Logo

৩ লাখ তরুণ যে হ্যারাসমেন্ট আর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, এর দায় কে নেবে?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:১৯
৩ লাখ তরুণ যে হ্যারাসমেন্ট আর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, এর দায় কে নেবে?
ছবি: সংগৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর প্রশ্ন, পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় আসা প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির দায় নেবে কে?

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেওয়ার পর পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা বেকার তরুণদের প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ পরিস্থিতিকে ‘কী নির্মম রসিকতা!’ বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।

বিজ্ঞাপন

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই ৩ লাখ তরুণ যে হ্যারাসমেন্ট আর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেললেন, এর দায় কে নেবে?”

পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেই অর্থ জনগণের। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বারবার পরীক্ষার প্রস্তুতি, বাড়ছে হতাশা

বিজ্ঞাপন

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। পরে আবারও ধারদেনা করে ঢাকায় এসে পরীক্ষায় অংশ নিতে হতে পারে তাঁদের। কিন্তু পরবর্তী পরীক্ষাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা থেকে গেলে চাকরিপ্রার্থীরা কীভাবে নিশ্চিন্তে প্রস্তুতি নেবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ বিরতির পর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রের কারণে চাকরিপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

তিনি বলেন, “বছরের পর বছর কোনো সার্কুলার নাই, রিক্রুটমেন্ট নাই। আর যখন একটা এক্সাম হয়, সেখানে ভর করে প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেট! আর কত?”

বিজ্ঞাপন

হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০টির বেশি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের প্রত্যাশার সঙ্গে এমন ঘটনা জড়িত থাকায় তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবি

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর বক্তব্য, আমলা, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক দলের কোনো ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁদের কাউকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে। গ্রেপ্তারের পর তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে শাস্তি কার্যকর করারও দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র নির্মূলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পদত্যাগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন হবে।

তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল জানা প্রয়োজন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD