খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব আল্লাহতায়ালার জাতের (সত্ত্বার) সান্নিধ্য প্রাপ্ত সাধক

খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে শাহ্সূফি হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) ও খাজা বাহাউদ্দীন নক্শবন্দ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব আল্লাহতায়ালার জাতের (সত্ত্বার) সান্নিধ্য প্রাপ্ত সাধকঃ
বিজ্ঞাপন
হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশ্বন্দ (রঃ) ছাহেবের মর্যাদা ও তাঁহার তরিকার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সুফী সাধক ও মরমী কবি হযরত মাওলানা আব্দুর রহমান জামী (রঃ) ছাহেব বলেন,
"এতো সেই প্রস্তরময় মদিনার ধন;
এখন যা বোখারাতে পেয়েছে জীবন।
বিজ্ঞাপন
বোখারায় নকশা আঁকে শাহে নকশবন্দ
কে আছে আশেক তার নসীব বুলন্দ?
শুরুতেই শেষ মিলে তাঁর তরিকায়
বিজ্ঞাপন
শেষ তার কি বাহার বলা নাহি যায়।"
পূর্বেই বলা হইয়াছে, খোদাপ্রাপ্তির পথের তৃতীয় কদম বা লতিফায়ে কালব হইতে যাত্রা শুরু হয় নকশ্বন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া তরিকায়। ফলে অল্প সাধনান্তেই ছালেক পরিচিত হয় কালবের মূলের মূল তাজাল্লীয়াতে আফয়াল (আল্লাহতায়ালার ক্রিয়া কলাপের নূর)-এর সাথে। পরবর্তী কদমে অর্থাৎ লতিফায়ে রূহের সাথে সম্পর্ক হইলে ছালেকের নিকট তাজাল্লীয়াতে সিফাত (গুণাবলীর নূর) প্রকাশ পায়। ইহার পরবর্তী কদমে অর্থাৎ লতিফায়ে সেরের সাথে সম্পর্ক হইলে ছালেকের নিকট তাজাল্লীয়াতে জাত (আল্লাহতায়ালার জাতি নূর) প্রকাশ পায়। এমনি ভাবে উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকে।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রাঃ) ছাহেব খোদাতায়ালার সান্নিধ্য সম্পর্কে তদীয় মুকাশিফাতে আয়নিয়াতে বলেনঃ খোদাতায়ালার নৈকট্য দুই প্রকার, যথাঃ
বিজ্ঞাপন
১। তাহার জাত (সত্তা)-এর নৈকট্য বা সান্নিধ্য এবং
২। তাহার সিফাত (গুণাবলী)-এর সান্নিধ্য বা নৈকট্য।
আর যে নৈকট্য আসমা (আল্লাহতায়ালার নামসমূহ) ও সিফাতের প্রতিবিম্বের সহিত সম্পৃক্ত, উহা মূলতঃ নৈকট্যের বৃত্তের বাহিরে অবস্থিত। ইহাকে রূপক অর্থে নৈকট্য বলা যায়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, খোদাতায়ালার নৈকট্য প্রাপ্তি মূলতঃ আম্বিয়া (আঃ) আর নবুয়তের মর্তবার পূর্ণতাপ্রাপ্তি হইল-পূর্ণ অনুসরণ। কাজেই আম্বিয়া দের জন্যই নির্ধারিত, যাহারা স্ব-স্ব যোগ্যতানুযায়ী ইহা প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। (আঃ)দের অনুসারীগণ, তাঁহাদের অনুসরণের দ্বারা আপন আপন যোগ্যতা অনুসারে যাবে এই মর্যাদা প্রাপ্ত হন। আর মূলতঃ যাহারা অনুসরণের দ্বারা আল্লাহতায়ালার জাতি-নৈকট্য লাভে সক্ষম হন, তাঁহারাই হইলেন সাবেকীন বা অগ্রবর্তীদলের অন্তর্ভুক্ত। যাহাদের সম্পর্কে আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে বলেন,
وَ السَّابِقُونَ السَّابِقُونَ أُوْلَئِكَ الْمُقَرَّبُوْنَ
অর্থাৎ-"অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই। তাঁহারাই খাছ নৈকট্যের অধিকারী।" (সূরা ওয়াকিয়াঃ ১০-১১)
বিজ্ঞাপন
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রাঃ) ছাহেব আরও বলেন যে, "তাঁহাদের একটি বড় দল অগ্রবর্তীদের মধ্য হইতে হইবে এবং কমসংখ্যক পরবর্তী লোকদের মধ্য হইতে হইবে। অগ্রবর্তীদের মধ্যে হাজার হাজার আম্বিয়া (আঃ) ছিলেন, আর ছিলেন তাঁহাদের লক্ষ লক্ষ সাথী বা আসহাব। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এবং তাঁহার প্রিয় আসহাবগণও ইহাদের মধ্যে সামিল। আর পরবর্তী কম সংখ্যক লোকদের মধ্যে হযরত ইমাম মেহেদী (আঃ) ও তাঁহার সাথী-সংগীগণ হইবেন, যাহারা আখেরী উম্মত হিসেবে এই দৌলতের অধিকারী হইবেন।" এই সম্পর্কে নবী করীম (সাঃ) বলেন, "আমি জানি না যে, আমার উম্মতের প্রথম অংশ উত্তম, না শেষ অংশ?"
উপরের আলোচনা হইতে বুঝা গেল-উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে
খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞান অর্জনের পথে যাহারা শরীয়ত ও সুন্নতের পুরাপুরি অনুসরণ করিতে সক্ষম হইবেন, তাহারাই খোদাতায়ালার জাতি-নৈকট্য লাভে ধন্য হইবেন। রাসুলে পাক (সাঃ) এর অনুসরণ ব্যতীত খোদাতায়ালার জাতি-সান্নিধ্য অসম্ভব।
বিজ্ঞাপন
হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব শরীয়ত ও সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসরণকারী ছিলেন বিধায় আল্লাহতায়ালা তাঁহাকে দয়া করিয়া প্রতিবিম্বের বৃত্ত হইতে আসল মারেফাত-বৃত্তে উন্নীত করেন এবং স্বীয় জাতি নৈকট্য প্রদান করেন।
খাজা বাহাউদ্দিন (রঃ) ছাহেব 'ওজুদ মাওহুব লাহু" বা খোদাপ্রদত্ত নূরের শরীর প্রাপ্ত সাধকঃ
শরীয়ত ও সুন্নতের অনুসরণের কারণে যে সকল সাধকের উপরে আল্লাহতায়ালা প্রীত হন, তাঁহাদেরকে বেলায়েতে কোবরার শেষ দায়েরা কাওছের মাকামে উন্নীত করিয়া নূরের তৈরী এক বিশেষ দেহ দান করেন-যাহাকে "ওজুদ মাওহুব লাহু” বলা হয়। ওজুদ মাওহুব লাহুর গতি বিদ্যুতের চেয়েও কোটি গুণ বেশী। ওজুদ মাওহুব লাহু বা খোদাপ্রদত্ত নূরের দেহের সাহায্যে সাধক ছায়েরে এস্মোজ্জাহের ও ছায়েরে এস্মোল বাতেন সম্পন্ন করেন।
বিজ্ঞাপন
ছায়েরে এস্মোজ্জাহেরের মাধ্যমে সাধক সিফাতে হাকীকীতে তথা হায়াত, এলেম, কুদরত, এরাদত, সামাওয়াত, বাছারত, কালাম ও তাকবীনে যেমন ছায়ের করে, তেমনি সিফাতে এজাফিয়া, আলমে আমর ও আলমে খালেক ব্যাপক ছায়ের করিয়া খোদাতায়ালার সৃষ্টি সম্পর্কে ও তাহার সিফাত সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করিতে সক্ষম হয়। আর ছায়েরে এস্মোলবাতেনের মাধ্যমে সাধক সিফাত মিশ্রিত জাতে তথা আসমা সমূহে (নাম সমূহ) বিচরণ করে। এস্মোল বাতেনের ছায়ের যদিও আসমার ছায়ের তবুও ইহাতে আল্লাহতায়ালার জাত সম্পৃক্ত। আসমাতে ছায়ের শেষ হইলেই সাধক জাতে পৌঁছাইতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়ঃ যেমন এলেম (জ্ঞান) সিফাতের মধ্যে জাত নাই, আলীম (আসমা) এর মধ্যে জাত বিদ্যমান-যাহা এলেমের পর্দার অন্তরালে বর্তমান।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রাঃ) ছাহেব বলেন, আলীম (মহাজ্ঞানী) সেই জাত যিনি জ্ঞানের অধিকারী। কাজেই এলেমের মধ্যে ছায়েরকে ছায়েরে এস্মোজ্জাহের বলা হয়। আর আলীমের মধ্যে ছায়েরকে ছায়েরে এস্মোলবাতেন বলা হয়।
ছায়েরে এস্মোজ্জাহের ও ছায়েরে এস্মোলবাতেন দুই পাখা সদৃশ-যাহার উপর ভর করিয়া সাধকের ওজুদ মাওহুব লাহু সৃষ্টিতত্ত্বজ্ঞান ও স্রষ্টাতত্ত্বজ্ঞানের পরিপূর্ণতা অর্জন করিতে পারে, খোদাতায়ালার জাতি নূরের অসীম, অনন্ত আকাশে অবাধ শান্তিময় বিচরণ করিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন রাসুলে করীম (সাঃ) এর পরিপূর্ণ অনুসরণ। কারণ তাঁহার অনুসরণ ব্যতীত বেলায়েতে কোবরায় প্রবেশ করা যায় খোদাতায়ালার মহা নেয়ামত ওজুদ মাওহুব লাহু (নূরের দেহ) প্রাপ্ত না। আর বেলায়েতে কোবরার শেষ দায়েরায় না পৌঁছাইলে হওয়া যায় না। ওজুদ মাওহুব লাহু বা খোদাপ্রদত্ত নূরের দেহ ছাড়া জাতি-নৈকট্য লাভও সম্ভব নয়।
নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া সেই তরিকা যাহা সুন্নতের রং-এ রংগীন। এই কারণে এই তরিকার প্রধান প্রধান সাধক বর্গকে আল্লাহতায়ালা ওজুদ মাওহুব লাহু দানে ধন্য করেন-যাহার মাধ্যমে বিদ্যুতের চেয়ে কোটি গুণ বেগে ছায়ের করিয়া সাধক আল্লাহতায়ালার জাতি-নৈকট্য লাভ করেন। যে সকল সাধক বর্গকে আল্লাহতায়ালা উক্ত মহা নেয়ামত দান করিয়াছেন-তাহাদের মধ্যে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রাঃ) ছাহেব, হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রাঃ) ছাহেব, হযরত খাজাবাবা শাহসূফী এনায়েতপুরী (কূঃ) ছাহেব প্রমুখ অগ্রগণ্য।
খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব শরীয়ত ও সুন্নত প্রেমিক সাধকঃ
বিজ্ঞাপন
হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব শরীয়ত ও সুন্নত প্রেমিক সাধক ছিলেন। তিনি শরীয়ত ও সুন্নতকে কেমন ভালবাসিতেন এবং সুন্নতের কেমন অনুরাগী ছিলেন তাহা তাঁহার নিম্নলিখিত বাণী ও ঘটনা থেকেই বেশ ভাল বুঝা যায়।
তিনি বলেন, "ফরজ, ওয়াজেব ও সুন্নতে মোয়াক্কাদাসমূহ যথাযথভাবে পালন করাই আমাদের আদব। এই আদবই আমাদিগকে আল্লাহতায়ালার দয়ার দরওয়াজা দিয়া তাহার (জাতের) নিকট পৌঁছাইয়া দেয়।"
শরীয়তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, "শাঁসের হেফাজত খোসা দ্বারাই হয়। খোসার মধ্যে কোন ত্রুটি থাকিলে উহার প্রতিক্রিয়া শাঁসের উপরও পড়িবে। শরীয়ত খোসা আর তরিকত হইল শাঁস। তাই শরীয়তের বিধান প্রতিপালনে ত্রুটি দেখা দিলে অবশ্যই উহার প্রতিক্রিয়া তরিকতের উপরে পড়িবে।"
একদা এক লোক হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেবের যশ, খ্যাতি বা প্রসিদ্ধি শুনিয়া তাহার সমীপে হাজির হন। উদ্দেশ্য-বায়াত হইয়া নব আসান তরিকার মাধ্যমে খোদাপ্রাপ্তির সাধনা করা। একটানা ১৭ দিন খাজা ছাহেবের খেদমত করিয়াও কোন কারামত তাহার চোখে পড়িল না। তাহার ধারণা ছিল- যে সাধকের জীবনে কারামত বেশী, সেই সবচেয়ে বড় সাধক। যেহেতু ১৭ দিনে সে একটিও কারামত দেখিতে পাইল না, তাই খাজা ছাহেব সম্পর্কে তাহার হীন ধারণা হইল। সে ভাবিল, খাজা ছাহেবের নিকট মুরীদ হইয়া তাহার তেমন কোন লাভ হইবে না। ১৭ দিন অন্তে সেই লোক হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেবের নিকট তরিকা গ্রহণ না করিয়াই বিদায় প্রার্থনা করিলেন।
খাজা ছাহেব তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “বাবা, আপনিতো বায়াত হইতে আসিয়াছিলেন। বায়াত না হইয়া বিদায় চাহিতেছেন কেন?" উত্তরে লোকটি বলিল, "হুজুর, ১৭ দিন আপনার দরবারে অবস্থান করিলাম কিন্তু কোন কারামত বা অলৌকিক কর্মকান্ড দেখিতে পাইলাম না। কত ওলীর দরবারে কত কারামতের কথা শুনি। কিন্তু আপনার এখানে তাহার কিছুই নাই।" লোকটির কথা শুনিয়া হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশ্বন্দ (রঃ) ছাহেব বলিলেন, "বাবা, আপনি কি এখানে শরীয়তের কোন খেলাফ লক্ষ্য করিয়াছেন?" লোকটি বলিল, "না, তাহা দেখি নাই।” খাজা ছাহেব বলিলেন, "শরীয়তের কোন খেলাফ যে আপনি দেখিতে পান নাই-ইহাই সর্বাপেক্ষা বড় কারামত।”
হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব শরীয়ত ও সুন্নতের কেমন পাবন্দ ছিলেন, উল্লিখিত ঘটনা থেকে তাহার সহজ প্রমাণ মিলে। তাই খোদাতায়ালা তাহাকে এমন উচ্চ মর্যাদা দান করিলেন। রূহানী জগতে তাঁহার মর্যাদা সম্পর্কে নিম্নের ঘটনাটি প্রণিধানযোগ্য।
হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেবের সুনাম-সুখ্যাতি শুনিয়া ভিনদেশী এক দরবেশ বোখারাতে আসেন খাজা ছাহেবের সহিত সাক্ষাত করিবার অভিলাসে। হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব আগন্তক মেহমানকে খুবই আদর যত্ন করেন। অতিথির জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেন। খাছ কামরায় দুইজন তরিকত বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন।
রাত্রিতে মেহমানের সাথে জামাতে এশার নামাজ শেষ করেন। নামাজান্তে মেহমানকে পরিতৃপ্তির সাথে প্রস্তুুতকৃত সুস্বাদু ও উপাদেয় খাবার খাওয়ান; নিজেও অতিথির সাথে রাত্রির খাবার শেষ করেন। খাবারের পর্ব শেষ হইলে মেহমানকে তাঁহার কোঠায় পৌছাইয়া দিয়া নিজে নিজ খাছ কামরায় যাইয়া কিছু ওজিফা শেষে শুইয়া পড়েন। মেহমান না ঘুমাইয়া বরং জেকের আজকারে লিপ্ত থাকেন। কিছুক্ষণ বাদে এক খাদেমের নিকট থেকে তিনি সংবাদ পান যে, খাজা ছাহেব ঘুমাইয়া পড়িয়াছেন। ইহা শুনিয়া তিনিতো হতবাক। সারা দেশব্যাপী খাজা ছাহেবের কত নাম-ডাক, কত সুনাম-সুখ্যাতি অথচ তিনি এশার নামাজান্তে এবাদত না করিয়া শুইয়া পড়েন। আগন্তক দরবেশ ভাবিতেই পারেন না-ইহা কিভাবে সম্ভব?
নিশির শেষ ভাগ। রহমতের সময়। এই শেষ প্রহরে খাজা ছাহেব নিদ্রা থেকে জাগিলেন। অজু সম্পন্ন করিয়া তাহাজ্জুতের নামাজ আদায়ান্তে মেহমানের কোঠায় গেলেন।
অতিথি খাজা ছাহেবের দিকে তাকাইলেন। দৃষ্টি ফেলিতেই নিজের মধ্যে জযবা হাল পয়দা হইল। তিনি চিৎকার দিয়া বলিলেন, আপনার অবস্থাতো আমি বুঝিতেই পারিতেছি না। আপনি এশার নামাজান্তে এতক্ষণ ঘুমাইয়া কাটাইলেন, আর আমি না ঘুমাইয়া বরং জেকের-আজকারে অতিবাহিত করিলাম। অথচ আপনার ভিতরে এখন যে নূর দেখিতেছি- সেই তেজদীপ্ত নূরের নিকট আমার আত্মিক নূর যে নিবু নিবু প্রদীপের ন্যায়। আপনার নূর সূর্যের আলোর ন্যায় চারিদিক আলোকিত করিয়া আছে।
খাজা হযরত বাহাউদ্দিন নকশ্বন্দ (রঃ) ছাহেব মৃদু হাসিয়া নিজ হাল বা অবস্থা গোপন করিয়া শুধু বলিলেন, "ও! ইহাতো সেই সুস্বাদু ও উপাদেয় খাবারের নূর-যাহা এশার নামাজান্তে আমরা আহার করিয়াছিলাম।"
খোদা অন্বেষীদের জন্য খাজা হযরত বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেবের কিছু উপদেশঃ
মহান খোদাতত্ত্বজ্ঞ সাধক খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব বেশকিছু মূল্যবান উপদেশ রাখিয়া যান -যাহা খোদাতালাশীদের জন্য অতীব প্রয়োজন বিধায় নিম্নে তাঁহার কিছু কিছু উপদেশ তুলিয়া ধরা হইতেছে।
• খোদাতালাশীদের জন্য পীরের খেদমত করা ও তাহার ছহব্বতে থাকা একান্ত প্রয়োজন। এই প্রসংগে তিনি বলেন, "আল্লাহতায়ালার দোস্তগণের ছহব্বতে থাকা তালেবে মাওলাদের একান্ত কর্তব্য। শুধু তাহাই নয়, ছহব্বতের আদব রক্ষা করিয়া চলিতে হইবে। তিনি বলেন, মুরীদ যদি পীরের ছহব্বতের আদব রক্ষা করিয়া চলিতে পারে, তবে সে কামিয়াবী হইতে পারে। কারণ কামেল পীরের এক তাওয়াজ্জুতেই অন্তর্জগত এইরূপ পবিত্র ও নূরাণী হইয়া যায়-যাহা বহু কঠিন রেয়াজত ও সাধনার দ্বারাও হাছিল করা সম্ভব নয়।"
• পীরের প্রতি মুরীদের শ্রেষ্ঠতম আদব হইল, তাঁহার হাতে এমনভাবে থাকা যেমন ধৌতকারীর হাতে মুর্দা থাকে। ধৌতকারীর নিকট মুর্দার কোন ইচ্ছা-অনিচ্ছা থাকে না। এ প্রসংগে হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশ্বন্দ (রঃ) ছাহেব বলেন, "মুরীদের কর্তব্য নিজের এখতিয়ারকে পীরের মর্জির মধ্যে বিলীন করিয়া দেওয়া। ইহাকে তসলিম বা আত্মসমর্পণ বলা হয়। পীরে কামেল বিচক্ষণ, অভিজ্ঞ ও নিপুণ চিকিৎসকের ন্যায়। তিনি প্রয়োজন অনুসারে মুরীদের বাতেনী রোগের প্রতিষেধক প্রয়োগ করিয়া থাকেন। এই চিকিৎসার ব্যাপারে মুরীদের নিজস্ব ইচ্ছার অনুপ্রবেশ প্রাণনাশক বিষতুল্য।"
• খোদাপ্রাপ্তির পথে সর্বাপেক্ষা বড় পর্দা নাফসে আম্মারা। কোনমতেই সে খোদাতালাশীকে খোদামুখী হইতে দিবে না। এই কারণে খোদাতালাশীকে সর্বদাই নাফসের বিরোধিতা করিতে হয়। নাফস যাহা চায় তাহার বিপক্ষে কাজ করিতে হয়। উদ্দেশ্য-নাফসে আম্মারার সম্পর্ক ছিন্ন করণ। কারণ নাফসের সম্পর্ক যতক্ষণ ছিন্ন করা না যায়, ততক্ষণ খোদাপ্রাপ্তির আশা বৃথা। তাই প্রত্যেক সাধকই তাহার মুরীদবর্গকে নাফসের কামনা-বাসনার বিরোধিতা করিতে নির্দেশ দেন। এই প্রসংগে খাজা হযরত বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব বলেন, "যদি তুমি আবদালের মাকামে পৌছিবার বাসনা রাখ, তবে সকল সময় তোমার নাফসের বিরোধিতায় লিপ্ত থাক।" তিনি আরও বলেন, "যে পর্যন্ত তোমার নাফসে আম্মারার শক্তি বা আমিত্ববোধ অবশিষ্ট থাকিবে, সেই পর্যন্ত কোন আমলেই তোমার ফল পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই।" তিনি আরও বলেন, "নাফসের কামনা মিশ্রিত জায়েয কার্যের ক্ষেত্রেও নাফসের বিরোধিতা করা উচিত। নাফসের বিরোধিতাকারী ব্যক্তির সামান্য আমলও অধিক মূল্যে গৃহীত হয়।"
• শরীয়তে পাঁচ রোকন নির্ধারিত। যথাঃ- ঈমান, নামাজ, রোজা, যাকাত ও হজ্ব। তেমনি তরিকত বা খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞান হাছিলের পথে পাঁচটি রোকন আছে, যথাঃ- জেকের (খোদাতায়ালার স্মরণ), রাবেতা (আপন পীরের সুরত কল্পন), মুরাকাবা (ধ্যান), শোগল (সার্বক্ষণিক হিসাব গ্রহণ) এবং মোহাছাবা (শয়নপূর্বে সারাদিনের কৃতকর্মের হিসাব গ্রহণ)।
তরিকতের উল্লিখিত পাঁচটি রোকন সম্পর্কে খোদাতত্ত্বজ্ঞ সাধক খোদাতালাশীদের শিক্ষা দিয়া থাকেন।
• জেকের সম্পর্কে কুরআন শরীফে বহু তাগিদ আসিয়াছে। রাসূলে পাকও (সাঃ) জেকেরকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশ্বন্দ (রঃ) ছাহেব জেকের সম্পর্কে বলেন, "গাফলত ও অমনোযোগিতা দূর করিবার নামই জেকের। যদি তুমি গাফলত ও অমনোযোগিতা দূর করিতে সক্ষম হও, তবেই তুমি আল্লাহপাকের নিকট জেকেরকারী বলিয়া গণ্য হইবে, যদিও তুমি নীরব থাক। ওকুফে কালবী (কালব সম্পর্কে জ্ঞাত হওন) সর্বদাই প্রয়োজন। খাওয়া-দাওয়া, কথা-বার্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ইবাদত-বন্দেগী, তেলাওয়াত, লেখা-পড়া, ওয়াজ-নসিহত সকল অবস্থাতেই জেকেরের প্রতি খেয়াল রাখিতে হইবে। তবেই উদ্দেশ্য সফল হইবে। মুহূর্ত পরিমাণ সময়ের জন্য আল্লাহতায়ালার জেকের হইতে গাফেল থাকা উচিত নয়। হয়তো যে সময় তুমি গাফেল থাকিবে, ঐ সময়ই খোদাতায়ালার তরফ হইতে তোমার প্রতি খাছ রহমত বর্ষিত হইবে। ফলে গাফেল থাকার কারণেই তুমি সেই রহমত প্রাপ্তি থেকে মাহরুম (বঞ্চিত) হইবে।
এই জন্যই বুযুর্গগণ বলিয়াছেন, যদি তুমি একটি পলকও আল্লাহর জেকের হইতে গাফেল থাক, তবে সারা জীবনেও ঐ ক্ষতির ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। বাতেনের প্রতি খেয়াল রাখা অবশ্য অতি কঠিন ব্যাপার। কিন্তু আল্লাহতায়ালার খাছ রহমত এবং পীরে কামেলের নেক নজর যদি তোমার সংগী হয়, তবে উহা সহজেই হাছিল হইয়া যায়। তাই হয়তো ওলী-আল্লাহ সকল বলিয়াছেন, তোমার আমলনামার আমল সমূহ যদি আসমান সমানও হয়, তবু আল্লাহর অনুকম্পা ও তাঁহার পেয়ারা বান্দাদের তরবিয়ত যদি নছিব না হয়, তবে আমল নামার পৃষ্ঠা অন্ধকারাচ্ছন্নই থাকিবে।
• মুরাকাবা সম্পর্কে হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশ্বন্দ (রঃ) ছাহেব বলেন, "সৃষ্টির প্রতি নজর রাখাকে পাপ মনে করিয়া স্রষ্টার প্রতি নজর রাখার নামই মুরাকাবা। সব সময় মুরাকাবা অবস্থায় থাকা খুবই কঠিন কাজ। নাফসের কামনা-বাসনার বিরোধিতা করাকেই আমি মুরাকাবা হাছিলের তরিকা রূপে লাভকরিয়াছি।"
• 'মোহাসাবা' সম্পর্কে তিনি বলেন, "নিজের সময় কিভাবে অতিবাহিত হইতেছে, সে সম্পর্কে তরিকত পন্থী ছালেককে হুশিয়ার থাকা চাই। প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব রাখিতে হয়। যদি হালের (অবস্থার) অবনতি হয়, তবে তাহার তদারকি করিতে হয়। যদি হালের উন্নতি পরিলক্ষিত হয়, তবে আল্লাহতায়ালার দরবারে শোকর করিতে হয় এবং আরও উন্নতির জন্য চেষ্টা চালাইতে হয়। ইহাকেই মোহাছাবা (হিসাব গ্রহণ) বলা হয়।"
• নশ্বর দুনিয়া খোদাঅন্বেষীদের জন্য খোদাপ্রাপ্তির পথে বড় অন্তরায়। খোদাতালাশীকে দুনিয়ার আকর্ষণ মুক্ত হইতে হয়। দুনিয়ার মহব্বত দেল হইতে ঝাড়িয়া ফেলিতে হয়। দুনিয়ার সাথে নাফসের গাঢ় সম্পর্ক। দুনিয়াকে প্রশ্রয় দিলে নাফস আঙ্কারা পায়। ফলে জেহাদে আকবরে বিজয়ী হইতে বড় কষ্ট হয়। তাই দুনিয়াকে প্রথমেই দেল থেকে মুছিয়া ফেলিতে হয়।
যুগে যুগে সাধক বর্গ দুনিয়ার অসারতা ও দুনিয়াপ্রেমের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্কবাণী রাখিয়া গিয়াছেন। হযরত শেখ সাদী (রঃ) সংগে প্রেম করিও না, যে প্রতিদিন সকালে একটি করিয়া স্বামী ছাহেব এই প্রসংগে ফরমাইয়াছেন, তোমরা এমন স্ত্রীলোকের গ্রহণ করে। এই কুহকিনী দুনিয়া-বৃদ্ধা এক রমণী। দেখিতে অতীব কদাকার। তাহার দুই পাটি দাঁত আছে। সম্মুখের দাঁত দ্বারা সে হাসিতে থাকে কিন্তু পিছনের দাঁত দ্বারা সে কাটিয়া হালাক করে। তুমি যদি এই কুহকিনীর হাত হইতে বাঁচিতে চাও, তবে পীরে কামেলের কদমকে শক্ত করিয়া ধর। তিনিই একমাত্র তাঁহার তাওয়াজ্জুয়ে এত্তেহাদীর দ্বারা এই কলংকিনী কুহকিনীর হাত হইতে বাঁচাইতে পারেন। ইহার কোন বিকল্প নাই।
দুনিয়ার স্বরূপ সম্পর্কে বিভিন্ন সাধক বিভিন্ন মন্তব্য করিয়াছেন, তবে সমুদয় মন্তব্যের সারাংশ একই। দুনিয়ার প্রকৃতি সম্পর্কে হাজারী মুজাদ্দেদ শায়খ আহমদ ছেরহিন্দী (রাঃ) ছাহেব বলেন, "দুনিয়া হইল স্বর্ণ প্লেটে রক্ষিত বিষ্ঠা (মল) স্বরূপ।"
হযরত গউসপাক আব্দুল কাদের জেলানী (রঃ) ছাহেব এই প্রসংগে একটি উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, একটি উন্মুক্ত মাঠ এবং সেই মাঠে নগ্নাবস্থায় বহু লোক মলত্যাগে রত। এই দৃশ্য একজন পথচারীর নিকট যেমন, একজন খোদাঅন্বেষীর নিকট দুনিয়াও তেমন। ঐ পথিক যেমন দ্রুত সেই মাঠ অতিক্রম করিবে, মাঠের স্মৃতিকেও মন হইতে ঝাড়িয়া ফেলিবে, তেমনি একজন খোদাতালাশীর কর্তব্য দুনিয়াকে তাহার মন থেকে ঝাড়িয়া ফেলা।
হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব দুনিয়াকে তুলনা করেন নখের সাথে। তিনি বলেন, দুনিয়া হইল আশেক বান্দাদের জন্য হাতের নখ সদৃশ। নখ বড় হইতে দিতে নাই। বড় হইতে দিলে বিভিন্নমুখী অসুবিধা আছে। নখের গোড়ায় ময়লা জমে। খাদ্য গ্রহণের সময় সেই ময়লা পেটে যায়। ফলে বড় নখওয়ালা বা নখী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এই জন্য নখ কাটিয়া ফেলিতে হয়। দুনিয়ার আকর্ষণ বর্ধিত নখের মত। বৃদ্ধিপ্রাপ্ত নখ যেমন বিভিন্ন রোগের কারণ। তেমনি দুনিয়ার আকর্ষণও রূহের অসুস্থ্যতার কারণ। আশেকে মাওলার কর্তব্য নখের মতই দুনিয়ার মহব্বত ছিন্ন করিয়া ফেলা।
• খোদাতালাশীকে সর্বদাই আমলের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখিতে হয়। এই প্রসংগে খাজা বাহাউদ্দিন নকশ্বন্দ (রঃ) বলেন, "যে দৌড়াইবে সেই যে বল ধরিতে পারিবে, ইহার কোন নিশ্চয়তা নাই। কিন্তু ইহা নিশ্চিত, বল পাইতে হইলে তাহাকে দৌড়াইতে হইবে। অর্থাৎ আমল করিলেই যে খোদাতায়ালাকে পাওয়া যাইবে, ইহার কোন নিশ্চয়তা নাই। কিন্তু আল্লাহকে পাইতে হইলে আমল ব্যতীত উপায়ও নাই।"
• হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব বলেন যে, "তরিকতপন্থীগণ দুই ধরণের হইয়া থাকেন। এক দল কঠোর রেয়াজত, মুরাকাবা, মোশাহেদা ও মুজাহেদা করিয়া মারেফাতের পথে অগ্রসর হন এবং শেষ পর্যন্ত মাঞ্জিলে মাকছুদে পৌছাইতে সক্ষম হন। অন্য সম্প্রদায় সর্ব বিষয়ে আল্লাহ পাকের ফজল (অনুকম্পা) ও মেহেরবাণীর প্রতিই অটুট নজর রাখেন। তাঁহারা শুধুমাত্র আল্লাহতায়ালার রহমতের নিকট পূর্ণরূপে নিজেকে সোপর্দ করেন। নিজেরা যাহা কিছু ইবাদত-বন্দেগী, রেয়াজত, মোশাহেদা, মুজাহেদা করেন- সেইগুলি করিবার ক্ষমতাকে এবং নিজেদের আত্মসমর্পণের তওফিককে আল্লাহপাকের ফজলই মনে করেন। এই দ্বিতীয় সম্প্রদায় অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে মাঞ্জিলে মাকছুদে পৌঁছাইয়া যান। ইহার প্রকৃত অর্থ হইল, নিজের আমলের প্রতি ঘূর্ণাক্ষরেও যেন নজর না পড়ে। এই রূপ করিলে নিজের আমলের জন্য তৃপ্তিবোধ ও অহংকার আসিতে পারিবে না এবং নিজেকে আল্লাহওয়ালা মনে করিবার ফুরসুতও মিলিবে না। আবার ইহার অর্থ আমল পরিত্যাগও নয়।"
• সমাজে দুই শ্রেণীর লোক আছে। ১। আল্লাহওয়ালা সম্প্রদায়-যাহাদের সংখ্যা খুবই কম এবং ২। দুনিয়াদার বা দুনিয়ালোভী সম্প্রদায়। খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব বলেন, "দুনিয়ালোভী ব্যক্তিদের সংসর্গ তুমি কখনও কামনা করিও না। আল্লাহওয়ালাদের সংসর্গে থাকিও। কারণ প্রত্যেক গোষ্ঠীই তোমাকে তাহাদের দলভুক্ত করিবার চেষ্টায় লিপ্ত আছে। যেমন খবিস পেচক জনমানবহীন বিরাণ স্থান পছন্দ করে, আর তোতা পাখী চিনির পাত্র ভালবাসে। তাই প্রত্যেকেরই পরিচয় জানা উচিত। দুনিয়ালোভী ব্যক্তিগণ এবং আল্লাহপাকের প্রেমিক বান্দাগণের মধ্যে আল্লাহ-প্রেমিকদের ছহব্বতই তোমাদের পক্ষে এখতিয়ার করা উচিত। কারণ আল্লাহ প্রেমিকগণ তোমার এসলাহ (সংশোধন) করিয়া তোমাকেও আল্লাহ প্রেমিকরূপে গড়িয়া তুলিবেন।"
• হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব বলেন, "গোনাহ করা থেকে তোমরা সর্বদাই নিজেদের হেফাজত করিবে। রাসূলে পাক (সাঃ) এর বরকতে উম্মতে মুহাম্মদীর গোনাহসমূহ তাহাদের বাহ্যিক চেহারাকে বিকত করিতে পারে না বটে, কিন্তু গোনাহের ফলে দেল বিকত হইয়া যায়। গোনাহ ও নাফরমানীর ফলে প্রকাশ্য পরিবর্তন হয় না বটে, কিন্তু অন্তর পরিবর্তিত ও বিকৃত হইয়া যায়।
হে জাকেরান ও আশেকান সকল! তোমরা হযরত খাজা বাহাউদ্দিন (রঃ) ছাহেব ও তাহার তরিকা সম্পর্কে বুঝিতে পারিলে। তিনি মারেফাত জগতের এক মহান ব্যক্তিত্ব। আমার প্রতি পীর কেবলাজান হুজুরের নির্দেশ-সেই মহান সাধকের প্রতি প্রত্যেক দিন একশতবার দরূদ শরীফ নজরানা পাঠানো। প্রতিদিন সকালে খতম শরীফ শেষ করিয়া মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবকে নজরানা দেওয়ার পর একশতবার দরুদ শরীফ পড়িয়া এই মিছকিন খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেবকে নজরানা দেয়।
খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞান দেল থেকে দেলে বাহিত হয়ঃ
যে খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞান বা এলমে বাতেন সম্পর্কে আলোচনা করা হইতেছে-এই জ্ঞান আত্মা থেকে আত্মায় বাহিত হয়, দেল থেকে দেলে নিক্ষিপ্ত হয়। পীরে কামেল নিজ দেল হইতে ইহা মুরীদের দেলে নিক্ষেপ করেন। যেমন হযরত আমির কুলাল (রঃ) ছাহেব হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেবের দেলে নিক্ষেপ করিলেন। আবার হযরত খাজা বাহাউদ্দিন (রঃ) ছাহেব ইহা হযরত আলাউদ্দিন আত্তার (রঃ), হযরত খাজা মোঃ পারসা (রঃ), প্রমুখের দেলে নিক্ষেপ করিলেন। এই কারণে এলমে মারেফাতকে এলমে সিনা বা এলমুল কালবও বলা হয়।
হযরত রাসূলে পাক (সাঃ) এই জ্ঞান মহান খোদাতায়ালার নিকট থেকে ফেরেশতা সমাট হযরত জিব্রাইল (আঃ) এর মাধ্যমে লাভকরেন। এই জ্ঞান প্রাপ্তির পর্বে তিনি হেরা পর্বতের নির্জন গুহায় দীর্ঘ সেখানেই তিনি আহার-নিদ্রা পরিত্যাগ পূর্বক ধ্যান মগ্ন থাকিতেন। ১৫ ১৫ বছর মুরাকাবায় কাটান। বিপদসংকল অন্ধকারাচ্ছন্ন গুহা। অথচ বৎসর পরে হঠাৎ একদিন সেই ঘন অন্ধকারে ঢাকা গুহা আলোয় উদ্ভাসিত হয়। তিনি চক্ষু উন্মিলিত করিয়া দেখেন জ্যোতির্ময় এক স্বর্গীয় দূত, ফেরেশতা সম্রাট, বাণীবাহক হযরত জিব্রাইল (আঃ) কে।
হযরত জিব্রাইল (আঃ) দয়াল নবী (সাঃ) কে বলিলেন, "পাঠ করুন।" রাসূলে পাক (সাঃ) বলিলেন, "আমি পড়িতে পারি না।” হযরত জিব্রাইল (আঃ) তখন দয়াল নবী (সাঃ) কে সজোরে আলিংগণ করিয়া বলিলেন, "পাঠ করুন।" রাসুলে পাক (সাঃ) এবারও উত্তর দিলেন, "আমি পড়িতে পারি না।" হযরত জিব্রাইল (আঃ) পুনরায় তাঁহাকে আলিংগন করিলেন। এমনি ভাবে সজোরে তিনবার আলিংগন করায় রাসূলে করীম (সাঃ) এর অন্তররাজ্য আলোকিত হইল। আত্মিক চোখ উন্মোচিত হইল। তিনি অনর্গল পড়িতে লাগিলেনঃ-
إِقْرَا بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ. اقْرًا وَ رَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ.
অর্থাৎ-"পাঠ কর, তোমার সেই প্রভুর নামে-যিনি সমস্ত সৃষ্টি করিয়াছেন। যিনি এক বিন্দু রক্ত হইতে মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন। পাঠ কর-তোমার সেই মহামহিম প্রভুর নামে, যিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান শিক্ষা দিয়াছেন। যিনি মানুষকে অনুগ্রহ করিয়া অজ্ঞাতপূর্ব জ্ঞান দান করিয়াছেন।” (সূরা আলাকঃ ১-৪)
হযরত রাসূলে পাক (সাঃ) সেই খোদাতত্ত্বজ্ঞান হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) ছাহেব এবং আরও কতিপয় ছাহাবা (রাঃ) এর কালবে নিক্ষেপ করেন। হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) ছাহেব প্রসংগে তিনি বলেন, "আমার কালবে যে জ্ঞান ছিল আমি তাহা আবুবকর (রাঃ) এর কালবে রাখিয়াছি।” এমনিভাবে দেল হইতে দেল বাহিত হইয়া এই মহামূল্য বাতেনী জ্ঞান রূপ নেয়ামত চতুর্দশ হিজরীর মুজাদ্দেদ, আমার পীর কেবলাজান হযরত খাজাবাবা শাহসুফী এনায়েতপুরী (কূঃ) ছাহেবের দেলে আসিয়া জমা হয়।
পীর কেবলাজান হুজুরের ওফাতের কিছু দিন পর্বে তিনি এই মহামূল্য মারেফাত রত্ন নিজ কালব হইতে এই মিসকীনের কালবে নিক্ষেপ করেন। সেই দিনের সেই সুখময় ও আনন্দঘন স্মৃতি আজও আমি ভুলি নাই। এনায়েতপুর দরবারস্থিত পুকুরের পাড়ে বসিয়া তিনি আধ্যাত্মিক নেয়ামত ট্রান্সফার (Transfer) সম্পর্কীয় এক বিশেষ সূত্র দ্রুত পড়িলেন এবং শেষ করিয়া তৎক্ষণাৎ আমাকে পড়িতে নির্দেশ দিলেন। আমি প্রথমবারে সেই সূত্রের একটি কথাও বলিতে পারিলাম না। পীর কেবলাজান পুনরায় পড়িলেন এবং আমাকে পড়িতে নির্দেশ দিলেন। এইবার দুই-একটি কথা মাত্র পড়িতে পারিলাম। অতঃপর পীর কেবলাজান রাগতঃ স্বরে কড়া দৃষ্টিতে তাকাইয়া আমাকে বলিলেন, 'পড়'। সেইবার আমি অনর্গল পড়িতে পারিলাম। আর কোন দিন সেই সূত্র ভুলি নাই। তৃতীয়বারে তিনি যে ধমক দিলেন, তখনই শক্তিশালী তাওয়াজ্জুয়ে এত্তেহাদী প্রয়োগ করিলেন। ফলে এই অধীনের হৃদয়রাজ্য আলোকিত হইল, দুই আত্মা একাত্ম হইল। সেদিন আমি এক অনাবিল শান্তি লাভকরিয়াছিলাম। তারপর থেকে মনে হইত, সসাগরাধরিত্রী যেন আমার হাতের মুঠোয়। সূত্রটি লেখার বিষয় নয় বিধায় লিখিলাম না। তবে যাহার প্রতি খোদাতায়ালার নির্দেশ হয়, তাহাকে শিক্ষা দেওয়া হইবে।
খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞান অর্জনে কামেল পীরের কদমে দীর্ঘ সময় (১২ বছর বা ২৪ বছর অথবা ৩৬ বছর) ব্যাপী খেদমতে থাকার নিগূঢ় রহস্য কি?
যে জ্ঞান পাত্রান্তরিত করিতে দুই এক মিনিটের বেশী সময় লাগে না, সেই জ্ঞান অর্জন করিতে দীর্ঘ সময় ব্যাপী অর্থাৎ ১২ বছর, ২৪ বছর বা ৩৬ বছর পীরের কদমে আহার-নিদ্রা ত্যাগ পূর্বক এত কঠিন খেদমত কেন করিতে হয়? এই প্রশ্ন অনেকের মনেই জাগে।
আসলে এলমুল কালব পাত্রান্তরিত করিতে সময় তেমন প্রয়োজন হয় না বটে কিন্তু যে পাত্রে ইহা প্রদান করা হয়, সেই পাত্র তৈরী করিতে সময় লাগে প্রচুর। এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। কেহ একটি সুদৃশ্য অট্টালিকা তৈরী করিল। বেশ কয়েকটি কোঠা বা রুম আছে সেই অট্টালিকাতে। কিন্তু রুমগুলি অন্ধকার; কারণ রুমে বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা নাই। এই অট্টালিকাতে যদি আলোর ব্যবস্থা করিতে হয়, তাহা হইলে রুমগুলোকে প্রথমে বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি যথারীতি স্থাপন করিতে হইবে। এই ক্ষেত্রে একজন বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী প্রয়োজন যিনি স্ব-স্ব স্থানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি সেট (Set) করিবেন। অতঃপর রুমগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ করিলে বৈদ্যুতিক আলোতে কোঠাগুলি দীপ্তিময় হইবে।
অট্টালিকার কক্ষ সমূহকে ওয়েরিং করিতে বা বৈদ্যুতিক তার, হোলডার, বাল্ব, সুইজ, বা সুইজবোর্ড ইত্যাদি সেট বা স্থাপন করিতে নিশ্চয় বেশ সময়ের প্রয়োজন। ঠিক তেমনি মানবদেহরূপ অট্টালিকাতে ৩৩ কোটি কোঠা আছে। প্রত্যেকটি কোঠাতে নাফসে আম্মারার শিকড় প্রোথিত আছে। পীরে কামেল ধীরে ধীরে মুরীদের দেহস্থিত তেত্রিশ (৩৩) কোটি কোঠা হইতে মূলসহ নাফসকে উপড়াইয়া ফেলেন, কোঠাসমূহকে পরিস্কার করেন। অতঃপর সবগুলি কোঠাতেই আল্লাহ নামের বাল্ব সেট করিয়া তাহাতে খোদাতায়ালার নূরের সংযোগ দেন। ফলে মুরীদের সমস্ত সত্ত্বাই আলোক উজ্জল হয়। মুরীদ কোটি কোটি বাল্ব প্রজ্জলিত নূরের দেহ প্রাপ্ত হয়।
তবে কোটি কোটি কোঠা থেকে নাফসের মূল উপড়াইয়া ফেলিতে প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হয়। কাহারো জন্য ১২ বছর, কাহারো জন্য ২৪ বছর বা কাহারো জন্য ৩৬ বছর। এই কারণেই আমার পীর কেবলাজান হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেব বলিতেন, হাতে-কলমে শিক্ষা দিলেও এই খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞান হাছিল করিতে দীর্ঘ ২৪ বছর সময় লাগে।
মুরীদের দেহস্থিত কোঠাসমূহকে নাফসের বন্ধনমুক্ত না করিয়া, দেহস্থিত উপাদান সমূহের দোষ-ত্রুটি পরিস্কার না করিয়া যদি নূরের সংযোগ দেওয়া হয় বা তাওয়াজ্জুয়ে এত্তেহাদী প্রয়োগ করা হয়, তবে হয় সে মুরীদ মারা যাইবে, না হয় পাগল হইবে, নতুবা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হইবে। এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়।
একদা হযরত খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেবের দিল্লিস্থ দরবার শরীফে কয়েকজন মেহমান আসেন। কিন্তু সেইদিন দরবারে মেহমানদারি করিবার মত তেমন কোন খাবার ছিল না। হযরত খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেব অতিথিবৎসল ছিলেন। মেহমান আসিয়াছে, অথচ উপযুক্ত খাদ্য নাই বিধায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়িলেন।
হযরত খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেবের একজন মুরীদ ছিলেন-যিনি দরবারের নিকটস্থ বাজারে রুটির দোকান করিতেন। সেই মুরীদ সেই সময় কাশফে পীর ছাহেবের চিন্তাক্লিষ্ট চেহারা মুবারক এবং চিন্তিত হওয়ার কারণ জানিতে পারিয়া দ্রুত কিছু রুটি এবং মাংস লইয়া দরবারে আসিয়া মেহমানদের তৃপ্তির সাথে খাওয়ান। আগত অতিথিবর্গ অতীব খুশী হন।
হযরত খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেব সেই রুটি বিক্রেতা মুরীদের প্রতি অত্যন্ত প্রীত হইলেন। মুরীদকে ডাকিয়া বলিলেন, বাবা, তুমি সময়মত মেহমানদারি করিয়া আমাকে দুশ্চিন্তামুক্ত করিয়াছ। আমি তোমার উপর অতিশয় খুশী। বল, তুমি কি চাও? উত্তরে মুরীদ বলিল, হুজুর, আমি কিছু চাই না। হযরত খাজা বাকী বিল্লাহ (রঃ) ছাহেব পুনরায় বলিলেন, বাবা, আমার নিকট তুমি কিছু চাও। মুরীদ এবারও নেতিবাচক জবাব দিল। পীর ছাহেব তৃতীয়বারের মত মুরীদকে কিছু চাইতে বলায় মুরীদ বলিল, হুজুর, আমাকে যদি কিছু দেনই, তবে হুবহু আপনার মত করিয়া দেন। আমি আপনার মত হইতে চাই। পীর ছাহেব বলিলেন, বাবা, ইহা ব্যতীত অন্য কিছু চাও। কিন্তু মুরীদ পুনরায় একই কথা উচ্চারণ করিল। সে বলিল, আমাকে যদি কিছু দিতে চান, তবে আপনার মত করিয়া দেন।
এইবার হযরত খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেব সেই মুরীদকে লইয়া খাছ কামরায় গেলেন। দীর্ঘ দুই ঘন্টা মুরীদসহ তিনি সেই কামরাতে থাকিলেন। এই দিকে দরবারের প্রধান প্রধান খাদেমেরা হোজরার দরজায় অপেক্ষমান। দুই ঘন্টা পরে পীর ছাহেব এবং মুরীদ খাছ কামরা হইতে বাহির হইলেন। বাহির হওয়ার দুইটি দরজা। দুই দরজা দিয়া দুইজন বাহির হইলেন। দুই জনই হযরত খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেব। চেহারা সুরত, আকার-আকৃতি, পোশাক-পরিচ্ছদ সবই এক। কে আসল বাকীবিল্লাহ (রঃ), আর কে নকল বাকীবিল্লাহ-তাহা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝা গেল না। বুঝা গেল তিন দিন পরে। তিন দিন অন্তে নকল বাকীবিল্লাহ (রঃ) ইন্তেকাল করিলেন। আসল বাকী বিল্লাহ (রঃ) থাকিয়া গেলেন।
কাজেই পীরের কদমে দীর্ঘ সময় ব্যাপী খেদমতশূন্য মুরীদকে তাওয়াজ্জুয়ে এত্তেহাদী প্রয়োগ করিলে; হয় সে মারা যাইবে, নতুবা পাগল হইবে বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হইবে।
আর তাই এই মিসকীনকে যুগের শ্রেষ্ঠতম কামেল হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কৃঃ) ছাহেবের কদমে দীর্ঘ চল্লিশ বছর সুকঠিন খেদমতে অতিবাহিত করিতে হইয়াছে
তোমরা যদি খোদাতায়ালাকে পাইতে চাও, খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞান অর্জন করিতে চাও, তবে খেদমত করিতে থাক। নাফসের বিরোধিতায় সব সময়ই লিপ্ত থাক। দুনিয়ার মহব্বত ত্যাগ কর। পীরকে ভালবাস। শরীয়ত ও সুন্নত অনুযায়ী চলিতে থাক। তরিকতের নিয়ম পদ্ধতি যথারীতি আদায় কর। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হইলে আল্লাহতায়ালার অনুকম্পা তোমাদের উপর আসিবে। তোমরা কামিয়াবী হইতে পারিবে। আল্লাহপাক তোমাদিগকে দয়া করুন। আমীন!








