পোল্ট্রি খাদ্যের উপাদান চাওয়া হলো গো-খাদ্যে

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরাধীন বিভিন্ন সরকারি খামারে দরপত্র আহ্বানে অযাচিত শর্ত আরোপের মাধ্যমে অনিয়ম সাধিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রে সালমোনিলা কিলার নামক উপাদান চাওয়া হয়েছে যা সাধারণত পোল্ট্রি খাদ্যে ব্যবহার হয়। এর ফলে পোল্ট্রি খাদ্যের উপাদান চাওয়া হলো গো-খাদ্যে। সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে জমাকৃত একটি অভিযোগ থেকে এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামার বগুড়ায় দরপত্রে গবাদিপশুর খাদ্যে ব্যবহৃত ভিটামিন প্রিমিক্সে ভিটামিন-এ মাত্রা ৫২ লাখ আইইউ/কেজি, দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামার ফরিদপুরে দরপত্রে ভিটামিন-এ মাত্রা ৫৫ লাখ আইইউ/কেজি এবং দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামার বরিশালে দরপত্রে ভিটামিন-এ মাত্রা ৮০ লাখ আইইউ/কেজি চাওয়া হয়েছে। অথচ দেশের সুনামধন্য এসিআই, রেনেটা ও স্কোয়ার ও এসকেএফের মত কোম্পানি গুলোর বাজারজাতকৃত ভিটামিন প্রিমিক্সে ভিটামিন-এ সর্বচ্চ মাত্রা ৫০ লাখ আইইউ/কেজি রয়েছে।
বগুড়ার দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য সালমোনিলা কিলার ক্রয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। যদিও এই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ফিড সালমোনিলা কিলার শুধু মাত্র প্রোল্ট্রি খাদ্যে ব্যবহিত হয়। বগুড়ার দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারে অযাচিত এই শর্ত দিয়ে দরপত্র আহ্বান করেছেন। এ বিষয়ে বগুড়া দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার বলেন, 'সালমোনিলা ব্যাকটেরিয়া খামারে থাকতে পারে। তাই সন্দেহ থেকে টেন্ডারের শর্তে এই উপাদান দিয়েছি।'
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, দরপত্রে উল্লেখিত শর্ত গুলো বাজারের অধিকাংশ পণ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত নয়। এছাড়াও, গবাদিপশুর খাদ্য উপকরণের ক্ষেত্রে সালমোনিলা কিলার নামক উপাদান চাওয়া হয়েছে যা সাধারণত পোল্ট্রি খাদ্যে ব্যবহৃত হয়। গবাদিপশুর খাদ্যে এ ধরনের শর্ত আরোপের কোনো যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পরিলক্ষিত হয় না।
বিজ্ঞাপন
এ খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব শর্ত বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহকারীর নির্দিষ্ট পণ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব অস্বাভাবিক শর্তের কারণে অধিকাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যার ফলে একচেটিয়া ভাবে একক কোন ব্যাক্তি বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক উৎপাদন ডা. মো. মাহাফুজুর রহমান বলেন, টেন্ডার ডকুমেন্টসে পিপিআর-২০২৫ এর শর্তাবলীর পরিপন্থি কোন শর্ত সংযুক্ত না করার জন্য সারাদেশের সকল খামারে পত্র দিয়েছি।
সূত্র জানায়, কর্মকর্তা ও সরবরাহকারীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিণ্ডিকেট বিশেষ শর্ত দিয়ে অবৈধ পথে দরপত্রের কার্যাদেশ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি চক্র। চক্রটি অসৎ উপায়ে হাতিয়ে নিতে চাই কোটি কোটি টাকা মূল্যের গো-খাদ্য সরবরাহের কাজ। এ দরপত্র বাস্তবায়ন হলে সরকারের পিপিআর নীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিজ্ঞাপন
পিপিআর-২০০৬ ও ২০২৫ এর বিধি অনুযায়ী কারিগরি বিনির্দেশ এমনভাবে প্রস্তুত করিতে হইবে যেন উহা অসীমাবদ্ধকর, পক্ষপাতহীন এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণে সহায়ক হওয়ার বিধান থাকলেও তা যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। বগুড়া, ফরিদপুর ও বরিশাল দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারে আহবানকৃত দরপত্রে বিশেষ শর্ত নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা কররা সামিল। অযৌক্তিক শর্তের কারণে দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রতিযোগিতা কমে যাবে এবং সরকার অধিক মূল্যে খাদ্য উপকরণ ক্রয়ে বাধ্য হতে পারে, যা সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ও কার্যকর ব্যবহারের পরিপন্থী।
যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক, উৎপাদন-এর কার্যালয় থেকে গত ২২ জুন অসংগতিপূর্ণ শর্তের কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া বিলম্ব হলে, সংশ্লিষ্ট খামার প্রধানদের দায়ী করে পত্র জারি করেছে। পত্রে বলা হয়েছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরাধীন অনেক খামারের টেন্ডার ডকুমেন্টস (টিডিএস)-এ পিপিআর-২০২৫ এ প্রকিউরিং এন্টিটি (পিই) (খামার প্রধান) কর্তৃক চাহিত শর্তাবলীর সাথে অতিরিক্ত কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে (যেমন- ঠিকাদারের সম্পদের বিবরণী প্রদান) যা পিপিআর ২০২৫ এর বিধি ৪(৫) এর পরিপন্থি। এমতাবস্থায়, যে সকল খামারের টেন্ডার প্রক্রিয়া লাইভে রয়েছে, সে সকল খামারের টেন্ডার ডকুমেন্টস (টিডিএস)-এ অসংগতিপূর্ণ শর্তসমূহ সংশোধন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। অসংগতিপূর্ণ শর্তের কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া বিলম্ব হলে, সংশ্লিষ্ট খামার প্রধান দায়ী থাকবেন।
বাংলাদেশে গবাদি পশুর ঔষধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে রেনাটা লিমিটেড, এসিআই ল্যাবরেটরিজ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএসসি, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএসসি, একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড। এদের মধ্যে রেনাটা লিমিটেডের সরবরাহকৃত ভিটামিন-এ রেনাসল এডি৩ই মাত্রা ৫০ লাখ আইইউ/কেজি,
বিজ্ঞাপন
একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সরবরাহকৃত ভিটামিন-এ ভিটা এডিই যার মাত্রা ৮০ হাজার আইইউ/কেজি, এসিআই ল্যাবরেটরিজের সরবরাহকৃত ভিটামিন-এ একটিভিট এডিই'র মাত্রা ৫০ লাখ, স্কয়ার কোম্পানির সরবরাহকৃত ইএস-এডিই ভিটামিনের মাত্রা ১ লাখ আইইউ/কেজি।
এ প্রসঙ্গে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেট করে সব নিয়ন্ত্রণ করতো। আমরা সেটা ভাঙ্গার চেষ্টা করছি। টেন্ডার যাতে অংশগ্রহণমূলক হয় সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি। টেন্ডার প্রতিযোগিতামূলক করতে শর্ত শিথিল করার কথা বলেছি।’








