Logo

নিজেদের মাটিতে কি বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্টের দেখা পাবে কানাডা?

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১২ জুন, ২০২৬, ১৬:২৭
নিজেদের মাটিতে কি বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্টের দেখা পাবে কানাডা?
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে দুটি আসরে অংশ নিয়েছে কানাডা। ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের সেই দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মোট ছয়টি ম্যাচ খেললেও একটিতেও জয় কিংবা ড্র করতে পারেনি তারা। ফলে কোনো পয়েন্টও অর্জন করা হয়নি উত্তর আমেরিকার দলটির। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হারতে হয়েছিল কানাডাকে। তবে সেই ম্যাচেই আলফোনসো ডেভিসের গোলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গোলের স্বাদ পায় দলটি।

বিজ্ঞাপন

এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক হিসেবে ঘরের মাঠে খেলতে নামছে কানাডা। টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। একই গ্রুপে রয়েছে কাতার ও সুইজারল্যান্ডও। তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ এই গ্রুপে কানাডার সামনে রয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট অর্জন এবং প্রথম জয় তুলে নেওয়ার বাস্তব সুযোগ।

প্রায় চার বছর আগের কানাডার চেয়ে এই দল বেশ অভিজ্ঞ। ইতোমধ্যে উজবেকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা, ১-১ গোলে ড্র করেছে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে। দুটি প্রীতি ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে তারা। ঘরের মাঠে নিজেদের দর্শকদের সামনে উৎসবের অপেক্ষায় কানাডা।

বিজ্ঞাপন

ড্রয়ের দিন শেষে কানাডার ধারণা ছিল, ইতালির সঙ্গে গ্রুপে পড়বে তারা। কিন্তু প্লে অফে আজ্জুরিদের হারিয়ে তাদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দেয় বসনিয়া। তাদের প্রাক বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ততটা ভালো হয়নি। নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য এবং পানামার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে।

২০১৪ সালে শেষবার বিশ্বকাপ খেলা স্কোয়াডের দুজন বসনিয়ান খেলোয়াড় এবার আছেন। ৪০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার এডিন জেকো ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সিড কোলাসিনাচ। এছাড়া পুরো দলটিই তরুণ। আর এই মঞ্চে আসার আগে বেশ কয়েকটি অঘটন ঘটিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ সময় রাত একটায় মুখোমুখি হবে কানাডা ও বসনিয়া।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের আগে কানাডার জন্য সবচেয়ে বড় খবর হলো, ফ্রান্সের নিস ক্লাবের হয়ে খেলা সেন্টার-ব্যাক মোইসে বোম্বিতো ফিট না থাকায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। এটা তাদের জন্য একটা বড় ধাক্কা, কারণ বোম্বিতো সম্ভবত তাদের সেরা ডিফেন্ডার। স্কোয়াডে নাম আসার পর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মার্সেলো ফ্লোরেসের অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে, যা আরেকটি বড় ধাক্কা। তাই, মার্শের উচ্চ-পর্যায়ের খেলার ধরনে আলফোনসো ডেভিস, জোনাথন ডেভিড ও তাহন বুকাননের মতো খেলোয়াড়দের ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে।

অন্যদিকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাও চোট সমস্যার বাইরে থাকতে পারেনি। বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত মূল স্কোয়াড থেকে রিজার্ভ গোলরক্ষক ওসমান হাদজিকিচকে ইনজুরির কারণে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। তার পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন ম্লাদেন ইয়ুরকাস। ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দলটির বর্তমান স্কোয়াডে খুব বেশি পরিবর্তন নেই। অভিজ্ঞতার বড় ভরসা হয়ে আছেন এডিন জেকো। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী বিশ্বকাপ খেলোয়াড়দের বিশেষ তালিকায় থাকা এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই মূলত দলটির পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অভিজ্ঞতা নাকি স্বাগতিকদের উদ্দীপনা—কোনটি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD