গোলাপি বলসহ ক্রিকেটের একাধিক নিয়মে পরিবর্তন আনল আইসিসি

টেস্ট ক্রিকেটে আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ওভার নষ্ট হওয়ার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই বড় একটি সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই সমস্যার সমাধানে নতুন একটি নিয়মের অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টেস্ট ম্যাচ চলাকালে আলোর স্বল্পতা দেখা দিলে ফ্লাডলাইটের আলোয় খেলা চালিয়ে নিতে লাল বলের পরিবর্তে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল রবিবার (৩১ মে) আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভায় ক্রিকেট কমিটির একাধিক সুপারিশের পর এই পরীক্ষামূলক নিয়মের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ম্যাচ চলাকালীন এই বল পরিবর্তনের জন্য খেলা শুরু হওয়ার আগেই উভয় দলের সম্মতি থাকতে হবে। ইতোপূর্বে গোলাপি বল কেবল দিবা-রাত্রির (ডে-নাইট) টেস্টেই সীমাবদ্ধ ছিল। টেস্টকে আরও আকর্ষণীয় ও সময় সাশ্রয়ী করতে মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) সাথে যৌথ অর্থায়নে ফ্লাডলাইটের প্রযুক্তি নিয়ে আরও গবেষণা করার কথাও জানিয়েছে আইসিসি।
আইসিসি তাদের ক্রিকেটীয় নিয়মে আরও একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নির্ধারিত ড্রিংকস বিরতির সময় প্রধান কোচ কিংবা দলের মনোনীত স্টাফরা মাঠের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন এবং খেলোয়াড়দের কৌশলগত পরামর্শ দিতে পারবেন। এতদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেবল দ্বাদশ ব্যক্তি পানি নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় চিরকুট বা বার্তা বয়ে নিয়ে যেতে পারতেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউটের আদলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই ইনিংসের মধ্যবর্তী বিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ মিনিট। বিরতি শেষে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাটারদের ক্রিজে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এ ছাড়া ব্যাটাররা ক্রিজে অবস্থান পরিবর্তন করলে বা নড়াচড়া করলে আম্পায়ারদের আরও নির্ভুলভাবে ওয়াইড বলের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তার জন্য গাইড লাইন ব্যবহারের নিয়ম স্থায়ী করা হয়েছে। বিশেষ করে লেগ সাইডে বোলারদের কিছুটা সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৫ সাল থেকে এই নিয়ম পরীক্ষামূলকভাবে চালু ছিল।
বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট পরিচালনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কোনো বোলারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে মাঠের আম্পায়ার বা ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে এখন থেকে হক-আই প্রযুক্তির তথ্য সরবরাহ করা হবে।
আইসিসি মনে করছে, এই প্রযুক্তিগত সহায়তার ফলে আম্পায়াররা কোনো বোলারকে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে আরও নির্ভুল ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে ক্রিকেটের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কমিয়ে খেলাটিকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।








