যারা ধর্মকে হৃদয়ে ধারণ করে না তারাই ধর্মের অপব্যাবহারে লিপ্ত

ধর্মকে যারা অন্তরে ধারণ করে না, তারাই ধর্মের অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (রহ.)-এর প্রথম ইসালে ছাওয়াব মাহফিলের বক্তারা। তারা বলেন, ধর্মের লেবাস ব্যবহার করে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, যিনা-ব্যভিচার, মিথ্যাচার এবং মানুষের চরিত্রহননের মতো কর্মকাণ্ডই প্রকৃতপক্ষে ধর্মের অপব্যবহারের উদাহরণ। যারা এসব কাজে লিপ্ত, তারা ইসলামকে হৃদয়ে ধারণ করেনি।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা বলেন, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (রহ.)-এর মতো আউলিয়ায়ে কেরাম ইসলামকে মানুষের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তারা বাহ্যিক ধার্মিকতা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এ দেশের লোকজ সংস্কৃতিকে অস্বীকার না করে শিরকমুক্ত সমাজ গঠনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ধর্মকে চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে এর মর্মবাণী হৃদয়ে ধারণ করার শিক্ষা দিয়েছেন এবং মানুষকে মানবিক ও কল্যাণমুখী জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
তারা আরও বলেন, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (রহ.) সারা জীবন আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি মানবসেবাকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। নিজে মানবকল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি অন্যদেরও সেই শিক্ষা দিয়েছেন। তার মতো আউলিয়ায়ে কেরাম এ অঞ্চলে ইসলামের সৌন্দর্য, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অথচ কিছু পোষাকি ধার্মিক ইসলামের নাম ব্যবহার করে অন্যের সম্পদ দখল, জুলুম-নির্যাতন, নিপীড়ন ও ব্যভিচারের মতো অপরাধকে স্বাভাবিক করে তুলছে। নিজেদের অপকর্মকে বৈধ প্রমাণ করতে তারা নবী-রাসুলদের চরিত্র নিয়েও কটূক্তি করে এবং পবিত্র কোরআনের অপব্যাখ্যা দিতেও দ্বিধা করে না। এসব কর্মকাণ্ডে শুধু অন্য ধর্মাবলম্বীরাই নয়, মুসলমানরাও লজ্জিত হন।
মশুরীখোলা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ত্রয়োদশ শতাব্দীর মহান মুজাদ্দেদ হযরত কেবলা শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.)-এর সুযোগ্য নাতি, কুতুবে জামান, দরবার শরীফের তৃতীয় গদ্দিনেশীন পীর সাহেব ও ওয়াকফ এস্টেটের অষ্টম মোতাওয়াল্লি আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (রহ.)-এর প্রথম ইসালে ছাওয়াব মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
মশুরীখোলা দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দিনেশীন পীর সাহেব এবং মশুরীখোলা আঞ্জুমানে আহসানিয়া বাংলাদেশের নায়েবে আমির, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (রহ.)-এর ছোট সাহেবজাদা হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান (মা.জি.আ.)-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেসীনের সভাপতি আলহাজ এএমএম বাহাউদ্দীন, সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমাদ মোমতাজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান, হযরত শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.) কমপ্লেক্সের সভাপতি শাহ মুহাম্মদ মোহসেনুজ্জামান, বেতাগী আস্তানা শরীফের পীর সাহেব গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ, যুক্তরাষ্ট্রের রহমাতুল্লিল আলামিন মসজিদের খতিব আল্লামা ড. সাইফুল আযম বাবর আল আযহারী, দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদরাসার সেক্রেটারি প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যক্ষ আবু জাফর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আবুল বাশারসহ দেশের প্রখ্যাত ওলামা-মাশায়েখ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, দরবারের খলিফাগণ, ভক্ত-আশেকান এবং কমপ্লেক্সের অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
সভাপতির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান (মা.জি.আ.) বলেন, দেশের মানুষ উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসনও চায়। তাই সরকারকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করতে হবে। সরকার, প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমাতে না পারলে অতীতের মতো জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিপুলসংখ্যক যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আরও প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে কার্যকর নজরদারির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (রহ.) তাঁর ৭৪ বছরের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ইসলামের খেদমত ও মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন। তিনি মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, এতিমখানাসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে তিনি সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। বিশেষ করে ইসলামী শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। তিনি তাঁর পিতামহ হযরত কেবলা শাহ মুহাম্মদ আহসানুল্লাহ (রহ.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে মশুরীখোলা দরবার শরীফের প্রায় দুই শত বছরের মানবকল্যাণমূলক ঐতিহ্য সফলভাবে ধরে রেখেছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রথম ইসালে ছাওয়াব মাহফিল উপলক্ষে দিনব্যাপী মশুরীখোলা দরবার শরীফে খতমে কোরআন, বিভিন্ন খতম পাঠ, আসরের নামাজের পর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ওয়াজ-নসিহত, জিকির-আজকারসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শেষে বর্তমান গদ্দিনেশীন পীর সাহেব হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান (মা.জি.আ.) মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। এর মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।








