Logo

দরপত্র ছাড়াই ৫০ কোটি টাকার কাজ ভাগাভাগি

profile picture
মো. রুবেল হোসেন
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১৬:২২
দরপত্র ছাড়াই ৫০ কোটি টাকার কাজ ভাগাভাগি
ছবি: পত্রিকা থেকে নেওয়া।

এক বছরের বেশি সময় ধরে “স্মার্ট ফার্টিলাইজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম” নামক সফটওয়্যার প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে এটিআই লিমিটেড শিল্প মন্ত্রণালয়ের মদদ ও নির্দিষ্ট নির্দেশনায়।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কোনো দরপত্র ছাড়াই, কোনো কার্যাদেশ ছাড়া এবং কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়া এমন মহাপরিসরীয় কাজ করা যায় কীভাবে? সাম্প্রতিক এক চিঠিতে এটিআই লিমিটেড দাবি করেছে, তারা কাজ করেছেন কাজের বিপরীতে অর্থ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কাজের উপর হিসাব করে কার্যাদেশ দেওয়া দাবি তুলেন এটিআই।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের ধারাবাহিক কাজ শুরু ও বিল আদায়ে মূল ভূমিকা নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রোগ্রামার প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি ঊর্ধ্বতনদের পাশ কাটিয়ে নিজের সুবিধামত পরিবেশ গড়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, এ কাজের জন্য এটিআই লিমিটেডকে সহযোগিতা করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রোগ্রামার প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানার বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রোগ্রামার আব্দুল্লাহ আল মামুন তার ঊর্ধ্বতন সিস্টেম এনালিস্টকে পাশ কাটিয়ে অনৈতিক যাবতীয় সুবিধা আদায় করে নিতেন। জাকিয়া সুলতানার বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন হওয়ায় ঘন ঘন প্রশিক্ষণ, ভ্রমণসহ নানা অনৈতিক সুবিধা নিতে প্রোগ্রামার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় বিসিআইসি’র অনলাইন ফার্টিলাইজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কাজটি শিল্প মন্ত্রণালয় বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান বরাবর লিখিত অভিযোগ করে এটিআই লিমিটেডের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সৈয়দ আহমেদ আলী। যদিও সরকারি বিধি অনুযায়ি কোন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী/উপদেষ্টা বা সচিব বরাবর অভিযোগ জমা দিতে হয় কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ সচিব থাকা সত্ত্বেও এটিআই লিমিটেড অভিযোগ দিয়েছে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) বরাবর।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্মার্ট ফার্টিলাইজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার তৈরির প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে এটিআই লিমিটেড শিল্প মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবিত প্রজেক্টটি কেমন হবে সেটি সম্পর্কে ৩ থেকে ৪টি প্রেজেন্টেশন আকারে রূপরেখা উপস্থাপন করে। প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করার পর এটিআই লিমিটেডকে তালিকাভূক্ত করা হয়। তালিকাভুক্তির পর উক্ত সফটওয়্যার তৈরির জন্য এটিআই লিমিটেড থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা গ্রহন করা হয় এবং প্রস্তাবনা গ্রহন করার পরবর্তীতে এটিআই লিমিটেড কে কাজ দেওয়া হবে এই মর্মে অবগত করা হয় এবং পাশাপাশি একটি চুক্তিপত্র তৈরি হবে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়। এর সূত্র ধরে এটিআই লিমিটেড বিভিন্ন সময় প্রকল্পের কাজ কিভাবে শুরু হবে সেই ব্যপারে একটি দিক নির্দেশনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার নির্দেশনা অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রোটোটাইপিং এর কাজ শুরু করে এটিআই লিমিটেড। নির্দেশনা মোতাবেক প্রোটোটাইপ উস্থাপন করা হয়েছে এবং উক্ত প্রোটোটাইপ এর অনুমোদনক্রমে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ যা গত বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৪ থেকে ৫টি সভা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের প্রগ্রেস দেখানো হয়।

উক্ত সভায় বিসিআইসি, শিল্প মন্ত্রণালয়, আইটি এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের মতামত এবং নির্দেশনা দেয়। এই মতামত এবং নির্দেশনা গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালু থাকে এবং বারংবার অবহিত করা হয় চুক্তিপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর থেকে কাজ বন্ধ রাখতে এবং চুক্তিপত্র হাতে পেয়ে পরবর্তীতে আবার কাজ শুরু করতে বলে শিল্প মন্ত্রণালয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের পর থেকে কাজ বন্ধ রাখে এটিআই লিমিটেড। এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রোগ্রামার প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতায় অনৈতিক সুবিধায় সরকারি ক্রয় বিধি লঙ্ঘন করে দরপত্র আহ্বান না করেই অনলাইন বেইজড ফার্টিলাইজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ডেভলপমেন্ট এর কাজ এটিআই লি. কে দেয়ার রূপরেখা তৈরি করে। ফেজ বাই ফেজে ভাগ বাটোয়ারায় কাজটি বাস্তবায়ন করতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায়। এটিআই লি. গত বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যায়।

৫ আগষ্টের পর সরকারের পট পরিবর্তন হলে সফটওয়্যার তৈরির কাজ শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিসিআইসির কাধে চাপিয়ে দিতে চাই। কিন্তু বিসিআইসি কিসের ভিত্তিতে দরপত্র কার্যক্রম এগিয়ে নিয়েছে তার কোন তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। বিসিআইসি থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায় অনলাইন বেইজড ফার্টিলাইজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর মূল্যায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, পিপিআর বা সরকারি ক্রয় বিধি লঙ্ঘন করে কার্যাদেশ দেয়ার আশ্বাস ধৃষ্টতা ছাড়া কিছুই না। জাতীয় স্বার্থে এসব চক্রান্তকারী কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নিলে অন্য কেউ এমন ধৃষ্টতা প্রদর্শনের সাহস করবে না।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর কোন প্রকার দরপত্র ছাড়াই বিসিআইসি ও এটিআই লিমিটেডের মধ্যে স্মার্ট ফার্টিলাইজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ে মিটিং অনুষ্ঠিত হয় এ মিটিং কল করেন বিসিআইসি’র ততকালীন মহাব্যবস্থাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. দেলোয়ার হোসেন। মো. দেলোয়ার হোসেন ও প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের মধ্যে রয়েছে বিশেষ সক্ষতা।

এটিআই লিমিটেডের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সৈয়দ আহমেদ আলী বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দীর্ঘ এক বছর যাবত স্মার্ট ফার্টিলাইজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার তৈরির কাজ করেছি। বাস্তবে কোন কার্যাদেশ পায়নি। কাজের উপর ভিত্তি করে যে অর্থ ব্যয় করেছি সেই প্রেক্ষিতে কার্যাদেশ দেওয়া হোক।

এ প্রসঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রোগ্রামার প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। অপরদিকে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. নুরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। কিন্তু মো. নুরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD