আকাশচুম্বী খরচে বিশ্বকাপ এখন ‘বিলাসী’ টুর্নামেন্ট, বিপাকে দর্শক

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বৈশ্বিক উন্মাদনা, কিন্তু ২০২৬ সালের আসর ঘিরে সেই উন্মাদনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যয়ের চাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে সরাসরি মাঠে বসে খেলা দেখা যেন সাধারণ সমর্থকদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
বিজ্ঞাপন
আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। তবে খেলা উপভোগের আগেই সমর্থকদের ভাবতে হচ্ছে টিকিট, যাতায়াত, পার্কিং এমনকি ভিসা সংক্রান্ত খরচ নিয়েও। সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টকে অনেকেই ‘বিলাসবহুল’ ইভেন্ট হিসেবে দেখছেন।
বিশেষ করে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফাইনালের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের দাম বাড়িয়ে ১০,৯৯০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮,৬৮০ ডলার।
বিজ্ঞাপন
একইভাবে অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ক্যাটাগরি-২ টিকিট এখন ৭,৩৮০ ডলার এবং ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫,৭৮৫ ডলার। ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচটি।
শুধু টিকিট নয়, পার্কিং খরচও সমর্থকদের জন্য বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে একটি গাড়ি পার্কিং করতে খরচ শুরু হবে ৩০০ ডলার থেকে, যা অনেক ম্যাচের টিকিটের চেয়েও বেশি। গড়ে পার্কিং খরচ ধরা হচ্ছে প্রায় ১৭৫ ডলার, যদিও কিছু ক্ষেত্রে এটি ২৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। হিউস্টনে বড় গাড়ির জন্য এই ব্যয় ৭০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্বস্তি নেই। যেসব শহরে ট্রেন বা বাস পরিষেবা রয়েছে, সেখানেও ভাড়া বেড়েছে কয়েকগুণ। উদাহরণ হিসেবে, বোস্টন থেকে জিলেট স্টেডিয়াম পর্যন্ত ২৭ মাইল ট্রেন ভ্রমণে এখন গুনতে হচ্ছে ৭৫ ডলার, যেখানে সাধারণ সময়ে এই ভাড়া ছিল মাত্র ২০ ডলার। আগের বিশ্বকাপ বা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বিনামূল্যে গণপরিবহন সুবিধাও থাকছে না এবার।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, কিছু দেশের দর্শকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে ভিসা পেতে ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দেওয়ার শর্তও থাকতে পারে। এতে আলজেরিয়া, সেনেগাল ও আইভরিকোস্টসহ বেশ কয়েকটি দেশের সমর্থকরা অতিরিক্ত আর্থিক চাপে পড়তে পারেন।
সব মিলিয়ে, টিকিট, যাতায়াত, পার্কিং এবং ভিসা সংক্রান্ত খরচের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে, সাম্প্রতিক অন্যান্য বড় ক্রীড়া আসরের টিকিটমূল্য এর চেয়ে অনেক কম ছিল—যেমন ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক, উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল।
বিজ্ঞাপন
ফলে প্রশ্ন উঠছে, ফুটবল বিশ্বকাপ কি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের খেলা থেকে সরে গিয়ে কেবল উচ্চবিত্তদের বিনোদনে পরিণত হচ্ছে? বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।








