Logo

ট্রাফিক সার্জেন্ট ও পথচারীর হাতাহাতি, দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মে, ২০২৬, ২০:৫৮
ট্রাফিক সার্জেন্ট ও পথচারীর হাতাহাতি, দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্ট ও এক ব্যক্তির মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সংঘটিত এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

ভিডিওতে দেখা যায়, এক ট্রাফিক সার্জেন্ট এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির শার্টের কলার চেপে ধরে আছেন এবং একপর্যায়ে তাকে অস্ত্র হাতে নিতে দেখা যায়।

ঘটনার পর ওই ব্যক্তিকে আটক করে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলতে থাকে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির নাম সারোয়ার জাহান সুমন এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সার্জেন্ট রেজাউল করিম। উভয়েই নিজেদের অবস্থান থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সারোয়ার জাহান সুমনের দাবি, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মী এবং ঘটনার দিন সাভার পরিবহনের একটি বাসে করে কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টারে যাচ্ছিলেন। শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে তিনি দেখতে পান, এক ট্রাফিক সার্জেন্ট বাসের হেল্পারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। এ সময় তিনি প্রতিবাদ জানালে সার্জেন্ট তার ওপর চড়াও হন এবং শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করেন।

অন্যদিকে ট্রাফিক সার্জেন্ট রেজাউল করিম ভিন্ন দাবি তুলে বলেন, ওই সময় তারা সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এ সময় বাসের এক হেল্পার তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করলে তাকে সরে যেতে বলা হয়। পরে সারোয়ার জাহান সুমন ঘটনাস্থলে এসে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।

বিজ্ঞাপন

রেজাউল করিম আরও অভিযোগ করেন, তিনি তার দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা চালু করলে ওই ব্যক্তি তা কেড়ে নিয়ে ফেলে দেন। এমনকি পরে তার মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে কয়েকজন লোক জড়ো হয়ে তাকে ঘিরে ফেলেন এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়েই তিনি অস্ত্র হাতে নেন বলে জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সারোয়ার জাহান সুমন। তার ভাষ্য, সার্জেন্ট নিজেই উত্তেজিত হয়ে ক্যামেরা টানাহেঁচড়া করেন, এতে সেটি পড়ে যায়। তিনি ক্যামেরাটি তুলে ফেরত দিতে চাইলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং উল্টো তার মোবাইল ফোন নেওয়া হয় এবং তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকেই ভিডিও দেখে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন, তবে ঘটনার প্রকৃত সত্য নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD