দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্তও লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্তও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে স্পেন। বল দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি ও লক্ষ্যে শট—সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল লা রোহা। অন্যদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো সময়জুড়ে আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি। হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত স্পেন লক্ষ্যে পাঁচটি শট নিতে সক্ষম হলেও আর্জেন্টিনা একটিও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। লামিনে ইয়ামালের ক্রস ডিফ্লেক্ট হয়ে দানি ওলমোর কাছে যায়। তিনি আবার বল ফিরিয়ে দেন ইয়ামালের উদ্দেশে। তবে ইয়ামালের শট লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিহত হয়।
শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে সক্রিয় থাকলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। এক পর্যায়ে মিকেল ওয়ারজাবাল পেদ্রো পোরোর উদ্দেশে বল বাড়ালে তাকে ফাউল করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তবে রেফারি স্লাভকো ভিনসিক সেটিকে ফাউল হিসেবে দেখেননি।
অন্যদিকে সপ্তম মিনিটে দ্রুত পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য গোলের সুযোগ নষ্ট করেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।
বিজ্ঞাপন
প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ। এ সময় লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেস ও হুলিয়ান আলভারেজ—এই তিন ফরোয়ার্ড মিলে মাত্র ১৭ বার বলে স্পর্শ করতে পেরেছিলেন।
স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠজুড়ে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। মাঝমাঠ সামলানোর পাশাপাশি রক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এতে আর্জেন্টিনার ওপর চাপ আরও বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
৩৯তম মিনিটে লাপোর্তে, রদ্রি ও বায়েনার চমৎকার পাস বিনিময়ের পর ফাবিয়ান রুইজ বল বাড়িয়ে দেন ওয়ারজাবালের কাছে। বক্সের কিনারা থেকে নেওয়া তার জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
৪১তম মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর চোটের কারণে মাঠ ছাড়লে তার বদলে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি। একই সময়ে কুকুরেয়ার একটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
প্রথমার্ধ শেষে বল দখলে স্পেন এগিয়ে ছিল ৬৫-৩৫ শতাংশ ব্যবধানে। আর্জেন্টিনার ১৫৫টি সফল পাসের বিপরীতে স্পেন সম্পন্ন করে ৩১৩টি। লক্ষ্যে দুটি শট নেয় স্পেন, আর আর্জেন্টিনা পুরো প্রথমার্ধে কোনো শটই নিতে পারেনি। ফাইনাল থার্ডে স্পেন প্রবেশ করে ৩৫ বার, যেখানে আর্জেন্টিনার সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮।
বিজ্ঞাপন
বিরতির পর কোচ লিওনেল স্কালোনি পরিবর্তন এনে নিকোলাস গঞ্জালেসকে তুলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামান।
দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটেই ওয়ারজাবালের পাস থেকে বায়েনা শট নিলেও তা সহজেই ধরে ফেলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
মাঠে নেমেই পারেদেস রদ্রিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে হলুদ কার্ড দেখেন। এ সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা আপত্তি জানালে কিছু সময় উত্তেজনাও তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
৫৫তম মিনিটে ফাবিয়ানের আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক মুহূর্তে শেষ মুহূর্তের ট্যাকলে দলকে রক্ষা করেন নিকোলাস ওতামেন্দি।
এর পরপরই ওলমোর ব্যাকপাস থেকে কুকুরেয়ার সামনে সুযোগ তৈরি হলেও গঞ্জালো মন্তিয়েল সময়মতো বল ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন। দুই মিনিট পর নাহুয়েল মলিনাকে বদলি হিসেবে মাঠে নামান স্কালোনি।
৬২তম মিনিটে স্পেনও দুটি পরিবর্তন আনে। ফাবিয়ানের পরিবর্তে নামেন পেদ্রি, আর ওয়ারজাবালের জায়গায় মাঠে আসেন ফেরান তোরেস।
বিজ্ঞাপন
এর দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে ওলমোর নেওয়া শট প্রতিহত করেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। রিবাউন্ড হলেও বল মাঠের বাইরে চলে যায়।
এরপর ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ আক্রমণ গড়ে তোলেন ইয়ামাল। আলভারেজ ও ম্যাক অ্যালিস্টারকে কাটিয়ে তার বাড়ানো ক্রসে ফেরান তোরেস নিচু হেড নিলেও বল চলে যায় মার্টিনেজের হাতেই।
দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্তও আর্জেন্টিনা কোনো শট নিতে পারেনি। চলতি বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচের মধ্যে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে একটি দল হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্তও শটহীন থেকেছে।








