বিশ্বকাপ বয়কট করলে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দেশটির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার আইসিসির সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেয় পিসিবি, আর তাতেই কঠোর অবস্থান নেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
বিজ্ঞাপন
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে আইসিসি। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাতিল, পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে বাধা এবং এমনকি এশিয়া কাপ থেকেও বাদ দেওয়ার মতো কঠিন পদক্ষেপ।
এর আগে শনিবার আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড অংশ নেবে। সংস্থাটির দাবি, ভারতে বাংলাদেশ দল, কর্মকর্তা কিংবা সমর্থকদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। ফলে ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার যে দাবি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) করেছিল, তা গ্রহণযোগ্য হয়নি।
বিজ্ঞাপন
আইসিসির ভাষ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের নির্ধারিত সূচি পরিবর্তন করলে ইভেন্টের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও কাঠামোগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই প্রকাশিত সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিসিবি ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এদিকে আইসিসির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পিসিবির সভাপতি মহসিন নাকভি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং একই ধরনের পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং তাদের এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাইরে রাখা অনুচিত।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে নাকভি আরও জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান সরকার। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরই এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করা হবে বলে জানান তিনি। পিসিবি সভাপতি বলেন, “আমাদের কাছে একাধিক বিকল্প রয়েছে। সরকার যে নির্দেশনা দেবে, আমরা সেটাই অনুসরণ করব। অন্য কোনো দেশ বা সংস্থা আমাদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।”
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আইসিসি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।








