Logo

দাদির জন্য বিশ্বকাপ জিততে চাই বলেই কেঁদে দিলেন ভিনিসিয়ুস

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
২৯ জুন, ২০২৬, ১২:০২
দাদির জন্য বিশ্বকাপ জিততে চাই বলেই কেঁদে দিলেন ভিনিসিয়ুস
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিন ম্যাচে চার গোল করে তিনি যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আছেন। জাপানের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে তিনি জানালেন, জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর একটি হলো দাদির জন্য ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভিনিসিয়ুস তার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও বিশ্বকাপের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচের পর ধারণ করা ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে তার দাদি ডোনা নিলজার পাঠানো একটি বার্তা শোনানো হলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তিনি জানান, ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত দাদির সঙ্গেই বড় হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ভিনিসিয়ুস বলেন, তার বাবা অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। তাই মা, ভাইবোন এবং দাদির সঙ্গেই তার শৈশব কেটেছে। ছোট একটি বাড়িতে থাকার কারণে দীর্ঘ সময় দাদির পাশেই ঘুমিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, দাদি তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একজন। নিজের স্বপ্ন পূরণে পরিবারের সবাই অসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাই আজ দাদিকে হাসিখুশি দেখতে পাওয়াই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

এবারের বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে থাকা ভিনিসিয়ুস তিন ম্যাচে চারটি গোল করেছেন। ২০০২ সালে ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের সময় তিনি ছিলেন শিশু। আগামী ১২ জুলাই তার ২৬তম জন্মদিন, আর তার এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ভিনিসিয়ুস বলেন, তাদের প্রজন্ম দেশের ফুটবলকে আবারও বিশ্বের শীর্ষে ফিরিয়ে আনতে কঠোর পরিশ্রম করছে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা আসতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে দল অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলে আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। পাশাপাশি নেইমার, ক্যাসেমিরো, অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো ও মারকুইনহোসের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা তরুণদের সাহস জোগাচ্ছেন। একই সঙ্গে এনদ্রিক ও রায়ানের মতো নতুন প্রতিভারাও উঠে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই নিয়েও কথা বলেন ভিনিসিয়ুস। তার উদ্যোগে প্রণীত ‘ভিনি জুনিয়র আইন’-এর ফলে মাঠে বর্ণবাদী আচরণ করলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে বহিষ্কারের বিধান রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে প্যারাগুয়ের আলমিরন বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগে লাল কার্ড দেখেন।

ভিনিসিয়ুস বলেন, মাঠের বাইরের এই অর্জনগুলো তার কাছে মাঠের সাফল্যের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে তিনি আরও অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন। তিনি চান, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন বর্ণবাদের শিকার না হয়। বিশেষ করে তার ছোট ভাইসহ বিশ্বের সব কৃষ্ণাঙ্গ শিশু যেন বৈষম্যহীন পরিবেশে বড় হতে পারে— সেটিই তার প্রত্যাশা। পাশাপাশি মাঠে বড় সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে যাদের কণ্ঠস্বর দুর্বল, তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকতে চান তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD