Logo

‘আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান জামায়াত-এনসিপির সহ্য হচ্ছে না’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:০১
‘আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান জামায়াত-এনসিপির সহ্য হচ্ছে না’
ছবি: সংগৃহীত

নিজের রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত ও এনসিপি সহ্য করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আমজনতার তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। ওরা জ্বলতে থাকুক।’

তিনি লেখেন, ‘জামায়াত-এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছে যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটাও সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁপাচ্ছে, জিহ্বাটা বের করে।’

স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, ‘২০১৮ বা ২০২৪-এর সহযোদ্ধারা, যারা রাজনীতিতে সময় দিচ্ছেন, কয়েকজন বাদে বেশিরভাগকেই শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে চেয়ে-চিনে চলতে হয়। আমিও এ ধরনের সহযোগিতা নিয়ে চলেছি কিছুদিন। কী করব, তখন না পারছিলাম কর্মে ফিরতে, না পারছিলাম আন্দোলন ছেড়ে দিতে। প্রবাসী ভাইদের দেওয়া অর্থে আমি খেয়েছি, গাড়ি ভাড়া দিয়েছি, বাসা ভাড়াও দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

তবে এই চক্র থেকে বের হয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চেয়েছেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কিন্তু আমি এই চক্র থেকে বের হয়ে কিছু কাজ করে খেতে চেয়েছি। বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে আমাকে অনেক ক্ষুধা-দারিদ্র্যের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাধ্য হয়েই ফল ব্যবসা করেছি, মধু ব্যবসা করেছি। আমি জান-প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছি, কিছু একটা কর্ম থেকে আমার খাবার ও বাসা ভাড়া জোগাড় করতে। এটা যদি অযোগ্যতার কারণ হয়, তাহলে আর কী করার আছে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার অতটা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হয়নি। কিন্তু যখন সুযোগ পেয়েছি, আল্লাহর হাতে জান সঁপে দিয়ে ইফোর্ট দিয়েছি মুক্তির লড়াইয়ে।’

তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালের ‘ধারালো ফলার মতো’ লিফলেট, মোদিবিরোধী আন্দোলনের লিফলেট এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের জনপ্রিয় লিফলেট তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিজের আটক, গুম ও রিমান্ডের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন আমজনতার দলের এই নেতা। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথম আটক হন তিনি। একই বছরের ১৪ জুলাই দ্বিতীয়বার গুম হন বলে উল্লেখ করেন। পরে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডিবি এবং পরবর্তী সময়ে ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হওয়ার কথাও জানান তিনি। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডে ছিলেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।

এসব ঘটনার কিছুটা মনে আছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এর চেয়ে বেশি কিছু করার সুযোগ পাননি তিনি। জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে নিজের বিরোধকে রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে দেখতেও নারাজ এই নেতা।

তিনি লেখেন, ‘যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নেই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের বিরোধ।’ তারেক রহমান অভিযোগ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যাবে না—এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে তিনি মুক্তিযুদ্ধকে সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে বড় লড়াই বলে মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে চায়। সব বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমঝোতার পর তারা ভারতের কাছে গেছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ভারতের সহযোগিতা চেয়ে প্রেস ব্রিফিং করে। ভারতও তাদের সাড়া দিয়েছে।

তারেক রহমানের অভিযোগ, এরপর ভারতীয় গণমাধ্যমে জামায়াত আমিরের সঙ্গে ভারতের র-এর গোপন বৈঠকের খবর ফাঁস হয়। ধরা পড়ে জামায়াত আমির তা স্বীকার করেন। এবার ভারতের র-এর সঙ্গে নতুন করে বসছেন গোলাম পরওয়ার—এমন অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘ধরা খেয়ে আমতা আমতা করছে। আট মাস হয়নি সরকারের, শকুনের দল অস্থির হয়ে গেছে ক্ষমতার জন্য।’

তিনি বলেন, বিএনপির কারও পদায়নে যদি জামায়াত খুশি হয়, তাহলে ‘আল্লাহর ওয়াস্তে’ ওই ব্যক্তির বিষয়ে যেন বারবার খোঁজখবর নেওয়া হয়। নিজের বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনায় বিচলিত নন জানিয়ে জুলাইয়ের মামলায় কারাগারে থাকা কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

তিনি লেখেন, ‘জামিনে থাকার সময় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা যাবে। আর আমি এদের হয়রানিতে একদম বিচলিত না। আজ একটা দাবি জানাই, জুলাইয়ের মামলায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা যদি জেলে থাকে, মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে তাকে যেন জামিন দেন আদালত। পরবর্তীতে জামিনে থাকাকালে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এটাই জুলাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর একমাত্র উপায়।’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘সবশেষে বাংলাদেশপন্থি দল, যাদের বিদেশে কোনো শাখা নেই, জাতীয়তাবাদী দল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পাশে থাকার জন্য। আর ভালোবাসা জানাই আমার প্রধানমন্ত্রীকে আমাকে তাঁর সঙ্গে রাখার জন্য।’

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD