত্তি যদি দুর্বল হয়, আমল বিশুদ্ধ হইতে পারে না। এই কারণেই বিশ্বাস বা আকীদার গুরুত্ব দেওয়া হইয়াছে সব কিছুর চেয়ে বেশী। মূলতঃ আকীদাগত ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণেই এক আল্লাহর বান্দা হওয়া সত্ত্বেও, এক নবীর উম্মত হওয়া সত্ত্বেও, একই কুরআনের অনুসারী হইয়াও মুসলমানগণ বহুদলে তথা ৭৩ ফেরকায় বিভক্ত হইয়া পড়িয়াছে। ইহার মধ্যে একটিই মাত্র পরিত্রাণ প্রাপ্ত দল।
হে জাকেরান ও আশেকান সকল! তোমরা যদি খোদাতায়ালার সান্নিধ্য অর্জন করিতে চাও, খোদাতায়ালার রেজামন্দী হাছিল করিতে চাও, তবে তোমাদের বিশ্বাস বা আকীদা উল্লিখিত আকীদার অনুরূপ কিনা, যাচাই করিয়া দেখ। উপরে বর্ণিত আকীদাসমূহ সুন্নী জামাতের আকীদা-যাহা সিরাতুল মোস্তাকীমের উপর প্রতিষ্ঠিত।
হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীসে আছেঃ রাসূলে করীম (সাঃ) উপমা দিয়া বুঝাইবার জন্য একটি সরল রেখা টানিলেন এবং বলিলেন, "ইহা আল্লাহর রাস্তা।" অতঃপর তিনি উহার ডানে-বামে আরও কতকগুলি বক্র রেখা টানিলেন এবং বলিলেন, এই গুলিও রাস্তা, তবে এই গুলির প্রত্যেক রাস্তার উপরই একজন করিয়া শয়তান দাঁড়াইয়া আছে। সে লোকদিগকে নিজের দিকে আহবান করে। অতঃপর রাসূলে করীম (সাঃ) পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত পাঠ করিলেন। যাহার অর্থ-নিশ্চয়ই ইহা আমার সরল সঠিক পথ বা সিরাতুল মোস্তাকীম। তোমরা ইহারই অনুসরণ করিবে এবং অন্যান্য পথ পরিত্যাগ করিবে। (আহমদ, মেশকাত)
কাজেই, রাসূলে পাক (সাঃ) কর্তৃক অংকিত সরল সোজা রাস্তাই হইল আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের পথ। বাকী বক্ররেখাসমূহ পথভ্রষ্ঠ ফেরকাগুলির পথ-যে পথগুলির শেষ ঠিকানা জাহান্নাম-যাহা চিরস্থায়ী অগ্নিকুন্ডের আকর।
হে জাকেরান ও আশেকান সকল! ইহা তোমাদের জন্য সুসংবাদ যে, তোমরা সকলেই সুন্নী জামাতের অন্তর্ভুক্ত। তবে শুধু দলভুক্ত হইলেই চলিবে না; এই দলের আকীদা অনুযায়ী আকীদাকে দোরস্ত করিয়া অতঃপর আমলের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করিতে হইবে।
আমার পীর কেবলাজান হযরত খাজাবাবা শাহ্সূফী এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেব আজীবন খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞান প্রচারের সাথে সাথে সুন্নী জামাতের আকীদানুযায়ী আকীদাকে দোরস্ত করার প্রতি জোর তাগিদ দিয়াছেন।
তোমরা তোমাদের আকীদাকে সঠিক মানদন্ডে রাখিয়া ফরজ, ওয়াজেব, সুন্নত, নফল, মোস্তাহাব আমলসমূহ এবং তরিকার নিয়ম পদ্ধতি ঠিক ঠিক মত প্রতিপালন কর। ইহাতে পীরের মহব্বত দেলে পয়দা হইবে। পীরের মহব্বত পয়দা হইলে, আল্লাহ রাসূলের মহব্বতও দেলে পয়দা হইবে। খোদা প্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞান তোমরা সহজেই হাছিল করিতে পারিবে। মাঞ্জিলে মাক্কুদে পৌঁছানো তোমাদের জন্য সহজ হইবে। আল্লাহপাক তোমাদিগকে কামিয়াবী বখশিস করুন। আমীন!







