বাংলাদেশ নিয়ে আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে পারে জয়ের আইসিসি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছ থেকে। আইসিসি বোর্ডের আগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নতুন করে আবেদন করলেও, সেটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না—তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিসিবি আবেদন করেছে সংস্থাটির ডিসপুট রেজোলিউশন কমিটির (ডিআরসি) কাছে। তবে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার এখতিয়ার এই কমিটির নেই। ফলে বিসিবির এই আবেদনের বাস্তব ফল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী হলেও ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার অবস্থানেই অনড় বিসিবি। বোর্ডের সিদ্ধান্ত জানার পরও তারা আইসিসিকে চিঠি দিয়ে নিরপেক্ষ কমিটির কাছে বিষয়টি পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তবে আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এই ধরনের আবেদন কোনও সাব-কমিটির আওতার মধ্যে পড়ে না।
বিজ্ঞাপন
ডিআরসির শর্তাবলীর ১.৩ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে—আইসিসির বোর্ড বা সংস্থার কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে এই কমিটি কাজ করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা আপিল ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারে না। ফলে ইংল্যান্ডের মাইকেল বেলের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে নতুন করে শুনানির সম্ভাবনা কার্যত নেই।
আইসিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিসিবি চাইলে ডিআরসির কাছে তাদের উদ্বেগ জানাতে পারে, তবে বোর্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা ওই কমিটির নেই। সে কারণেই বিসিবির আবেদনকে আইসিসি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক আপিল হিসেবে দেখছে না।
তা হলে এই পথে গেল কেন বিসিবি? সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, আইসিসির ভেতরে আপত্তি জানানোর এটিই ছিল বাংলাদেশের সামনে খোলা একমাত্র আনুষ্ঠানিক পথ। একই সঙ্গে বিসিবি বিকল্প পথ হিসেবেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
বিজ্ঞাপন
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডিআরসির রায় বিপক্ষে গেলে সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসের দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তাও রয়েছে।
এরই মধ্যে আইসিসি বোর্ডের ভোটাভুটিতে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পরও বিসিবির অনড় অবস্থান আইসিসি সভাপতি জয় শাহকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানা গেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ উপলক্ষে নামিবিয়ায় থাকাকালীন সেখান থেকেই বোর্ড বৈঠকে অংশ নেন তিনি। দুবাই ফিরে এসে আইসিসির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় নিজের অসন্তোষ স্পষ্ট করেছেন বলেও খবর রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আইসিসি সূত্র জানায়, জয় শাহ নতুন করে আর কোনও আলোচনা চান না। ফলে শনিবারই বাংলাদেশের পরিবর্তে বিকল্প দল চূড়ান্ত করে ঘোষণা দিতে পারে আইসিসি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বোর্ড বৈঠকের পর স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আইসিসির এক কর্মকর্তা জানান, বোর্ড সদস্যদের বড় অংশ বিসিবির ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে আইসিসির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের আগেই সংবাদ সম্মেলন করা এবং সেখানে এমন ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়া, যিনি আইসিসির কাছে গ্রহণযোগ্য নন—এ বিষয়টি নেতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে ডিআরসির দ্বারস্থ হয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সেই নজিরও বাংলাদেশের আবেদনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সব মিলিয়ে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য কোন দিকে যাচ্ছে—সে বিষয়ে আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আনন্দবাজার








