ট্রাক-লরির ভিড়ে থেমে রইল ট্রেন, ভিডিও ভাইরাল

চট্টগ্রাম নগরের সল্টগোলা রেলক্রসিং এলাকায় অস্বাভাবিক এক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। সড়কের তীব্র যানজটের কারণে রেললাইনের ওপরই থেমে যেতে দেখা গেছে একটি পণ্যবাহী ট্রেনকে। সাধারণত যানজটে বাস, ট্রাক কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকার ঘটনা দেখা গেলেও ট্রেন সড়কের যানবাহনের চাপে থেমে যাওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে কোনো এক সময়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনারে পণ্য নিয়ে একটি ট্রেন হালিশহরের চিটাগং গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। পথে সল্টগোলা রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে সড়কের অতিরিক্ত যানজটের কারণে ট্রেনটি এগোতে পারেনি।
ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে কাভার্ড ভ্যান, লরি ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে ট্রেনটি ক্রসিং পার হতে না পেরে সড়কের মাঝেই থেমে যায়। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পণ্যবাহী ট্রেনটির ইঞ্জিন সড়কের ওপর চলে এসেছে। কিন্তু ট্রেনের উপস্থিতি সত্ত্বেও যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়নি। কাভার্ড ভ্যান ও লরিসহ বিভিন্ন যানবাহন রেললাইনের ওপর দিয়েই চলাচল করছে। একই সময় সড়কের দুই পাশেও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে কয়েকবার হুইসেল বাজানো হলেও তাতে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ট্রেনটিকে সড়কের ওপরই থেমে থাকতে দেখা যায়।
চট্টগ্রামের গোসাইলডাঙা ইয়ার্ডের মাস্টার মাহমুদুল হাসান জানান, সল্টগোলা রেলক্রসিংয়ে ট্রেন আটকে থাকার ভিডিও তাদের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে ট্রেনটি সিজিপিওয়াই স্টেশনে যাচ্ছিল। বিকেলের দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ ওই সময়টায় সড়কে সাধারণত যানজট বেশি থাকে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় ট্রেন চলাচলের গতি খুবই কম। সল্টগোলা ক্রসিং সেকশনে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় আট কিলোমিটার। পণ্যবাহী ট্রেন হলে গতি আরও কম থাকে। কিন্তু অনেক গাড়িচালক ধৈর্য না ধরে দ্রুত পার হওয়ার চেষ্টা করেন। কে আগে যাবে—এই প্রতিযোগিতার মানসিকতা থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, রেলক্রসিং এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যানবাহন চালকদের সচেতনতার অভাবের কারণে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সড়ক ব্যবহারকারীদের নিয়ম মেনে চলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








