আর্জেন্টিনা বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল: স্পিকার

বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আর্জেন্টিনা সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আসন্ন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের সাফল্যও কামনা করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে যশোরের হামিদপুরে শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি আয়োজিত ‘এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে ও ওয়ার্ল্ড ফুটবল ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোস বক্তব্য দিতে উঠলে দর্শকদের করতালিই প্রমাণ করে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা কতটা জনপ্রিয়। দেশের ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনার প্রতি আলাদা আবেগ পোষণ করেন।
বিজ্ঞাপন
ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও মন্তব্য করেন স্পিকার। তার ভাষ্য, গত দুই দশকে দেশের খেলাধুলার অঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে। আগে যারা খেলাধুলাকে ভালোবেসে কাজ করতেন, এখন সেখানে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে আসছেন। এতে প্রকৃত ক্রীড়ামোদীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার পরিবেশ উন্নত করতে হলে ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় গড়ে তুলতে নিবেদিতপ্রাণ ক্রীড়া সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের প্রায় ৮০০ ক্ষুদে ফুটবলারের অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো একাডেমি প্রাঙ্গণ। ছোট শিশুদের ফুটবল চর্চা দেখে নিজের তরুণ বয়সের স্মৃতিও মনে পড়ে যায় বলে জানান স্পিকার।
বিজ্ঞাপন
তিনি যশোরের সঙ্গে নিজের পুরোনো সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কর্মজীবনের শুরুতেও সেখানে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-এর সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তিনি জানান, দেশের গ্রাসরুট ফুটবল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের জন্য আর্জেন্টিনা থেকে কোচ আনার চিন্তাভাবনাও চলছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, যারা ভালো পারফর্ম করবে তাদের ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনায় প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোস একাডেমির পরিবেশ ও শিশুদের অংশগ্রহণ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকেও আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার উঠে আসবে।
আয়োজকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।








