বাংলাদেশের পাশে সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক, বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক

আইসিসির সর্বশেষ বৈঠকে ভারতের মাটিতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠকের পর বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারত গিয়ে বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
সবশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন না এলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। আইসিসির সদস্য দেশগুলোর ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র সমর্থন দিয়েছে পাকিস্তান। মোট ১৫টি দেশের মধ্যে বাকি ১৩ দেশই ভারতের ভেন্যুতে বিশ্বকাপ আয়োজন ও বাংলাদেশের অংশগ্রহণের পক্ষে ভোট দেয়।
বাংলাদেশের সামনে আপাতত একমাত্র বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকলেও, সেটি বাস্তবায়িত না হলে বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ।
বিজ্ঞাপন
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রশিদ লতিফ লেখেন, ‘ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নেই—এই যুক্তিতে বিসিবি বিশ্বকাপে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সীমিত শক্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তাদের ঐতিহ্য ও আত্মমর্যাদা ধরে রেখে আইসিসিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কি একই সাহসী অবস্থান নিতে পারবে?’
এ বিষয়ে তিনি ‘কট বিহাইন্ড’ নামের একটি ইউটিউব অনুষ্ঠানেও কথা বলেন। সেখানে পিসিবির প্রতি আহ্বান জানিয়ে রশিদ লতিফ বলেন, ‘এই মুহূর্তে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপ করা উচিত। পাকিস্তান যদি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে পুরো টুর্নামেন্টই সংকটে পড়বে। বাংলাদেশ যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তারা সেটিতে অটল থাকে—এটা তারা বারবার প্রমাণ করেছে। আইসিসি, বিজেপি বা বিসিসিআই যা-ই বলুক, বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে ভারতের মাটি তাদের জন্য নিরাপদ নয়।’
বিজ্ঞাপন
বর্তমান জটিল পরিস্থিতিকে ক্রিকেটবিশ্বে শক্ত অবস্থান নেওয়ার উপযুক্ত সময় বলেও মনে করেন সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষ্য, ‘এই মুহূর্তে ট্রাম্পকার্ড পাকিস্তানের হাতে। বাংলাদেশের অবস্থান সম্পূর্ণ যৌক্তিক। পাকিস্তান এরচেয়ে ভালো সুযোগ পাবে না। পাকিস্তান না খেললে বিশ্বকাপ কার্যত থমকে যাবে। যদিও ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা বা জরিমানার ঝুঁকি থাকতে পারে, তবে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—আপনি কাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, সেটি স্পষ্ট করার।’
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক নোমান নিয়াজ আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গ তুললে রশিদ লতিফ বলেন, ‘বড় সিদ্ধান্ত নিতে গেলে আইসিসির অনুদানের কথা ভুলতে হয়। বাংলাদেশ সেটা করে দেখিয়েছে। ২১ বছর নিষিদ্ধ থাকার পরও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে যায়নি।’








