শেখ হাসিনা দেশে নেই, আমার মনে হয় তিনি আছেন: আসিফ নজরুল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতির ধরন ও প্রভাব নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে নেই বহুদিন। কিন্তু সত্যিই কি নেই? আমার মনে হয় তিনি আছেন। শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তার রাজনীতিটা রয়ে গেছে বাংলাদেশে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি শেখ হাসিনার রাজনীতির তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য বা দিক তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, তার রাজনীতির কিছু মূলমন্ত্র ধারন করে আছে তার পতনের আন্দোলনের মানুষদেরও কেউ কেউ।
ফেসবুক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, শেখ হাসিনা শারীরিকভাবে দেশে উপস্থিত না থাকলেও তার রাজনৈতিক চিন্তাধারা পুরোপুরি বিলীন হয়নি। বরং তার রাজনীতির কিছু মূল ধারণা এখনও সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন স্তরে রয়ে গেছে। এমনকি তার পতনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু মানুষের মধ্যেও সেই ধারা আংশিকভাবে বিদ্যমান বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
তার মতে, শেখ হাসিনার রাজনীতির প্রথম বৈশিষ্ট্য ছিল ‘মালিকানার রাজনীতি’। তিনি বলেন, এই ধারায় মুক্তিযুদ্ধকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। অর্থাৎ যারা তার পক্ষে অবস্থান নিতেন, তাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দেখানো হতো এবং বিরোধীদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। এভাবে রাজনৈতিক অবস্থানকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে ভাগ করার প্রবণতা তৈরি করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ‘ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতি’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিসরে বিরোধীদের নানা ধরনের বিশেষণ বা তকমা দিয়ে চিহ্নিত করার প্রবণতা ছিল। অতীতে ‘রাজাকার’, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী’ বা ‘পাকিস্তানপন্থী’—এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই ব্যবহার করা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব শব্দের জায়গায় নতুন নতুন তকমা যুক্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমানে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’, ‘ভারতের দালাল’ কিংবা ‘জুলাই গাদ্দার’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে একই ধরনের রাজনীতি চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, তৃতীয় দিকটি হলো ‘ভিকটিমহুডের রাজনীতি’। তার মতে, নিজেদের অতীতের ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরে পরবর্তীতে অন্যদের প্রতি কঠোর আচরণ করার একটি মানসিকতা এই রাজনীতির অংশ ছিল। তিনি মনে করেন, এই প্রবণতাও এখনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যায়।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে মনে হয়, শুধু একটি শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানো হয়েছে, কিন্তু সেই শাসনের কিছু রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি বদলানো যায়নি। একটি নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে এসব প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।









