কোয়ার্টার ফাইনালে না উঠলে পরেরবারই বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, এমন হতাশার পরই ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ জয়ের নজির রয়েছে সেলেসাওদের।
বিজ্ঞাপন
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৬৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের চার বছর পর ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। একইভাবে ১৯৯০ সালে শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর ১৯৯৪ সালে আবারও শিরোপা নিজেদের করে নেয় তারা। সেই কারণেই এখন প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬ সালের ব্যর্থতার পর ২০৩০ বিশ্বকাপে কি আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে?
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের দুটি সফল প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি বড় মিল রয়েছে। তা হলো দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সাংগঠনিক দুর্বলতা।
১৯৬৬-এর হতাশা থেকে ১৯৭০-এর সাফল্য
বিজ্ঞাপন
১৯৬৬ বিশ্বকাপে টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশ নিয়েও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। সে সময় দলের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। ৪৬ জন খেলোয়াড়কে চারটি ভিন্ন রঙের জার্সিতে ভাগ করে অনুশীলন করানো হয়, শারীরিক প্রস্তুতির দায়িত্বে ছিলেন একজন জুডো প্রশিক্ষক এবং অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে সমন্বয়েরও ঘাটতি ছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সাংবাদিক ও গবেষক মাউরো বেটিংয়ের মতে, সেটি ছিল ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল বিশ্বকাপ প্রস্তুতি।
বিজ্ঞাপন
তবে এরপর বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। নতুন কোচ, কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় এবং প্রায় ১২০ দিনের পরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমে গড়ে ওঠে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্রাজিল দল। ১৯৬৬ সালের দল থেকে পেলে, জাইরজিনহো, জারসন, তোস্তাও, ব্রিতো ও এদু দলে থাকলেও পরে যোগ দেন কার্লোস আলবার্তো, ক্লোদোয়ালদো ও রিভেলিনোর মতো তারকারা। সেই দলই ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে।
১৯৯০-এর ব্যর্থতা থেকে ১৯৯৪-এর শিরোপা
১৯৯০ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের অস্থিরতাও তখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞাপন
সে সময় খেলোয়াড়দের জানানো হয়েছিল স্পন্সর বোনাসের পরিমাণ ১০ লাখ মার্কিন ডলার। পরে জানা যায় প্রকৃত অঙ্ক ছিল এর দ্বিগুণ। বিষয়টি নিয়ে দলে অসন্তোষ তৈরি হয়। এছাড়া কোচ সেবাস্তিয়াও লাজারোনি ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের কাছেই জানতে চেয়েছিলেন দল তিন ডিফেন্ডার নাকি তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে খেলবে। এটিকে নেতৃত্বের দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছিল।
১৯৯০ ও ১৯৯৪—দুই বিশ্বকাপেই খেলা ফুলব্যাক জর্জিনহোর মতে, সেই ব্যর্থতা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছিল ব্রাজিল।
১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে বোনাস পুরো ডেলিগেশনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু, এজেন্ট কিংবা সাংবাদিক—কাউকেই দলের ক্যাম্পে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। একমাত্র লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ জেতা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এই পরিবর্তনের ফলেই ১৯৯৪ সালে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯০ সালের দলের ১০ জন ফুটবলারই ১৯৯৪ সালের শিরোপাজয়ী দলে জায়গা ধরে রেখেছিলেন।
অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, বড় ব্যর্থতার পরই নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে ব্রাজিল। তাই ২০২৬ সালের হতাশা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারলে ২০৩০ বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নিতে পারে।








