ইতালি-ব্রাজিলের পর টানা ২য় বিশ্বকাপ জিততে পারবে কি মেসির দল?

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হাত ধরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পুনরুদ্ধার করা দলটি এখন তাকিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার দিকে। ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখতে পারলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।
বিজ্ঞাপন
এর আগে সর্বশেষ এই কীর্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল ফ্রান্স। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের পর কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল ফরাসিরা। তবে নাটকীয় ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শিরোপা পুনরুদ্ধার করে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কি পারবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে?
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনাকে এবার ভিন্নভাবে দেখবে প্রতিপক্ষরা—এমনটাই মনে করেন দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে চাপের মধ্যেও আত্মবিশ্বাসী তিনি।
বিজ্ঞাপন
স্কালোনি বলেন, দল এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। তার মতে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় অন্য দলগুলো আর্জেন্টিনাকে বাড়তি গুরুত্ব দেবে, তবে ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব। তাই মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরাটা ধরে রাখা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দেশ টানা দুইবার শিরোপা জিততে পেরেছে। প্রথম দলটি ছিল ইতালি। ১৯৩৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৩৮ সালেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শিরোপা ধরে রাখে আজ্জুরিরা।
বিজ্ঞাপন
কিংবদন্তি কোচ ভিট্টোরিও পোজোর অধীনে সে সময় ইতালি ছিল অপ্রতিরোধ্য। ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত ছিল দলটি। একই সময়ে ১৯৩৬ অলিম্পিকেও স্বর্ণপদক জিতে নেয় তারা।
১৯৩৮ বিশ্বকাপে নরওয়ে, স্বাগতিক ফ্রান্স ও ব্রাজিলকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ইতালি। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে তারা। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৫০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় ইতালি, ফলে টানা তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।

পরপর দুই বিশ্বকাপ জয়ের দ্বিতীয় দেশ ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় সেলেসাওরা। ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দেয় দলটি।
বিজ্ঞাপন
এর চার বছর পর ১৯৬২ সালে চিলি বিশ্বকাপেও শিরোপা ধরে রাখে ব্রাজিল। যদিও গ্রুপপর্বেই চোটে পড়ে ছিটকে যান পেলে, তবুও গারিঞ্চা, ভাভা ও আমারিলদোদের দারুণ পারফরম্যান্সে ফাইনালে পৌঁছে যায় দলটি। সেখানে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ে ব্রাজিল।
এবার সেই একই ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসিকে ঘিরে গড়া দলটি ২০২৬ বিশ্বকাপেও অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ইতালি ও ব্রাজিলের পাশে নিজেদের নাম লিখিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে কি না আর্জেন্টিনা।








